শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ ছেড়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় কনস্টাস
মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কায় টেস্ট দলের সঙ্গে অনুশীলন করে সন্ধ্যায়ই অস্ট্রেলিয়ার পথে উড়াল দিয়েছেন তরুণ এই ওপেনার, দেশে ফিরে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ খেলবেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার গলে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলনে ছিলেন স্যাম কনস্টাস। বরাবরের মতোই নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন সবটুকু। তবে এই টেস্ট সিরিজে তার শেষ উপস্থিতিও ছিল এ দিনই। সন্ধ্যায়ই দেশের পথে উড়াল দিয়েছেন তরুণ এই ওপেনার। দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগেই তাই অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলের হয়ে তার প্রথম সফর।
গলে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ নিশ্চিতভাবেই জায়গা পাচ্ছেন না কনস্টাস। অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা মনে করছেন, টেস্ট দলের ড্রেসিং রুমে বসে থাকার চেয়ে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ খেললে বেশি ভালো হবে প্রতিভাবান এই ব্যাটসম্যানের জন্য।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টে শনিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রিজবেনে খেলবেন কনস্টাস। মূলত দুটি কারণে তাকে এই ম্যাচে খেলতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। সামনে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে তাকে প্রয়োজন হতে পারে দলের। সেজন্য ম্যাচ অনুশীলনের মধ্যে থাকা জরুরি। আরেকটি ব্যাপার হলো, ছোট্ট প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ব্রিজবেনের গ্যাবায় এখনও খেলার সুযোগ পাননি ১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের চাওয়া, দেশের টেস্ট ভেন্যুগুলোয় খেলার অভিজ্ঞতা থাকুক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের।
সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজের শুরুতে কনস্টাসকে দলে না নিয়ে ন্যাথান ম্যাকসুয়েনিকে নেওয়ার একটি কারণ ছিল এটিও। গ্যাবা ও অ্যাডিলেইড ওভালে খেলার অভিজ্ঞতা নেই কনস্টাসের।
বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজের চতুর্থ টেস্টেই মেলবোর্নে অভিষেক হয় কনস্টাসের। বিনোদনদায়ী ও চমকপ্রদ শটের মহড়ায় ফিফটি করে তিনি সাড়া ফেলেন দেন ক্রিকেট বিশ্বে। ওই সিরিজে দুটি টেস্ট খেললেও চলতি শ্রীলঙ্কা সফরের প্রথম টেস্টে তিনি একাদশে জায়গা পাননি।
২০২৩ সালের ভারত সফরে ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সাফল্য ও দলের জন্য তা কার্যকর হওয়ায় এবার শ্রীলঙ্কাতেও সেই কৌশল বেছে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এবারও তা কাজে লেগে যায়। গলে ওপেন করে ঝড়ো ফিফটিতে দলের বড় রানের ভিত গড়ে দেন হেড। দ্বিতীয় টেস্টেও তিনি ওপেন করবেন। কাজেই কনস্টাসের জায়গা নেই। জরুরি বা কনকাশন বদলির প্রয়োজন হলেও যথেষ্ট বিকল্প আছে স্কোয়াডে। সব মিলিয়ে তরুণ ব্যাটসম্যানকে পাঠিয়ে দেওয়া হচেছ ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে।
এবার উপমহাদেশ সফরে খেলার সুযোগ না পেলেও অস্ট্রেলিয়ার ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডের হয়ে চেন্নাইয়ে ও শ্রীলঙ্কায় আগে ক্যাম্প করে গেছেন কনস্টাস। এই বছর অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরেও স্পিন খেলার দক্ষতা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে তার।
শ্রীলঙ্কায় ওপেন করে হেড ভালো করলেও সেটিকে স্থায়ী সমাধান মনে করছেন না তিনি নিজেই। সদ্যই অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার অ্যালান বোর্ডার মেডেল জয়ী এই তারকার ধারণা, জুনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লর্ডসে তিনি আবার মিডল অর্ডারে নেমে যাবেন, ওপেন করবেন হয়তো কনস্টাসই।
