২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নিসাঙ্কার বিধ্বংসী সেঞ্চুরি, ম্যাচ টাই, সুপার ওভারে ১ বলে জয় ভারতের

রোমাঞ্চ-উত্তেজনার উতুঙ্গ স্পর্শ করল এশিয়া কাপের নিয়মরক্ষার ম্যাচ।

নিসাঙ্কার বিধ্বংসী সেঞ্চুরি, ম্যাচ টাই, সুপার ওভারে ১ বলে জয় ভারতের
দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেও দলকে জেতাতে পারলেন না পাথুম নিসাঙ্কা (বাঁয়ে)। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Sep 2025, 01:44 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

দুইশ ছাড়ানো রান তাড়ায় খুনে ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি উপহার দিলেন পাথুম নিসাঙ্কা। সম্ভাবনা জাগিয়েও জিততে পারল না শ্রীলঙ্কা, ম্যাচ হলো টাই। এরপর সুপার ওভারেও নাটকীয়তা কম হলো না। সেখানে ভারত শেষ পর্যন্ত জিতল অনায়াসে।

রোমাঞ্চ-উত্তেজনার উতুঙ্গ স্পর্শ করে এশিয়া কাপের নিয়মরক্ষার এই ম্যাচ। ভারতের ২০২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কাও করে তাই। সুপার ওভারে অবশ্য দুই রানের বেশি করতে পারেনি লঙ্কানরা। ভারত জিতে যায় প্রথম বলে তিন রান নিয়ে।  

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই দুই দলের মুখোমুখি সবশেষ দুটি ম্যাচই হলো টাই। কাকতালীয়ভাবে, আগের ম্যাচটিতেও ২০২৪ সালে পাল্লেকেলেতে সুপার ওভারে শ্রীলঙ্কা করেছিল ২ রান আর ভারত জিতেছিল প্রথম বলে!

দুবাইয়ে শুক্রবার আভিশেক শার্মা, তিলাক ভার্মা, সাঞ্জু স্যামসনের ঝড়ো ইনিংস ও আকসার প্যাটেলের ক্যামিওতে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি গড়ে ভারত।

জবাবে দ্বিতীয় উইকেটে নিসাঙ্কা ও কুসাল পেরেরার বিস্ফোরক জুটিতে একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল জয় শ্রীলঙ্কার নাগালে। ৯ উইকেট হাতে রেখে তাদের প্রয়োজন ছিল ৫৪ বলে ৭৩ রান। এরপর কমে যায় রানের গতি।

শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ১২ রান। হার্শিত রানার প্রথম বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সেঞ্চুরিয়ান নিসাঙ্কা। পরের তিন বলে আসে ৫ রান। পঞ্চম বলে চার মারেন দাসুন শানাকা। শেষ বলে চাই ৩। লং অনে খেলে আকসার ফিল্ডিংয়ে গড়বড় করায় দুই রান নিয়ে ম্যাচ টাই করেন সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক।

সুপার ওভারে ব্যাটিংয়ে নামেননি নিসাঙ্কা। আর্শদিপ সিংয়ের প্রথম বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পেরেরা। পরের দুই বলে আসে এক রান, এরপর একটি ওয়াইড। চতুর্থ বলে চরমে উঠে যায় নাটকীয়টা। ব্যাটে খেলতে পারেননি শানাকা। রান নেওয়ার জন্য তিনি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসায় থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন কিপার সাঞ্জু স্যামসন, রান আউট। কিন্তু বোলার আগেই আবেদন করেছিলেন কট বিহাইন্ডের। আম্পায়ার একটু সময় নিয়ে আঙুলও তুলে দেন। 

শানাকা নেন রিভিউ। রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাট স্পর্শ করেনি বল। আম্পায়ার কট বিহাইন্ডের ‘আউট’ দেওয়ায় বল তখনই ‘ডেড’ হয়ে গিয়েছিল, তাই রান আউট আর হিসাবে আসেনি।

সুযোগটা যদিও কাজে লাগাতে পারেননি শানাকা। পরের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ২ উইকেট হারায় এক বল বাকি থাকতেই। পরে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার প্রথম বলে তিন রান নিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ।

দলকে জেতাতে না পারলেও, ৭ চার ও ৬ ছক্কায় ৫৮ বলে ১০৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান নিসাঙ্কা।

ভারতের ফাইনালে খেলা ও শ্রীলঙ্কার বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল এই ম্যাচের আগেই। বোলিং আক্রমণের মূল অস্ত্র জাসপ্রিত বুমরাহ ও অলরাউন্ডার শিভাম দুবেকে বিশ্রাম দেয় ভারত। 

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। একটি চার মেরে দ্বিতীয় ওভারে বিদায় নেন শুবমান গিল। আভিশেক যথারীতি মেলে ধরেন তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী।

