অস্ট্রেলিয়ায় বোলিং দেখে মিরাজকে সিপিএলে নিয়েছে গায়ানা
গায়ানার অধিনায়ক ইমরান তাহির বললেন, বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
জাতীয় দলের সিরিজের জন্য সাত ম্যাচ পর চলে যেতে হবে মোহাম্মাদ নাবিকে। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স তাই বিকল্প খুঁজছিল। অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের নাম উঠে আসে তাদের আলোচনায়। বাংলাদেশ দল তখন টেস্ট খেলছে অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে মিরাজের বোলিং গভীরভাবে দেখে গায়ানার ম্যানেজমেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেল, মিরাজকেই তাদের প্রয়োজন।
সিপিএলে টানা দুই ম্যাচে মিরাজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেই গল্প শোনালেন গায়ানার অধিনায়ক ইমরান তাহির।
দল ছেড়ে যাওয়ার আগে নাবি ছিলেন গায়ানার সেরা বোলার। ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকার করেন ওভারপ্রতি ৫.৮০ রান দিয়ে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের জন্য আফগানিস্তান দলে যোগ দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
তার বদলে সুযোগ পেয়ে মিরাজের শুরুটা হয়েছে চোখধাঁধানো। এমনিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশে খুব একটা সমাদৃত নন তিনি। দেশের বাইরের লিগে তার আগের অভিজ্ঞতাও ভালো ছিল না। গত লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচ খেলে ভালো করতে না পারায় একাদশে জায়গা হারান। তবে সেই মিরাজ এবার সিপিএলে পুরো অন্যরকম।
ক্যারিবিয়ার টুর্নামেন্টে অভিষেকে চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছিলেন তিনটি। প্রথম ছয় ব্যাটারের তিনজনকে আউট করেও সেদিন তাকে একটু আড়ালে পড়ে যেতে হয় তাহির পাঁচ উইকেট নেওয়ায়। দ্বিতীয় ম্যাচে সবাইকে ছাপিয়ে মিরাজই উজ্জ্বলতম। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে চার ওভারে ২৩ রানে তার প্রাপ্তি চার উইকেট। দলের জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে তিনিই ম্যান অব দা ম্যাচ।
মিরাজের পারফরম্যান্স তুলে ধরেই ম্যাচের পর তাহিরকে জিজ্ঞেস করা হয়, “এখনও নাবিকে মিস করছেন?” আফগান তারকার প্রতি সম্মান রেখেই গায়ানা অধিনায়ক স্তুতিতে ভাসালেন বাংলাদেশের তারকাকে।
“নাবিকে অবশ্যই মিস করি। আমাদের বড় একটা অংশ ছিল সে। তবে মেহেদি (মিরাজ) সত্যিই খুব ভালো করছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে সে দারুণ বোলিং করেছে, যা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি আমরা। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও দীর্ঘসময় ধরে পারফর্ম করে আসছে সে।
সে এসেই যেভাবে বোলিং করছে, আমি সত্যিই খুব খুশি। গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলো যেভাবে নিয়েছে সে, তা অসাধারণ। আমি আগেও বলেছি, কেউ যখন কোনো খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলে, তার সামনে যখন কোনো সুযোগ আসে, এরকম চমৎকার একটি জাতির (গায়ানা) প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আসে, তখন তা নেওয়া উচিত।”
অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা ছিল মিরাজের। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ বোলিংয়ে শিকার করেন ৫ উইকেট। পরে দ্বিতীয় টেস্টে ম্যাকায়ের পেস-মঞ্চে তার বেশি কিছু করার ছিল না। তবে সেখানেও দুই ওভার বোলিং করে অ্যালেক্স কেয়ারির উইকেট শিকার করেন। সেই পারফরম্যান্স তার জন্য খুলে দেয় সিপিএলের দুয়ার।
গায়ানায় তাহিরের সঙ্গে মিরাজের রসায়নও শুরু থেকেই বেশ জমে গেছে। প্রথম ম্যাচ থেকেই দুজনকে দেখা গেছে একসঙ্গে ‘নাগিন ডান্স’ দিতে, মাঠে দুজন কথা বলছেন প্রচুর, একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে অনেক সময়ই।
ম্যাচের পর মিরাজ বললেন, গায়ানায় সময়টা দারুণ কাটছে তার।
“দারুণ অভিজ্ঞতা হচ্ছে। অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সে প্রথমবার খেলছি। তারা দারুণভাবে আমার দেখভাল করছে। এত ভালোভাবে আমার খেয়াল রাখার জন্য ম্যানেজমেন্টকে বিশেষ ধন্যবাদ। আমার জন্য এটি অনেক বড় প্রাপ্তি।”
বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার বললেন, উইকেট বুঝে বল করেই এই ম্যাচে সাফল্য মিলেছে তার।
“আমার জন্য এটা দারুণ মুহূর্ত। প্রথমবার সিপিএলে খেলছি এবং প্রথম ম্যাচসেরার পুরস্কার পেলাম। আজকে আমি খুবই উপভোগ করেছি। চেষ্টা করেছি ঠিক জায়গায় বল রাখতে এবং উইকেটের খোঁজ করতে। জানতাম যে পিচ কিছুটা টার্ন করছে এবং স্পিনারদের জন্য সহায়তা আছে সেখানে। আমি তাই চেষ্টা করেছি স্টাম্পে টার্গেট করতে। সেভাবেই সুযোগ চলে এসেছে।”
