যে কারণে মুশফিকের সেঞ্চুরির অপেক্ষা করেনি বাংলাদেশ
শততম টেস্টে দুই ইনিংসেই শতরানের ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল মুশফিকুর রহিমের সামনে, তবে পেশাদার দলগুলির মতোই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় বাংলাদেশ দল।
লাঞ্চের একটু পর যখন আউট হয়ে গেলেন মুমিনুল হক, থমকে গেল মুশফিকুর রহিমের পথচলাও। শততম টেস্টে বড় কীর্তি গড়ার পর আরেকটি ইতিহাসের হাতছানি ছিল তার সামনে। কিন্তু মুমিনুলের আউটের সঙ্গেই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় দল। মুশফিকের সুযোগও শেষ হয়ে যায় সেখানেই। দিনের খেলা শেষে সেটির কারণ ব্যাখ্যা করলেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে শনিবার ৭৯ রান নিয়ে লাঞ্চে গিয়েছিলেন মুমিনুল। বিরতির পর আর ৮ রান যোগ করেই শেষ হয় তার ইনিংস। মুশফিক তখন অপরাজিত ৫৩ রানে।
প্রথম ইনিংসে মুশফিক করেছিলেন ১০৬। শততম টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি ছোঁয়ার কীর্তি টেস্ট ইতিহাসে আগে ছিল শুধুই রিকি পন্টিংয়ের।
অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির আরেকটি রেকর্ড ছোঁয়ার সম্ভাবনা তখন তার সামনে। শততম টেস্টে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি করে থামেননি তিনি, বরং অপরাজিত রয়ে যান সেঞ্চুরি করে। মুশফিক সেই চেষ্টা করতে পারলেন না দল ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়ায়।
দিনের শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা আশরাফুল বললেন, দলের জয়ে চোখ রেখেই পেশাদার ভাবনা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
‘‘যেহেতু আসলে এটা একটা দলগত খেলা, ব্যক্তিগত খেলার চিন্তা প্রাধান্য এখানে থাকে না। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, ব্যক্তিগতভাবে পারফরম্যান্স করলেই দলীয় পারফরম্যান্সটা হয়। কিন্তু এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যে, আমাদের ইতোমধ্যে ৫০০ রান হয়ে গিয়েছে।’’
‘‘আমরা বিশ্বাস করি, আয়ারল্যান্ডের ১০ উইকেট নিতে আমাদের যে ওভারগুলো প্রয়োজন, ওটা এখনও আছে। চাইলে আরও এক ঘণ্টা ব্যাটিং করা যেত, কিন্তু তাতে বিষয়টা ঠিক মানানসই হতো না। স্পিরিট অব ক্রিকেট মাথায় রেখেই ম্যানেজমেন্ট ভেবেছে, মমিনুল যেহেতু কাছাকাছি ছিল (সেঞ্চুরির), তাকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। দুর্ভাগ্য যে সে পারল না। আর সেই কারণেই খেলা আর বাড়ানো হয়নি।’’
আয়ারল্যান্ডকে ৫০৯ রানের লক্ষ্য দিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। আইরিশরা দিন শেষ করে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে।