পাওয়ার প্লেতে ভারত করে ১ উইকেটে ৭১ রান। ৭ চার ও ২ ছক্কায় আভিশেক ফিফটি করেন স্রেফ ২২ বলে।

বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সুরিয়াকুমার। ফিফটির পর বেশিদূর যেতে পারেননি আভিশেকও। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন বাঁহাতি ওপেনার।

ইনিংসটির পথে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে এক আসরে তিনশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন অভিশেক। ৬ ইনিংসে তার রান এখন ৩০৯। ২০২২ আসরে ৬ ইনিংসে ২৮১ রান করে এখানে চূড়ায় ছিলেন এতদিন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান।

আভিশেকের বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে নেন তিলাক ও স্যামসন। চতুর্থ উইকেটে ৪২ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন দুজন। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২৩ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন স্যামসন।

হার্দিক পান্ডিয়ার দ্রুত বিদায়ের পর দলকে দুইশর ঠিকানায় নিয়ে যান তিলাক (৩৪ বলে ৪৯*) ও আকসার (১৫ বলে ২১*)। ইনিংসের শেষ বলে আকসারের ছক্কায় এবারের এশিয়া কাপে প্রথম দল হিসেবে দুইশ রানের ঠিকানায় পা রাখে ভারত।

বড় রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কার শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম ওভারে পান্ডিয়ার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কুসাল মেন্ডিস। টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেন তিনি। 

সেখান থেকে নিসাঙ্কা ও পেরেরার আগ্রাসী জুটিতে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লেতে আসে ১ উইকেটে ৭২। দুই ব্যাটসম্যানই পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ২৫ সমান বলে। জুটির রান একশ স্পর্শ করে স্রেফ ৫৩ বলে।

১১ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ১ উইকেটে ১৩০। বাকি ৯ ওভারে দরকার ৭৩। কিন্তু ১২ থেকে ১৫, এই চার ওভারে মাত্র দুটি চার মারতে পারে শ্রীলঙ্কা, রান আসে কেবল ৩১।

পেরেরাকে (৩২ বলে ৫৮) স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে ৭০ বলে ১২৭ রানের বিস্ফোরক জুটি ভাঙেন স্পিনার ভারুন চক্রবর্তি। টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি এটি। ২০২২ আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলের ১১৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ছিল আগের সর্বোচ্চ।

শেষ পাঁচ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৪৬ রান। ষোড়শ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে চারিথ আসালাঙ্কার উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভ। ৩ রান করতে ৭ বল খেলেন কামিন্দু মেন্ডিস।

আর্শদিপকে ছক্কায় উড়িয়ে নিসাঙ্কা সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৫২ বলে। শ্রীলঙ্কার চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সংস্করণে সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিনি। এই সংস্করণের এশিয়া কাপে তার আগে তিন অঙ্কের ছোঁয়া পান কেবল ভিরাট কোহলি ও বাবর হায়াত।

৭ বলে দরকার যখন ১৬ রান, ১৯তম ওভারে আর্শদিপের শেষ বলে চার মেরে ব্যবধান কমিয়ে আনেন শানাকা। কিন্তু শেষ ওভারে ১২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারল না তারা ৬ উইকেট হাতে রেখে, আর সুপার ওভারে তো লড়াই জমাতেই পারল না।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবকটি জেতা শ্রীলঙ্কা সুপার ফোরে হেরে যায় প্রথম দুটিতে, এরপর এই টাই ও সুপার ওভারে হার।

আসরের একমাত্র অপরাজিত দল ভারত আগামী রোববার শিরোপা লড়াইয়ে নামবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এই আসরে দুবারের দেখায় দুবারই পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ২০২/৫ (আভিশেক ৬১, গিল ৪, সুরিয়াকুমার ১২, তিলাক ৪৯*, স্যামসন ৩৯, পান্ডিয়া ২, আকসার ২১*; থুসারা ৪-০-৪৩-০, থিকশানা ৪-০-৩৬-১, চামিরা ৪-০-৪০-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-৩৭-১, শানাকা ২-০-২৩-১, আসালাঙ্কা ২-০-১৮-১)

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০২/৫ (নিসাঙ্কা ১০৭, কুসাল মেন্ডিস ০, পেরেরা ৫৮, আসালাঙ্কা ৫, কামিন্দু মেন্ডিস ৩, শানাকা ২২*, লিয়ানাগে ২*; পান্ডিয়া ১-০-৭-১, আর্শদিপ ৪-০-৪৬-১, হার্শিত ৪-০-৫৪-১, আকসার ৩-০-৩২-০, কুলদিপ ৪-০-৩১-১, ভারুন ৪-০-৩১-১)

ফল: ম্যাচ টাই ও সুপার ওভারে জয়ী ভারত

ম্যান অব দা ম্যাচ: পাথুম নিসাঙ্কা