২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কষ্ট হবে, তবু রোমাঞ্চ নিয়ে টেস্টে ফেরার অপেক্ষায় তাসকিন

সবশেষ টেস্ট সিরিজে ম্যান অব দা সিরিজ হওয়ার পরও দেড় বছর খেলতে পারেননি, অবশেষে সেই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে অভিজ্ঞ পেসারের।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 May 2026, 08:38 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:32 PM

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উন্মোচনের আয়োজন ছিল সেদিন মিরপুর একাডেমি মাঠে। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সি গায়ে দলের প্রতিনিধি হিসেবে অনেকটা হাঁপাতে হাঁপাতে সেখানে এলেন তাসকিন আহমেদ। পরিচিত সংবাদকর্মীদের দেখে বললেন, “১৩ ওভার বোলিং করে এলাম ভাই… লাল বলে বোলিংয়ের মজাই আলাদা…।”

হ্যাঁ, তাসকিনের হাতে আপাতত লাল বল আর হৃদয়ে রোমাঞ্চের দোলা। দেড় বছরের বিরতি শেষে আবার টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছেন অভিজ্ঞ এই পেসার।

সবশেষ টেস্ট খেলেছেন তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। অসাধারণ বোলিং করেছিলেন ওই সফরে। তবে বিগড়ে বসেছিল তার শরীর। তাই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে হয়েছিল সাময়িকভাবে। 

সেই অধ্যায় শেষে আবার শুরু হচ্ছে সাদা পোশাকে তার নতুন পর্ব। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দলে তাকে রাখা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে তার একাদশে থাকার সম্ভাবনও প্রবল। এই ম্যাচের পর শরীরের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন পরের টেস্ট নিয়ে।

টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স প্রায় সাড়ে ৯ বছর হলেও চোট-জর্জর ক্যারিয়ারে খেলতে পেরেছেন মোটে ১৭ ম্যাচ। আর একটি উইকেট নিয়ে পূর্ণ হবে তার ৫০ উইকেট। তবে সেসব তিনি ভাবছেন না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, অভিজাত সংস্করণে ফেরার আনন্দই এখন তার মনজুড়ে।

“আমি আসলেই অনেক রোমাঞ্চিত। কারণ টেস্ট ক্রিকেটের একটা মজা আছে। সেই মজার একটা টান আছে। সবশেষ টেস্ট সিরিজে ম্যান অব দা সিরিজ ছিলাম। দারুণ বোলিং করেছিলাম। উইকেট পেস বোলিং সহায়ক ছিল। বোলিং করেও তৃপ্তি পেয়েছিলাম। বাংলাদেশেও স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”

“স্পোর্টিং কন্ডিশনে কষ্টও আছে, সুবিধাও আছে। কষ্ট হলো, ব্যাটসম্যান সেট হয়ে গেলে লম্বা ইনিংস খেলে। অনেক ওভার বোলিং করতে হয়। তবে সুবিধা হলো, সেট হওয়ার আগে তো আমার চান্স বেশি। এছাড়াও কিছু না কিছু থাকে উইকেটে (বোলারদের জন্য)। ফ্ল্যাট, ডেড পিচ হলে তো কিছু্‌ই পাওয়া যায় না। একটু মুভমেন্ট, বাউন্স পাওয়া গেলে আমাদের বোলিং আক্রমণের ভালো করার সম্ভাবনা বেশি। আমিও এরকম উইকেটে উপভোগ করি।”

সবশেষ ওই সিরিজে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন, দেশের বাইরে যা বাংলাদেশের কোনো পেসারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। দুই টেস্টে ১১ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা সিরিজও হয়েছিলেন।

অমন বোলিংয়ের পর আর টেস্ট খেলতে না পারার দুঃখ তার আছে। এখন ফেরার দুয়ারে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত বোলিংয়ের সেই আনন্দ ফিরে পাওয়ার আশায়।

“খুব সুখকর নয় অবশ্যই (ছিটকে পড়া)। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুটি টেস্ট খেলেছি। পেসারদের সহায়তা থাকলেও বেশ উইকেটগুলো হার্ড উইকেট ছিল। এতে যেটা হয়েছে, আমার হিলের ইনজুরি সেখান থেকেই শুরু হয়েছে।”

“তার পরও টেস্ট ক্রিকেটের মজাটা অন্যরকম। বিভিন্নরকম পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, কষ্ট হচ্ছে, হাঁপাচ্ছি, শরীর চলছে না, গা ব্যথা, তার পরও সবটুকু দিয়ে পরের ডেলিভারিটি করছি, এটিই ক্রিকেটের সৌন্দর্য, বোলিংয়ের আনন্দ। যত খুশি বোলিং করা যায়। মন ভরে বোলিং করা যায়। কখনও কখনও শরীর সায় দেয় না, তবু মজাটা অনেক। কষ্ট তো হবেই, এবারও হবে। আমার নিগলস (ছোটখাটো চোট-ব্যথা) আগের চেয়ে বেড়েছে আরও। তবে ম্যানেজ করার মতো।”

‘নিগলস’ থাকলেও টেস্ট খেলার জন্য নিজেকে ফিট বলেই মনে করছেন তাসকিন।

“ফিট আছি আমি। তবে নিগলস তো থাকেই একজন পেসারের। এসব মেনে নিয়েই চলতে হবে। আমার বিশ্বাস, ব্যথা যদি না বাড়ে, ম্যানেজ করে টেস্ট খেলে যেতে পারব।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট শুরু আগামী শুক্রবার।