২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মিরপুরের উইকেটকে ‘মেনে নিয়েই’ সফল বাংলাদেশ

সিলেটে ম্যাচ হলে বাংলাদেশের খেলার ধরন ভিন্ন হতো, পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরের উইকেটের আচরণের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই সফল হয়েছে দল, বললেন জাকের আলি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jul 2025, 09:37 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:26 PM

মাসদুয়েক আগে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করা পাকিস্তান এবার ফিরতি সিরিজে ঠিক বিপরীত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। লাহোরে খাবি খাওয়া বাংলাদেশ দল এখন মিরপুরে ঠিক ভিন্ন রূপে। ঘরের মাঠে এমন নিজেদের দাপটের রহস্য জানাতে গিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচের নায়ক জাকের আলি বললেন,  উইকেটের আচরণকে আলিঙ্গন করেই সাফল্যে মাখামাখি হয়েছে দল।

চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে থেকেই আলোচনায় মিরপুরের উইকেট। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে শোচনীয় পরাজয়ের পর উইকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন। পরের ম্যাচে পাশের উইকেটে খেলেও বদলায়নি তার দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স। 

তবে শেষ দিকে ফাহিম আশরাফের ঝড়ো ফিফটি ও আহমেদ দানিয়ালের ক্যামিও ইনিংসের সৌজন্যে ম্যাচে প্রাণ ফেরায় পাকিস্তান। তবে শেষপর্যন্ত ১৩৪ রানের লক্ষ্য আর ছুঁতে পারেনি সফরকারীরা। 

মাঝারি এই লক্ষ্যে পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। পাঁচ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ড্রেসিং রুমে ফিরে যান দলটির পাঁচ ব্যাটসম্যান। স্কোর বোর্ডে তখন মাত্র ১৫ রান। দশ ওভার হওয়ার আগে আউট হন অধিনায়ক সালমান আলি আগা।

তাদের তখন চোখরাঙানি দিচ্ছিল বিব্রতকর সব রেকর্ড। ফাহিমের ৩২ বলে ৫১ রানের সৌজন্যে সেই শঙ্কা পেরিয়ে বাংলাদেশের খুব কাছে চলে যায় তারা। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন মুস্তাফিজুর রহমান। 

ম্যাচে বাংলাদেশও যে ভালো ব্যাটিং করেছে, তা বলার সুযোগ নেই। পাওয়ার প্লের মধ্যে তারাও হারায় ৪টি উইকেট। এরপর হাল ধরেন জাকের ও শেখ মেহেদি হাসান। দুজনের ৫৩ রানের জুটিতে চাপ সামলে লড়িয়ে পুঁজির ভিত পায় বাংলাদেশ।

মেহেদি ফিরে গেলেও ৪৮ বলে ৫৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে স্বাগতিকদের ১৩০ পার করান জাকের। পরে বাংলাদেশের জয়ে তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। 

একই মাঠে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে লড়াই করতেই পারেনি পাকিস্তান। পারভেজ হোসেনের ফিফটিতে তাদের করা ১১০ রান ২৭ বল বাকি থাকতেই টপকে যায় বাংলাদেশ। 

দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলা বাংলাদেশের এখন পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ দেওয়ার সুযোগ। মাসদুয়েক আগে পাকিস্তান সফরে গিয়ে এই যন্ত্রণা পান লিটন কুমার দাস, জাকেররা। 

বাংলাদেশের দারুণ ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে যেন অবাক পাকিস্তান থেকে আসা সংবাদকর্মীরা। দ্বিতীয় ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে জাকেরের কাছে একজন জানতে চান, মিরপুরে কেন এতটা অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ। 

২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বললেন, উইকেট বুঝে পরিকল্পনা সাজিয়েই তারা সফল। 

“আমরা নিজেদের প্রক্রিয়া ধরে এগিয়েছি। উইকেটের আচরণ বা এসব নিয়ে ভাবিনি। এখানে (মিরপুর) কন্ডিশন ব্যাটিং সহায়ক না, বড় রানের উইকেট নয়। এটা মেনে নিয়ে সেভাবেই খেলি। এখানে খেলার মূল মন্ত্র এটাই। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের এটি মানতে হবে, উইকেট-কন্ডিশনের পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হবে।”

জাকেরের মতে, দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেটে আদর্শ ব্যাটিং করতে পারলে দেড়শর বেশি রান করা যেত। কিন্তু শুরুতে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় অধিনায়কের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৪০ রানের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। 

“আজকের উইকেটে মনে হয়, ১৫৫-৬০ রান হওয়া সম্ভব ছিল, যদি আমরা আদর্শ ব্যাটিং করতে পারতাম। তবে আমি ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে অধিনায়ক বলেছে, যেহেতু দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেলেছি, ১৪০ রানের জন্য যেন যাই। আমরা ৬ রান (আসলে ৭) কম করেছি। শেষেরটা ছক্কা হলে (১৪০) হয়ে যেত।” 

“এই জিনিসগুলা ভালো। দল হিসেবে আমরা যখন নিজেদের মধ্যে আলাপ করব যে, আমরা এত রান করব বা এর বেশি করব। প্রথম থেকেই আমি পরিষ্কার ছিলাম যে, এটার জন্যই যাব। আজকের পরিস্থিতির চাহিদা এটিই ছিল। এর ওপরে যেতে পারলে আরও ভালো হতো।”

জাকেরের ১ চার ও ৫ ছক্কার ইনিংসের সৌজন্যে মিরপুরের মাঠে সবশেষ ছয় ম্যাচের মধ্যে পঞ্চম জয় পায় বাংলাদেশ। তবে ছয় ম্যাচের একটিতেও ১৬০ রান করতে পারেনি তারা। সবশেষ ২২ ম্যাচেই অবশ্য ১৬০ ছুঁতে পারেনি স্বাগতিকরা।

যদিও টি-টোয়েন্টির মারকাট ব্যাটিংয়ের যুগে বেশিরভাগ মাঠে দেখা যায় রানোৎসব। নিজেদের ঘরের মাঠে সেই পথে না হেঁটে ১৪০-১৫০ রানের উইকেটের সঙ্গেই মানিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। 

জাকের বললেন, তাদের চাওয়া পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ম্যাচ জেতা। 

“দলের চাওয়া ম্যাচ জেতা। এখানে (মিরপুর) পরিস্থিতি দাবি করছে ১৪০-১৫০ রানের, আমরা সেভাবে খেলি। সিলেটে খেললে হাই স্কোরিং। যেরকম পরিস্থিতি, সেভাবেই খেলতে হবে। দিন শেষে ম্যাচ জিততে হবে।”