২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সাইফের ছক্কার স্রোতে আফগানদের ভাসিয়ে বাংলাদেশের তিনে তিন

চোখধাঁধানো ব্যাটিংয়ে সাত ছক্কায় বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন সাইফ হাসান, আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়ল বাংলাদেশ।

সাইফের ছক্কার স্রোতে আফগানদের ভাসিয়ে বাংলাদেশের তিনে তিন
সাতটি ছক্কা মেরেছেন সাইফ হাসাস। ছবি: এসিবি।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Oct 2025, 12:21 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:25 PM

আগের দুই ম্যাচে তবু লড়াই কিছু জমেছিল। বাংলাদেশের নড়বড়ে ব্যাটিংয়ে জেগে উঠেছিল রোমাঞ্চ। এবার তেমন কিছু হতে দিলেন না সাইফ হাসান। এশিয়া কাপ দিয়ে দলে প্রত্যাবর্তনের পর নিজের নতুন যে ছবি তিনি মেলে ধরছেন, সেটিকেই আরও উজ্জ্বল করে ফুটিয়ে তুললেন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। তার ছক্কার পর ছক্কায় চূর্ণ হলো আফগানিস্তানের সব প্রচেষ্টা।

শারজাহতে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ।

৭ ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশের নায়ক সাইফ হাসান। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিপক্ষে দারুণ দুটি ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যান উপহার দিলেন আরেকটি মনে রাখার মতো ইনিংস।

শারজাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যথারীতি বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররাই। প্রথম ম্যাচে ১৫১, পরের ম্যাচে ১৪৭, চার রান কম করার সেই ধারায় এবার আফগানদের ইনিংস শেষ হয় ১৪৩ রানে।

সাইফের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ জিতে যায় ১২ বল বাকি রেখে।

দিনটি ছিল সাইফদেরই। বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা আরেক সাইফ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। 

এই দুই দলের চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশের জয় এখন দুটি, আফগানিস্তানের একটি, আরেকটি ড্র্।

নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস চোটের কারণে খেলতে পারেননি বলেও বাংলাদেশের জয়টি বিশেষ কিছু। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাকের আলির নেতৃত্বের পথচলা শুরু হলো দারুণ সাফল্যে।  

১৪৪ রান তাড়ায় এ দিন বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মন্দ ভালোর মিশেল। প্রথম ২ ওভারে রান আসে কেবল ৩, পরের ২ ওভারে ২১। এরপরই শেষ হয় পারভেজ হোসেন ইমনের অস্থির ইনিংস (১৬ বলে ১৪)।

সাইফ ক্রিজে যাওয়ার পরপরই দেখাতে শুরু করেন হাতের জোর। তার প্রথম চার স্কোরিং শটের তিনটিই ছক্কা।

দুর্দান্ত ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক সাইফ।  ছবি: এসিবি।

দুর্দান্ত ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক সাইফ

তানজিদের শুরু ছিল কিছুটা অস্বস্তিময়। ৭ রানে ক্যাচ দিয়ে রক্ষা পান এক দফায়। সাইফের সঙ্গে গড়ে তোলেন ৫৫ রানের জুটি। তবে আরেকবার জীবন পেয়েও ইনিংসটা বড় হয়নি তার। সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েও পরের বলেই আউট হয়ে যান (৩৩ বলে ৩৩)।

তবে বাংলাদেশকে চাপে পড়তে দেননি সাইফ। তানজিদের বিদায়ের পর চোখধাঁধানো এক শটে বল আছড়ে ফেলেন তিনি স্টেডিয়ামের বাইরে।

মুজিবের স্পেলের শেষ দুটি বলে পরপর বিদায় নেন জাকের আলি (১০) ও শামীম হোসেন (০)। সাইফ তখন বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে রাশিদ খানের শেষ ওভার পার করে দেন মেডেন খেলে। এরপর বাশির আহমেদকে টানা দুটি বিশাল ছক্কায় পঞ্চাশে পৌঁছে যান ৩২ বলে। 

সেখানেই না থেমে আরেকটি ছক্কায় তিনি বল ফেলেন গ্যালারিতে। নুরুল হাসান সোহানের ছক্কায় শেষ হয় ম্যাচ।

ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তান এ দিন ফিরে যায় তাদের আগের উদ্বোধনী জুটিতে। ইনিংস শুরু করেন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। তাতেও ফেরেনি ভালো শুরুর স্বস্তি। 

প্রথম দুই ওভারে ২০ রান তোলার পর পরপর দুই ওভারে বিদায় নেন দুজনই। ইব্রাহিম জাদরানকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুজনের আটবারের লড়াইয়ে এই ব্যাটসম্যানকে ছয়বারই আউট করলেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। 

নাসুম আহমেদের বলে শামীম হোসেনের দুর্দান্ত ক্যাচে কাটা পড়েন গুরবাজ। একটু পর সাইফ উদ্দিনের ফুল টসে বোল্ড হয়ে যান ওয়াফিউল্লাহ তারাখিল।

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে আফগানরা তোলে কেবল ৩৯ রান।

বল হাতে বাংলাদেশের সেরা ছিলেন আরেক সাইফ!  ছবি: এসিবি।

বল হাতে বাংলাদেশের সেরা ছিলেন আরেক সাইফ!

তৃতীয় উইকেটে সেদিকউল্লাহ আটাল ও দারভিশ রাসুলি চেষ্টা করেন দলকে টেনে নেওয়ার। তবে সম্ভাবনাময় এই জুটি থামে ২৫ বলে ৩৪ রানে। সাইফ উদ্দিনের বলে ২৮ রানে উইকেট হারান আটাল।

আফগান ইনিংস এরপর টালমাটাল হয়ে ওঠে আরও। আজমাতউল্লাহ ওমারজাইকে টিকতে দেননি রিশাদ হোসেন, মোহাম্মাদ নাবিকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন নাসুম। 

রাশিদ খান বিপজ্জনক হয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও একটি ছক্কা ও চারের পরই তাকে থামান তানজিম হাসান। পরের বলে যখন আব্দোল্লাহ এহমেদজাই ফিরে যান, আফগানিস্তানের তখন একশ হওয়া নিয়েই শঙ্কা।

৯৮ রানে ৮ উইকেট হারানো দল ১৪০ পেরিয়ে যায় শেষ দুই জুটির লড়াইয়ে। দারভিশ রাসুলি ও মুজিব উর রাহমান নবম উইকেটে যোগ করেন ৩৪ রান।

রাসুলি আউট হন ২৯ বলে ৩২ রান করে। শেষ জুটিতে আসে আরও ১১ রান। ক্যারিয়ার সেরা ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন মুজিব।

মাঝবিরতিতে মনে হচ্ছিল, রানটুকু লড়ার মতোই। কিন্তু সাইফ তা উড়িয়ে দিলেন স্রেফ তুড়ি বাজিয়ে। 

ম্যাচের সেরা তিনিই। সিরিজের সেরা নাসুম আহমেদ।

দুই দল এখন আবু ধাবিতে খেলবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ, যেটি শুরু বুধবার। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (গুরবাজ ১২, ইব্রাহিম ৭, আটাল ২৮, তারাখিল ১১, রাসুলি ৩২, ওমারজাই ৩, নাবি ১, রাশিদ ১২, এহমেদজাই ০, মুজিব ২৩*, বাশির ২*; শরিফুল ৪-০-৩৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-২, তানজিম ৪-০-২৪-২, সাইফ উদ্দিন ৩-০-১৫-৩, সাইফ হাসান ১-০-৬-০, রিশাদ ৪-০-৩৯-১)।

বাংলাদেশ: ১৮ ওভারে ১৪৪/৪ (পারভেজ ১৪, তানজিদ ৩৩, সাইফ ৬৪*, জাকের ১০, শামীম ০, সোহান ১০*; মুজিব ৪-০-২৬-২, ওমারজাই ৩-০-১২-১, বাশির ৩-০-৩৮-০, রাশিদ ৪-১-১৩-০, এহমেদজাই ৪-০-৫০-১) 

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাইফ হাসান।

ম্যান অব দা সিরিজ: নাসুম আহমেদ।