রান উৎসবের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সিরিজ ভারতের
সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে তিলাক ভার্মা ও হার্দিক পান্ডিয়ার বিধ্বংসী ইনিংসের পর বোলারদের নৈপুণ্যে জিতল ভারত।
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সুর বেঁধে দিলেন আভিশেক শার্মা ও সাঞ্জু স্যামসন। তিলাক ভার্মা ও হার্দিক পান্ডিয়ার ফিফটি আর বিস্ফোরক জুটিতে ভারত পেল বড় পুঁজি। রান তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুটা ভালো করলেও, শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যের কাছেও যেতে পারল না তারা।
শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩০ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল।
আহমেদাবাদে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুক্রবার ২০ ওভারে স্বাগতিকরা করে ২৩১ রান। জবাবে একাদশ ওভারে ১ উইকেটে ১২০ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে পথ হারিয়ে ৮ উইকেটে ২০১ রানের বেশি করতে পারেনি তারা।
ম্যাচের সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন তিলাক। তার ৪২ বলের ইনিংস গড়া ১০ চার ও এক ছক্কায়। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়ে ৫টি করে চার ও ছক্কায় ২৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন পান্ডিয়া। তাদের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০৫ রান আসে স্রেফ ৪৪ বলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৫ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার কুইন্টন ডিক কক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান করতে পারেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস।
৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার রহস্য স্পিনার ভারুন চক্রবর্তি। তবে ৪৩২ রানের ম্যাচেও, চার ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। ডি ককের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনিই।
খুনে ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার পুরস্কার জেতেন পান্ডিয়া।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় তাড়ায় ডি ককের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ার প্লেতে আসে বিনা উইকেটে ৬৭ রান। যেখানে ডি ককের অবদানই ৪৭। পরের ওভারে আক্রমণে এসে রিজা হেনড্রিকসকে (১২ বলে ১৩) ফিরিয়ে ৬৯ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন ভারুন।
ডি কক ফিফটি করেন ৩০ বলে। ভারুনের পরের ওভারে ঝড় বইয়ে দেন ডি কক ও ব্রেভিস; দুজনই মারেন একটি করে চার ও ছক্কা, ওভারে আসে মোট ২৩ রান। পরের ওভারে পান্ডিয়া দেন ১৯।
১০ ওভারে ১ উইকেটে ১১৮ রানের ভালো অবস্থানে তখন দক্ষিণ আফ্রিকা। একাদশ ওভারে বোলিংয়ে ফিরে বিপজ্জনক ডি কককে নিজের ফিরতি ক্যাচে ফেরান বুমরাহ। পরের ওভারে ব্রেভিসকে বিদায় করেন পান্ডিয়া।
ভারুন একই ওভারে পরপর দুই বলে তুলে নেন এইডেন মার্করাম ও ডনোভান ফেরেইরার উইকেট। ১ উইকেটে ১২০ থেকে দ্রুতই স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৩৫।
সেখান থেকে আর সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি সফরকারীরা। পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে তারা।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। মুখোমুখি প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন আভিশেক। দ্বিতীয় ওভারে তিনি টানা তিনটি চার মারেন মার্কো ইয়ানসেনকে। এই ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকানো স্যামসন চতুর্থ ওভারে মারেন তিনটি বাউন্ডারি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে কর্বিন বশকে ছক্কার পরের বলে ক্যাচ দিয়ে থামেন আভিশেক। ৬ চার ও এক ছক্কায় ২১ বলে ৩৪ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। জুটি থামে ৩৪ বলে ৬৩ রানে।
শুবমান গিলের চোটে সিরিজে প্রথম সুযোগ পাওয়া স্যামসন দলকে একশর কাছে নিয়ে যান তিলাকের সঙ্গে জুটিতে। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ২২ বলে ৩৭ রান করেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। আরেকবার ব্যর্থ হন সুরিয়াকুমার। সিরিজে চার ম্যাচে ভারত অধিনায়কের রান ১২, ৫, ১২ ও ৫।
এরপরই শুরু হয় পান্ডিয়ার তাণ্ডব। প্রথম বলে ছক্কায় শুরু করেন তিনি। চতুর্দশ ওভারে জর্জ লিন্ডার টানা চার বলে দুটি করে চার ও ছক্কা মারেন তিনি। পরের ওভারে বাউন্ডারিতে তিলাক ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে পৌঁছে যান ৩০ বলে।
বশের তিন বলের মধ্যে একটি চার ও দুই ছক্কায় পান্ডিয়া ফিফটি পূর্ণ করেন স্রেফ ১৬ বলে। এই সংস্করণে ভারতের হয়ে তার চেয়ে কম বলে ফিফটি আছে কেবল ইউভরাজ সিংয়ের, ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে।
শেষ ওভারে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পান্ডিয়া। রান আউটে কাটা পড়েন তিলাক। একটি করে চার ও ছক্কায় ৩ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন শিভাম দুবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২৩১/৫ (স্যামসন ৩৭, আভিশেক ৩৪, তিলাক ৭৩, সুরিয়াকুমার ৫, পান্ডিয়া ৬৩, দুবে ১০*, জিতেশ ০*; এনগিডি ৪-০-২৯-০, ইয়ানসেন ৪-০-৫০-০, বার্টমান ৩-০-৩৯-১, বশ ৩-০-৪৪-২, ফেরেইরা ২-০-২০-০, লিন্ডা ৪-০-৪৬-১)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ২০১/৮ (ডি কক ৬৫, হেনড্রিকস ১৩, ব্রেভিস ৩১, মিলার ১৮, মার্করাম ৬, ফেরেইরা ০, লিন্ডা ১৬, ইয়ানসেন ১৪, বশ ১৭*, এনগিডি ৭*; আর্শদিপ ৪-০-৪৭-১, ২, ওয়াশিংটন ৪-০-৩০-০, বুমরাহ ৪-০-১৭-২, ভারুন ৪-০-৫৩-৪, পান্ডিয়া ৩-০-৪১-১, আভিশেক ১-০-১৩-০)
ফল: ভারত ৩০ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজ ভারত ৩-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: হার্দিক পান্ডিয়া
ম্যান অব দা সিরিজ: ভারুন চক্রবর্তি
