সুরিয়াভানশিকে থামানোর ‘মন্ত্র’ শেখালেন হারভাজান
ভারতীয় বিস্ময়বালকের মুখোমুখি হলে কী করতেন, সেটাও জানিয়েছেন দেশটির স্পিন গ্রেট।
অবিশ্বাস্য, অসাধারণ, বিস্ময়বালক, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, তরুণ সেনসেশন; বৈভাব সুরিয়াভানশির প্রশংসায় এমন অনেক বিশেষণ ব্যবহার করা হয়। কিশোর বয়সেই বিশ্বের সব বোলারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন তিনি। তাকে আটকাতে অনেক দল হয়তো আলাদা পরিকল্পনা সাজায়। আলোচিত এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে কীভাবে থামানো যায়, সেটার একটি পথ দেখিয়েছেন তারই স্বদেশি স্পিন বোলিং গ্রেট হারভাজান সিং।
গত বছর আইপিএল অভিষেকের পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারদের একজন হয়ে উঠেছেন সুরিয়াভানশি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম বলটিই ছক্কা মেরে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে মাঠে একের পর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি দেখিয়ে চলেছেন এই ব্যাটিং বিস্ময়।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী সেঞ্চুরিয়ান সুরিয়াভানশি। ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারও তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বয়সে ফিফটি, আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরিসহ আরও অনেক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই ক্রিকেটার।
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সবশেষ আইপিএলে ১৬ ইনিংসে ৭৭৬ রান করেন সুরিয়াভানশি। এক সেঞ্চুরির পাশাপাশি ফিফটি করেন পাঁচটি। আসরে বেশ কয়েকটি পুরস্কার জেতেন তিনি।
মাত্র এক বছরের একটু বেশি সময়ের মধ্যে এসব অর্জন করেছেন সুরিয়াভানশি। আর এত কিছু করেছেন তিনি এমন বয়সে, যা অনেকের কাছে কল্পনাতীত। তাই ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে নিয়ে তুমুল আলোচনা চলাই স্বাভাবিক।
ভয়ডরহীন ব্যাটিং করা সুরিয়াভানশিকে প্রতিপক্ষের নাম-খ্যাতি বিন্দুমাত্র বিচলিত করে না। জাসপ্রিত বুমরাহ ও প্যাট কামিন্সের মতো বিশ্বের তারকা পেসারদেরও অনায়াসে ছক্কা হাঁকান তিনি। তার প্রভাব এতটাই যে, কাইল জেমিসনের মতো অভিজ্ঞ বোলারও তাকে আউট করার পর বাঁধনহারা উল্লাস করেন।
এমন একজন ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন বোলাররা, কীভাবে সামলাবেন তাকে? পিটিআইকে হারভাজান বললেন, আক্রমণ করাই একমাত্র উপায়।
“বৈভাব সুরিয়াভানশি অসাধারণ। অনন্য এক ক্রিকেটার। তার মতো এমন ক্রিকেটার আগে কখনও দেখিনি, যে ১৪-১৫ বছর বয়সেই বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য করছে।
“বিশ্বের সেরা বোলাররা যখন তাকে বল করছে, তারাও তখন আসলে কোথায় বল করবে, সেটা নিয়ে ভাবছে। এটাই অনেক বড় ব্যাপার। তাকে সামলানোর একমাত্র উপায় হলো আক্রমণ করা। তার ওপর চড়াও হতে হবে এবং তাকে আউট করতে হবে।”
এই কৌশল সবসময় সফল নাও হতে পারে, ভালো করেই জানেন হারভাজান। তবে রক্ষণাত্মক বোলিং করার চেয়ে সুরিয়াভানশিকে আক্রমণ করাই শ্রেয় মনে করেন তিনি।
“এটা সবসময় কাজ নাও করতে পারে। মাঝেমধ্যে হয়তো তুলাধুনা খেতে হবে। সে হয়তো ছক্কা মারবে। তবে এটাও খেলারই অংশ। আপনাকে মেনে নিতেই হবে যে সে দারুণ একজন ব্যাটসম্যান।”
নিজে সুরিয়াভানশির মুখোমুখি হলে কী করতেন, সেটাও বলেছেন হারভাজান।
“সে কী করছে, সেটার ওপর ভিত্তি করে ফিল্ডিং সাজাতাম না। নিজে কী করতে চাই, সেটার ওপর ভিত্তি করে সাজাতাম। যদি শুধু বাঁচার জন্য বল করি, তাহলে তাকে আউট করতে পারব না। তাকে আক্রমণ করতে হবে এবং আউট করতে হবে।
“সফলতা আসতে পারে, নাও আসতে পারে। সময়ের ব্যাপার। আপনাকে মেনে নিতে হবে যে সে ভালো। কিন্তু তারপরও, কীভাবে তাকে আউট করা যায়, পরের বলটি সেভাবেই করতে হবে।”
