২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রিপল সেঞ্চুরির পথে থাকা মুল্ডারকে ডাকছে ইতিহাস

অবিস্মরণীয় এক কীর্তি থেকে কেবল ৩৬ রান দূরে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।

ট্রিপল সেঞ্চুরির পথে থাকা মুল্ডারকে ডাকছে ইতিহাস
ইতিহাস গড়েছেন ভিয়ান মুল্ডার। ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jul 2025, 12:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:20 PM

একাগাদা রেকর্ড তো এর মধ্যেই করে ফেলেছেন ভিয়ান মুল্ডার। দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক আর ৩৬ রান করলেই পৌঁছে যাবেন এমন ঠিকানায়, টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাসে যেখানে পা পড়েনি আর কারও।

মূল অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার চোটে এই জিম্বাবুয়ে সফরে নেতৃত্ব পেয়েছিলেন কেশাভ মহারাজ। প্রথম টেস্টের পর তিনিও চোট নিয়ে ছিটকে পড়ায় দায়িত্ব পড়ে মুল্ডারের কাঁধে। এই ভার যে বোঝা নয়, বরং প্রেরণা, নেতৃত্বের প্রথম দিনেই তা প্রমাণ করে দেন ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। বুলাওয়ায়ো টেস্টের প্রথম দিনে তিনি অপরাজিত ২৫৯ বলে ২৬৪ রান করে!

টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে আড়াইশ রানও ছিল না আগে কোনো ক্রিকেটারের। মুল্ডারের সামনে হাতছানি সেখানে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনশ করার।

অনেকগুলো রেকর্ডে অবশ্য তার নাম উঠে গেছে প্রথম দিনেই।

চূড়ায় মুল্ডার

৫৭ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংসটি এখন ভিয়ান মুল্ডারের।

১৯৬৮ সালে ভারতের বিপক্ষে ২৩৯ রান করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের গ্রাহাম ডাউলিং।

অধিনায়কত্বের অভিষেকে ডাবল সেঞ্চুরি আছে আর কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারাইন চান্দারপলের (২০৩*)। অস্ট্রেলিয়ার ক্লেম হিল আউট হয়েছিলেন ১৯১ রানে, ইংল্যান্ডের জো রুট ১৯০ রানে।

কার্স্টেনকে ছাড়িয়ে

দক্ষিণ আফ্রিকার বাটসম্যানদের মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি আগে করতে পেরেছিলন কেবল গ্যারি কার্স্টেন। ২০০১ সালে হারারেতে ২২০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। তাকে ছাড়িয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছেন মুল্ডার।

সব দল মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুল্ডারের চেয়ে বড় ইনিংস আছে আর স্রেফ দুটি। কুমার সাঙ্গাকারা ২০০৪ সালে করেছিলেন ২৭০, ম্যাথু হেইডেন ২০০৩ সালে করেছিলেন ৩৮০।

ঝড়ের বেগে

২১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন মুল্ডার। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় দ্রুততম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরিয়ান তিনি। তিন বলের জন্য ছুঁতে পারেননি তিনি রেকর্ডটি। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১১ বলে মাইলফলকটি স্পর্শ করেছিলেন হার্শেল গিবস।

১৫৩ বলে ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড নিউ জিল্যান্ডের ন্যাথান অ্যাস্টলের।

এক দিনেই রানের জোয়ার

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এক দিনে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড মাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন মুল্ডার। ২০০৩ সালে হার্শেল গিবসের ২২৮ ছিল আগের রেকর্ড। 

বিশ্বরেকর্ডে মুল্ডারের ওপরে আছেন কেবল পাঁচজন। এক দিনেই ট্রিপল সেঞ্চুরির একমাত্র কীর্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের (৩০৯)। 

১৯৩০ সালে তার সেই কীর্তির পর ১৯৯৩ সালে কাছাকাছি গিয়েছিলেন আরেক কিংবদন্তি ওয়ালি হ্যামন্ড (২৯৫)। ২০০৯ সালে একই সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন ভিরেন্দার শেবাগ (২৮৪)। 

এছাড়া এক দিনে ২৭৩ করেছেন ডেনিস কম্পটন, ব্র্যাডম্যান আরেক দফায় করেছেন ২৭১।

এক সেশনের সুনামি

চা-বিরতির পর ১৩১ রান করেছেন মুল্ডার। এই সেশনে যা দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

শেষ সেশনে সবচেয়ে বেশি রানের বিশ্বরেকর্ড ইয়ান স্মিথের। নিউ জিল্যান্ডের কিপার-ব্যাটার ১৯৯০ সালে অকল্যান্ডে ১৩৬ বলে ১৭৩ রানের ইনিংসের পথে চা-বিরতির পরের সেশনে করেছিলেন ১৪০। 

ঝড়ো জুটি

লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াসের সঙ্গে মুল্ডারের ২১৭ রানের জুটি এসেছে স্রেফ ১৮৫ বলে। জুটির রান রেট ৭.০২। টেস্ট ইতিহাসে দুইশ ছোঁয়া জুটিতে রান রেট সাতের বেশি এটিই প্রথম।

২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জ্যাক ক্রলি ও জো রুটের ২০৬ রানের জুটির রান রেট ছিল ৬.৯৪।

প্রোটিয়া প্লাবন

প্রথম দিনে ৮৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৪৬৫ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের টেস্ট ইতিহাসে যা এক দিনে সর্বোচ্চ রান।

৪৪৫ রানের আগের রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০৩ সালে কেপ টাউনে।