ইমামকে তীব্র আক্রমণ আকিবের, তদন্তের হুঁশিয়ারি
কাফ মাসলে ‘সামান্য’ টান লাগার কারণে ব্যাট না করায় ইমামকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে, বললেন পিসিবির হাই পারফরম্যান্স পরিচালক ও সাবেক পেসার আকিব জাভেদ।
ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত পাঠানোতেই স্রেফ পার পাচ্ছেন না ইমাম-উল-হক। লর্ডস টেস্টে কোনো ইনিংসেই ব্যাট না করা ব্যাটসম্যানের সমালোচনা করে তীব্র আক্রমণ করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ এবং এই ওপেনারের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
লর্ডস টেস্টের পর ইমামসহ সাতজনকে দেশে ফেরত পাঠানো ও সিরিজের মাঝপথে কোচিং স্টাফে পরিবর্তনের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আকিব।
পাকিস্তানের জিও টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আকিব বলেন, ইমারের ওপর তিনি ‘প্রচন্ড হতাশ’ এবং কাফ মাসলে ‘সামান্য’ টান লাগার কারণে ব্যাট না করায় তাকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।
“ইমামের চোট নিয়ে বড় প্রশ্ন এবং গভীর হতাশা আছে। অতীতে ক্রিকেটাররা চোট পেলেও খেলতেন, প্লাস্টার লাগিয়েও খেলার চেষ্টা করতেন। এটা কীভাবে সম্ভব যে পেশিতে টান লাগার কারণে সে দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেনি? তার চেষ্টা করা এবং লড়াই করা উচিত ছিল।
আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তাকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে। আমি এটা বলতে পারি না যে সে অভিনয় করেছে, কিন্তু পেশিতে ওইরকম টান লাগার কারণে কেউ ব্যাটিং থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে পারে না।”
লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন চা-বিরতির পর আর ফিল্ডিংয়ে দেখা যায়নি ইমামকে। পরদিন খেলা শুরুর কয়েক মিনিট আগে পিসিবি বিবৃতিতে জানায়, এই ব্যাটসম্যান পেশিতে চোট পেয়েছেন এবং টেস্টের বাকি অংশে তার অংশগ্রহণ নির্ভর করবে চিকিৎসকদের মতামতের ওপর।
শেষ পর্যন্ত কোনো ইনিংসেই তিনি ব্যাট করতে পারেননি এবং এজন্য তুমুল সমালোচনার শিকার হতে হয় তাকে। পাকিস্তানে তো ভেতরে-বাইরে অনেকেই তার দিকে আঙুল তোলেন। চতুর্থ দিন সকালে দলের বাকিদের সঙ্গে গা গরম করতে নামেন ইমাম। সে সময় সম্প্রচারে থাকা স্টুয়ার্ট ব্রড এটিকে বলেন “পুরোটাই লোকদেখানো।” সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে তার তীব্র সমালোচনা করেন।
ইমামসহ সাতজনকে দেশে ফেরত পাঠানো, প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়াসহ সিরিজের মাঝপথে ব্যাপক রদবদল নিয়েও গোটা ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তানকে নিয়ে সমালোচনা ও হাসাহাসি চলছে।
সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আকিব বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে বার্তা দেওয়ার জন্য এই কঠোর পদক্ষের জরুরি ছিল। ‘ত্রুটিপূর্ণ’ দল নির্বাচনের জন্যও তিনি টিম ম্যানেজমেন্টকে দায়ী করেন।
“দুটো টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু দল কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি। এখনও একটি টেস্ট বাকি আছে। তাদের (ম্যানেজমেন্টের) হাতে একজন পেস অলরাউন্ডার, একজন দ্বিতীয় উইকেটকিপার এবং উবেইদ শাহের মতো একজন ফাস্ট বোলার ছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছিল না। অধিনায়ক (বাবর আজম) এবং কোচের সঙ্গে কথা বলে আমি বলেছিলাম, উবেইদকে দলে নিতে, কারণ অন্য পেসাররা (মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলি এবং খুররাম শাহজাদ) সবাই প্রায় একই গতির বোলার।
