‘পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত নয়’
‘রক্ত আর ঘাম একসঙ্গে বইতে পারে না’, এশিয়া কাপে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলতে রাজি হওয়ায় ভারতীয় বোর্ডের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সাবেক স্পিনার হারভাজান সিং।
এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচ নিয়ে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন হারভাজান সিং। শত্রু দেশের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে রাজি হওয়ায় একহাত নিলেন তিনি ভারতীয় বোর্ডকে। সাবেক এই স্পিনারের মতে, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো ম্যাচ খেলা উচিত নয় ভারতের।
রাজনৈতিক বৈরিতায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ আছে এক যুগ ধরে। কেবল বৈশ্বিক ও এশিয়ান আসরেই দেখা হয় এই দুই দেশের। সম্প্রতি সাবেকদের টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করে ভারতীয় দল। প্রাথমিক পর্বের ম্যাচ না খেলার পর এমনকি সেমি-ফাইনালেও তারা খেলেনি পাকিস্তানের বিপক্ষে।
সাবেকদের সেই দলে ছিলেন হারভাজান। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে সাবেক এই স্পিনার বললেন, ভারতের জাতীয় দলেরও একই পথ বেছে নেওয়া উচিত।
“তাদের বোঝা উচিত কোনটি গুরুত্বপূর্ণ, কোনটি নয়। খুবই সহজ ব্যাপার। আমাদের সেনারা দিনের পর দিন সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকে, পরিবারের সঙ্গে দেখা হয় না, কখনও কখনও নিজেদে জীবন উৎসর্গ করে তারা, বাড়ি আর ফিরতে পারে না, তাদের এসব আত্মত্যাগের মূল্য অনেক। সেই তুলনায় ক্রিকেট খুবই ছোট ব্যাপার। আমরা একটি ক্রিকেট ম্যাচ বাদ দিতে পারি না?”
পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের রাজনৈতিক সম্পর্ক যেমন, ক্রিকেটেও তেমনি সামগ্রিক বর্জনের পথ বেছে নেওয়ার পক্ষপাতি হারভাজান।
“আমাদের সরকারের অবস্থানও একই রকম। রক্ত আর ঘাম একসঙ্গে বইতে পারে না। সীমান্তে আমাদের সেনারা লড়ছে, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে আর আমরা ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছি, এরকম হতে পারে না। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেট খুবই মামুলি ব্যাপার। সবকিছুর আগে দেশ।”
“আমাদের পরিচয় যেটাই হোক, সেটা এই দেশের জন্যই। কেউ খেলোয়াড়, কেউ অভিনেতা বা যা কিছুই হোক, দেশের চেয়ে বড় কেউ নয়। দেশের প্রতি দায়িত্ব অবশ্যই পালন করা উচিত আমাদের। দেশের তুলনায় ক্রিকেট ম্যাচ খেলা খুবই সামান্য ব্যাপার।”
সীমান্তের সেনাদের আত্মত্যাগের কথা বারবার মনে করিয়ে দিলেন হারভাজান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৭০৭ উইকেট শিকার করে ভারতের ইতিহাসের তৃতীয় সফলতম বোলার একটি অনুরোধ জানালেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিও।
“সীমান্তে আমাদের ভাইরা আমাদেরকে রক্ষা করছে, দেশকে রক্ষা করছে। তাদের সাহসিকতা দেখুন, কতটা বিশাল হৃদয় নিয়ে তারা সেবা করে যাচ্ছে দেশে। তারা যখন ঘরে ফিরতে পারে না, ভেবে দেখুন তাদের পরিবারকে কত কিছুর মধ্য দিয়ে যেত হয়। অথচ আমরা এখানে ক্রিকেট খেলছি।”
“আমি যেমন বলেছি, ক্রিকেটারদের উচিত নয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো। পাশাপাশি মিডিয়ারও উচিত নয় তাদেরকে দেখানো বা তাদের প্রতিক্রিয়া প্রচার করা। তারা নিজেদের দেশে বসে যা ইচ্ছা বলতে পারে। কিন্তু আমাদে উচিত নয় তাদেরকে তুলে ধরা।”
