নিসাঙ্কার সেঞ্চুরিতে হোয়াইটওয়াশড জিম্বাবুয়ে
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের পথে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলে অবদান রেখেছেন লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কাও।
আরও একবার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। দুইজনের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে লড়ার মতো পুঁজি গড়ল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু দিনটি যে ছিল পাথুম নিসাঙ্কার। চমৎকার ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি উপহার দিলেন শ্রীলঙ্কার ওপেনার। সঙ্গে চারিথ আসালাঙ্কার ফিফটিতে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করল সফরকারীরা।
হারারেতে দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার জয় ৫ উইকেটে। প্রতিপক্ষের ২৭৭ রান তারা পেরিয়ে যায় ৩ বল বাকি থাকতে। প্রথম ম্যাচে ৭ রানে জিতেছিল লঙ্কানরা।
দলটির রোববারের জয়ের নায়ক নিসাঙ্কা ক্যারিয়ারের সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে করেন ১২২ রান। তার ১৩৬ বলের ইনিংসটি সাজানো ১৬ চারে। ৭ চারে ৭১ রানের ইনিংস খেলা আসালাঙ্কার অবদানও কম নয়।
জিম্বাবুয়েতে গেলেই যেন আলো ছড়ান নিসাঙ্কা। আফ্রিকার দেশটিতে এনিয়ে তিনটি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করলেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের কারান খেলেন ৯ চারে ৭৯ রানের ইনিংস। রাজার ব্যাট থেকে আসে ১ ছক্কা ও ৫টি চারে ৫৯ রান।
ম্যাচের শুরুটা খারাপ ছিল না জিম্বাবুয়ের। ব্রায়ান বেনেট ও কারানের উদ্বোধনী জুটিতে ৫৫ রান পায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দল। দশম ওভারে বেনেটের (২ চারে ২১) স্টাম্প ভেঙে দেন দুশমান্থা চামিরা।
ব্রেন্ডান টেইলরকে নিয়ে দলের রান বাড়ান ছন্দে থাকা কারান। ফেরার ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া অভিজ্ঞ টেইলর এবার করতে পারেন ২০ রান। এই ইনিংসের পথে জিম্বাবুয়ের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি।
দারুণ ব্যাটিংয়ে কারান ফিফটি স্পর্শ করেন ৫৫ বলে। এনিয়ে টানা তিন ওয়ানডেতে পঞ্চাশ ছুঁলেন ইংল্যান্ডের দুই ক্রিকেটার টম ও স্যাম কারানের ভাই। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১১৮ রানের ইনিংস পর লঙ্কানদের সঙ্গে প্রথম ওয়ানডেতে ৭০ রান করেছিলেন তিনি।
সবশেষ ইনিংসের মতো এবারও সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে ফেরেন কারান। জিম্বাবুয়ে ওপেনারের প্রতিরোধ ভাঙেন আসিথা ফার্নান্দো। ওই ওভারের শেষ বলে শন উইলিয়ামসের শিকারও ধরেন লঙ্কান পেসার।
প্রথম ম্যাচে রান তাড়ায় ৯২ রানের ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়েকে জয়ের স্বপ্ন দেখানো রাজা আরেকবার দলকে টানেন। ফিফটি ছুঁয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। তার সঙ্গে ৭৬ রানের জুটি গড়া ক্লাইভ মাডান্ডে করেন ৪টি চারে ৩৬ রান। তাদের নৈপুণ্যে আড়াইশ ছাড়ায় জিম্বাবুয়ের রান।
লক্ষ্য তাড়ায় শ্রীলঙ্কার দুই টপ অর্ডার ভালো করতে পারেননি। প্রায় এক বছর পর দলে ফেরা নুয়ানিদু ফার্নান্দোকে (২ চারে ১৪) বোল্ড করা ব্র্যাড ইভান্স পরে ফিরিয়ে দেন কুসাল মেন্ডিসকে (৫)।
আরেক প্রান্তে নিজের মতো খেলে যান নিসাঙ্কা। রানের চাকায় দম দিয়ে ৫৪ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি। তাকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন সাদিরা সামারাউইক্রামা। দুইজনের জুটিতে আসে ৭৮ রান।
২ চারে ৩১ রান করে সামারাউইক্রামা ফিরলেও নিসাঙ্কা ইনিংস বড় করতে থাকেন। ১১১ বলে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পৌঁছান তিনি। আরেক প্রান্তে আসালাঙ্কা ফিফটি স্পর্শ করেন ৪৩ বলে।
জয় থেকে যখন ৪২ রান দূরে দল, রিচার্ড এনগারাভাকে ছক্কার চেষ্টায় বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন নিসাঙ্কা। শেষ দিকে বিদায় নেন আসালাঙ্কাও। দলকে আনায়াসেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেন জানিথ লিয়ানাগে ও কামিন্দু মেন্ডিসকে।
দুই দলের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু বুধবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৭৭/৭ (বেনেট ২১, কারান ৭৯, টেইলর ২০, উইলিয়ামস ২০, রাজা ৫৯, মুনিয়োঙ্গা ১০, মাডান্ডে ৩৬, ইভান্স ৮, এনগারাভা ২; আসিথা ৯-০-৬৭-২, মাদুশাঙ্কা ১০-০-৫৭-১, চামিরা ১০-০-৫২-৩, থিকশানা ১০-১-৪৫-০, আসালাঙ্কা ৪-০-১৭-০, লিয়ানাগে ৭-০-৩৬-১)
শ্রীলঙ্কা: ৪৯.৩ ওভারে ২৭৮/৫ (নিসাঙ্কা ১২২, নুয়ানিদু ১৪, মেন্ডিস ৫, সামারাউইক্রামা ৩১, আসালাঙ্কা ৭১, লিয়ানাগে ১৯, কামিন্দু ৫; এনগারাভা ৯-০-৫৩-২, মুজারাবানি ৮.৩-০-৫৪-০, ইভান্স ১০-০-৫৪-২, মাসুকু ৫-০-৩২-১, রাজা ৯-০-৪৬-০, উইলিয়ামস ৮-০-৩৫-০)
ফল: শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: পাথুম নিসাঙ্কা
সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশড জিম্বাবুয়ে