আমাদের প্রথম সাতজন বোলারের মধ্যে কেউই ব্যাটসম্যান নয়। তাই একজন অলরাউন্ডার দলে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল উবেইদ শাহকে নেওয়া, যে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করে। এরকম একজন ফাস্ট বোলার দলের বোলিং আক্রমণের গঠনই বদলে দেয়। ফর্মহীন সালমান আগাকে বাদ দেওয়ার কারণ বুঝতে পারি, কিন্তু (কিপার হিসেবে) রিজওয়ানের পরিবর্তে গাজি ঘোরিকে খেলানো উচিত ছিল। কাউকে না কাউকে ব্যবস্থা নিতেই হতো। সারা বিশ্ব আমাদের নিয়ে হাসছে কারণ আমরা লড়াই করতেই পারছি না। ক্রিকেটারদের আমরা এই বার্তাই দিচ্ছি যে, গুরুত্বপূর্ণ সফরগুলোতে তোমাদের খেলার মান বাড়াতে হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এবং আমরা তোমাদের কাছ থেকে কিছুটা প্রচেষ্টা দেখতে চাই।”
আকিব অন্যদের দিকে আঙুল তুললেও পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে প্রশ্নের পাহাড় জমেছে তাকে নিয়েই। দুই বছর ধরে এই পথে আছেন ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী পেসার। এই সময়ে জেসন গিলেস্পি এবং গ্যারি কার্স্টেনসহ বেশ কয়েকজন কোচ এসেছেন এবং চলে গেছেন। দল নির্বাচন ও হাই-পারফরম্যান্সের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি অল্প সময়ের জন্য কোচিংয়ের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
তিন মাস আগে সারফারাজকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেন যারা, তাদের মধ্যে ছিলেন আকিব নিজেও। এখন মাত্র ছয় টেস্ট পরই তাকে বরখাস্ত করলেনও তিনি। পিসিবির বিভিন্ন পদে থাকা মিসবাহ-উল-হকও পাকিস্তানের স্কোয়াডে এই বড় রদবদলের পর নির্বাচক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তবে আকিব স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মিসবাহর পথ অনুসরণ করে বিদায় নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। তিনি আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন টিম ম্যানেজমেন্টকে।
“কোচ বা অধিনায়ক হিসেবে আমরা যখন দল নির্বাচন করে স্কোয়াড তৈরি করি, তখন সেই স্কোয়াডের দায়িত্ব আমাদের থাকে। কিন্তু তারা সফরে চলে গেলে, ম্যাচ-টু-ম্যাচ কম্বিনেশন নিয়ে আমরা কিছুই করতে পারি না। দলে নেওয়ার সময় এই ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু এত ক্রিকেটার যখন পুরোপুরি ফর্মহীন থাকে এবং দল একেবারেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে না, তখন আমাদের একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সঠিক কম্বিনেশনে খেলানোর জন্য বার্তা পাওয়ার পরেও যখন আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না (সেটাই সমস্যা)। আপনার অধিনায়ক, প্রধান কোচ এবং ম্যানেজমেন্টের কিছু দায়িত্ব থাকে।”
সারফারাজের বদলে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে। তাকে নিয়েও প্রশ্ন অনেকবারই উঠেছে। তবে তার ওপর আপাতত আকিবের আস্থা প্রবল। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, হেসন গিয়েও তৃতীয় টেস্টে রাতারাতি বড় কিছু করতে পারবেন না।
“একজন ব্যক্তি একটি দল চালাতে পারে না। কোচ, অধিনায়ক ও সংশ্লিষ্টরা একযোগে দল চালান। মাইক হেসন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং আমরা তাকে সর্বতোভাবে সমর্থন করার চেষ্টা করব।
দেখা যাক বাবর এবং মাইক একসঙ্গে কেমন কাজ করে। এক ম্যাচে আমাদের ফল পাওয়া কঠিন, কিন্তু মানুষের দেখা উচিত যে আমাদের প্রতিভার কমতি নেই এখনও।”
প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হেরে যাওয়া পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়ে নামবে এজবাস্টনে আগামী বুধবার।
