২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মাত্র কয়েক দিনের জন্য যাচ্ছি, ফিরে টার্ম পূরণ করব : বিসিবি সভাপতি

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে মেলবোর্নে যাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তবে দেশে ফিরে মেয়াদের চার বছর পূর্ণ করবেন বলে জানালেন তিনি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Feb 2026, 06:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:57 PM

“আপনারা তো প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন, বোর্ড পরিচালকরা সবাই বাসায় ফেরে, পরিবারের সঙ্গে থাকেন, আমি তো পরিবারকে দেখতে পাই না…,” ফোনে বললেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দেশের ক্রিকেট আঙিনায় সোমবার দুপুর থেকেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন বোর্ড প্রধান। তিনি নিজেই সেটির সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন, পারিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে যাচ্ছেন । দেশে ফিরে মেয়াদের পূর্ণ করার প্রত্যয়ও শোনালেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক। 

আমিনুলের পরিবার অনেক বছর ধরেই থিতু মেলবোর্নে। আইসিসিতে চাকরি করার সময় তিনি মেলবোর্ন থেকেই ছুটোছুটি করতেন ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্তে। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ঢাকাতেই থাকছেন মূলত।

সোমবার সকালে বিসিবি পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে সভাপতি জানান, জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি মেলবোর্নে যাচ্ছেন এবং ফিরে আসবেন শিগগিরই। তার দেশ ছাড়ার খবর দেশের ক্রিকেটে ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। তিনি একেবারেই বিদায় নিলেন কি না, এমন প্রশ্নও ভেসে বেড়াতে থাকে।

তবে বিকেলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বিসিবি সভাপতি বললেন, স্রেফ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে কিছু দিনের জন্য যাচ্ছেন তিনি। 

“রোজা শুরু হচ্ছে, পরিবারকে দেখি না আড়াই মাস ধরে। দুটো ছেলে আছে আমার, স্ত্রী আছে। একটু বাসায় যাচ্ছি। আমি তো প্রেসিডেন্ট, আমার তো ছুটি নেওয়ার কিছু নেই। আমি সবসময় অনলাইনে থাকি, কাজ করি। এই ব্যাপারটাকে কেন অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে মানুষ, জানি না।”

“যাহোক, আমি আমার বাড়িতে যাচ্ছি কয়েক দিনের জন্য। পরিবারের সঙ্গে থেকে আবার চলে আসব।”

‘অন্য দিকে ঘোরানোর’ ব্যাপারটি ছড়িয়ে পড়েছে মূলত জাতীয় নির্বাচনের পরপরই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন বলে। গত মে মাসের শেষ দিকে চমকপ্রদ পালাবদলে ফারুক আহমেদের জায়গায় বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পান আমিনুল। এরপর অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবেই তিনি দায়িত্ব নেন। তবে সেই নির্বাচন জন্ম দেয় নানা বিতর্ক আর প্রশ্নের। তিনি সভাপতি হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, বেশির ভাগ পরিচালকও বোর্ডে আসেন একইভাবে।

জাতীয় নির্বাচনে জিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিসিবির এই কমিটি টিকবে কি না, সভাপতি হিসেবে আমিনুলকে রাখা হবে কি না, এসব প্রশ্ন জোরালভাবেই ঘুরছে ক্রিকেট মহলে।

তবে আমিনুলও জোর দিয়েই জানালেন, মেয়াদের পুরোটাই থাকবেন তিনি। 

“যেদিকে টার্ন করানোর চেষ্টা করছে মানুষ, এগুলো কিছুই না, জিরো পারসেন্টও নয়। কেন ফিরব না? আমি তো চার বছরের জন্য নির্বাচিত সভাপতি। ইনশাল্লাহ টার্ম পূরণ করব। স্রেফ কয়েকদিনের জন্য যাচ্ছি। আর প্রেসিডেন্টকে ছুটি নিতে হয় নাকি কখনও? আমি অনলাইনে আছি, বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ আছে। মাত্র কয়েক দিনের জন্য যাচ্ছি।”

বিসিবির এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার পুরো সময়টাতেই সেই সময়ের ক্রীড়া উপদেষ্টা প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বারবার। ‘নির্বাচন ফিক্সিংয়ের’ অভিযোগে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। নির্বাচনে ‘সরকারে নগ্ন হস্তক্ষেপ’, নানারকম ‘অনিয়ম ও স্বেচ্ছারিতার’ অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান মোট ২১ প্রার্থী। নির্বাচনের আগেই পরিচালক পদ পাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায় ৯ জনের।

ক্লাব ক্যাটেগরির ১২ পরিচালকের লড়াইয়ে শুরুতে ৩০ জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা নেমে আসে ১৫ জনে। ক্রীড়া উপদেষ্টার সাজানো ছকেই নির্বাচন হয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে বিস্তর। এই বোর্ডকে ‘অবৈধ’ দাবি করে গত ৮ অক্টৈাবর থেকে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে ঢাকার ৪৫টি ক্লাব।