২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লিটন কি এখন বিশ্বের সেরা কিপার

অনেক দিন ধরেই তিন সংস্করণের ক্রিকেটে অসাধারণ কিপিং করে চলেছেন লিটন কুমার দাস।

বিডিনিউজ২৪

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে,

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 May 2026, 09:03 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

এটা লিটনই তো, নাকি? ধন্দে পড়তে পারতেন কেউ কেউ। চোখ কচলে দেখলেও অবশ্য দৃশ্যটা বদলায়নি। সিলেটের মাঠে সত্যিই ডানা মেলে দিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। শোয়েব আখতারের সেই বিখ্যাত উদযাপনের মতোই উড়ছিলেন বাংলাদেশের কিপার। এমনিতে এমন উদযাপন তার খুব একটা দেখা যায় না। সেই লিটন এবার বাবর আজমের ক্যাচ নিয়ে যেন বাঁধনহারা হয়ে গেলেন।

বাবর দারুণ খেলছিলেন, বাংলাদেশের জন্য উইকেটটি জরুরি ছিল। লিটনের উচ্ছ্বাসের একটি কারণ সেটি তো বটেই। তবে অমন আত্মহারা হয়ে ওঠার পেছনে আরেকটি কারণ থাকতে পারে ওই ক্যাচের ধরনও। তাইজুল ইসলামের বলটি ছিল একদমই নির্বিষ, লেগ স্টাম্পের বাইরে অতি সাধারণ ডেলিভারি। সেটিতে ব্যাট ছুঁইয়ে দেন বাবর। উইকেটের পেছনে অসাধারণ দক্ষতায় বল গ্লাভসে জমান লিটন। 

যে কোনো মানদণ্ডেই বিশ্বমানের ক্যাচ এবং যে কোনো কিপারকেই তা তৃপ্তি দেবে দারুণ। 

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের এই ক্যাচ কেবল একটি নমুনা মাত্র। দুর্দান্ত সব ক্যাচ নেওয়া এখন অভ্যাসেই পরিণত করেছেন লিটন। শুধু দারুণ সব ক্যাচ নেওয়া বা স্টাম্পিং করাই নয়, গত দেড়-দুই বছর ধরেই অসাধারণ কিপিং করে চলেছেন তিনি।

ক্যাচ বা স্টাম্পিংগুলো লোকের চোখে পড়ে বেশি। কিন্তু সাধারণভাবেই দিনজুড়ে বা ম্যাচজুড়েই অসাধারণ কিপিং উপহার দিয়ে চলেছেন তিনি। এ দিন সকালের সেশনেই যেমন তাসকিন আহমেদের একটি ডেলিভারি লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছিল। পুরো শরীর শূন্যে ভাসিয়ে দারুণ ক্ষীপ্রতায় তা গ্লাভসবন্দি করে চারটি রান বাঁচান লিটন।

এই ধররেন ‘সেভ’ নিয়মিতই করে চলেছেন তিনি। এমনিতে এসবই কিপারদের কাজ এবং বেশির ভাগ কিপার বেশির ভাগ কিছুই বেশির ভাগ সময় ঠিকঠাক করেন। তবে লিটন এই কাজগুলিই আরও নিখুঁতভাবে করে নিজেকে যেন নতুন উচ্চতায় তুলে নিচ্ছেন নিয়মিতই। কিপারদের ভুল হয় নানা সময়ই, লিটনেরও হয়। তবে তার ভুলের পরিমাণ এখন অনেক কম। 

কিপার হিসেবে অ্যান্টিসিপেশন, রিফ্লেক্স, ফুটওয়ার্ক, সার্বিক টেকনিক, ডাইভিং, ফিল্ডিং সাজানোয় সহায়তা, ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ব্যাটসম্যান বুঝে কৌশল বাতলে দেওয়া ও অধিনায়ককে সহায়তা করা, দলকে উজ্জীবিত করা, দলে প্রাণশক্তি জোগানো, সব মিলিয়ে লিটন এখন অসাধারণ এক কিপার। 

ব্যাটিংয়ের মতো তার কিপিংও স্টাইলিশ ও মসৃণ। বাবর আজমের ওই ক্যাচটির মতোই কঠিন কাজ তিনি সহজ করে ফুটিয়ে তোলেন। এজন্য অনেক সময় বোঝাও যায় না, আসলেই তিনি কতটা দারুণ কিপার।

যেভাবে তিনি কিপিং করে চলেছেন, তাতে প্রশ্নটাও এখন উঠতেই পারে, লিটনই কি এখন বিশ্বের সেরা কিপার?

তিন সংস্করণে নিয়মিত খেলার মতো কিপার এখন বিরল। সেখানে লিটন এমনিতেই এগিয়ে থাকছেন। টেস্ট ক্রিকেটে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি নিঃসন্দেহে অ্যালেক্স কেয়ারি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে টেস্ট ক্রিকেটে এগিয়েও থাকতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার এই কিপার। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে লিটনের চেয়ে ভালো কিপার আপাতত খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিন সংস্করণ মিলিয়েও তাকে সেরা বলে দিলে সায় মিলবে হয়তো অনেকের কাছ থেকেই।

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট জানালেন, কিপিংয়ের জন্য ড্রেসিং রুমে আলাদা প্রশংসাও পেয়েছেন লিটন।

“সে যা করে, উইকেটের পেছনে সে পরিপাটি…বিশেষ করে গত এক মাস ধরে সে দুর্দান্ত খেলছে। ড্রেসিং রুমে আমরা আসলে তার কিপিংয়ের ধরন নিয়ে প্রশংসাও করেছি, কারণ এটা অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। লিটনের কিপিং এই মুহূর্তে সত্যিই বিশ্বমানের।”

‘বিশ্বমানের’ যখন বললেন, তাহলে বিশ্বমানের অন্য কিপারদের মধ্যে লিটনের অবস্থান কোথায়, এই প্রশ্নও করা হলো টেইটকে। বোলিং কোচ একটু মজা করলেন সেটি নিয়ে। পরে বললেন লিটনের ব্যাটিং ফর্মের কথাও। 

“এই মুহূর্তে বলাটা কঠিন, কারণ শুধু আইপিএল চলছে, খুব বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চলছে না। তাই এই মুহূর্তে সে-ই বিশ্বসেরা, কারণ তার মতো আর কেউ নেই। তবে এমনিতেও তাকে শীর্ষ দিকেই রাখতে হবে।”

“সত্যি বলতে, আমার মনে হয়, সে যেভাবে ব্যাটিং করছে… একজন ক্রিকেটার হিসেবেও এই মুহূর্তে সে সম্ভবত নিজের সেরা ফর্মে আছে।”