হদয় ২০৪*, জাকের ৯৪, সাইফ উদ্দিন ৮৭
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত আছেন তাওহিদ হৃদয়, একটুর জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি জাকের আলি ও সাইফ উদ্দিন।
দিনের খেলা শেষ হতে তখন স্রেফ দুটি ডেলিভারি বাকি। বাঁহাতি স্পিনার কাইল সিমন্ডস বল করলেন অনেকটা ঝুলিয়ে। ব্যাটস্যাম্যান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের হয়তো চোখ চকচক করে উঠল। চেষ্টা করলেন বড় শটের। কিন্তু বল তার ব্য্যাটের কানায় লেগে আশ্রয় নিল স্লিপ ফিল্ডারের হাতে। হতাশায় ব্যাটে ভর দিয়ে ক্রিজেই বসে থাকলেন তিনি। দিনের খেলারও সমাপ্তি সেখানেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররা তখন একে একে এগিয়ে গিয়ে অভিনন্দন জানালেন তাওহিদ হৃদয়কে, কেউ কেউ পিঠ চাপড়ে দিলেন তার। সাইফের শেষটা আক্ষেপের, অল্পের জন্য পেলেন না শতরান। কিন্তু দিনটি তো হৃদয়ের। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করে দিন শেষে মাঠ ছাড়লেন তিনি অপরাজিত থেকেই।
শেষ বেলায় জুটি ভাঙলেও বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে এই জুটি। পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দলের রান ৬ উইকেটে ৪৭১। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের রানের পাহাড় টপকে যেতে প্রয়োজন আর কেবল ৪২ রান।
এই মাঠেই ২০২০ যুব বিশ্বকাপ জিতেছিলেন হৃদয়রা। সেখানে এবার তিনি খেললেন ২২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৩৯ বলে ২০৪ রানের ইনিংস। অথচ এই ম্যাচ তার খেলারই কথা ছিল না। মূলত একদিনের ম্যাচের সিরিজে খেলার কথা ছিল তার। তবে কয়েকজনের ভিসা ও চোট সমস্যার কারণে নির্বাচকদের পরিকল্পনা বদলে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি খেললেন দুর্দান্ত।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৮ ম্যাচে তার চতুর্থ শতরান এটি। এর দুটিকেই রূপ দিলেন দ্বিশতকে। ক্যারিয়ার সেরা ২১৭ রান পেরিয়ে যাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
শতরানের সুবাস পেয়েও জাকের আলি আউট হন ৯৪ রানে। প্রায় চার বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে নেমে সাইফ উদ্দিন করেন ৮৭।
গোটা তৃতীয় দিনে স্রেফ এই দুটি উইকেটই হারায় বাংলাদেশ ‘এ।’
আগের দিন ৪ উইকেটে ১৩৫ রানে থাকা দলকে উদ্ধার করেছিলেন হৃদয় ও জাকের। অবিচ্ছিন্ন সেই জুটি এ দিনও দলকে এগিয়ে নেয় দারুণ ব্যাটিংয়ে। প্রোটিয়াদের পেস ও স্পিন, কিছুই বিপাকে ফেলতে পারেনি দুই ব্যাটসম্যানকে। লাঞ্চ পর্যন্ত কোনো উইকেট হারায়নি দল।
৭৫ রানে দিন শুরু করা হৃদয় শতরানে পা রাখেন বেশ নাটকীয়ভাবে। ডেলানো পটগিটারের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে পরাস্তই হয়েছিলেন তিনি। জোরাল আবেদন করেন বোলার ও কিপার। হৃদয় আম্পায়ারকে ক্রমাগত দেখাতে থাকেন যে, বল লেগেছে ব্যাটে। আম্পায়ারও সেই রায়ই দেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে। শতরান পূর্ণ হয় তার ১৬৬ বলে।
জাকের লাঞ্চে যান ৯২ রান নিয়ে। বিরতির দ্বিতীয় ওভারেই থামতে হয় তাকে। ইনিংসজুড়ে দারুণ খেললেও আউট হওয়া শটটি ছিল দৃষ্টিকটূ। টেপো মোরেকির বেশ বাইরের বল ছাড়তে গিয়ে হুট করে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ব্যাট পেতে দেন তিনি। ব্যাটের কানায় লেগে বল উপড়ে দেয় মিডল স্টাম্প।
১৬৮ বলের ইনিংসে ১১ চার ও ৩ ছক্কা মারেন জাকের। জুটি থামে ১৫১ রানে।
সেখান থেকে আরেকটি বড় জুটি গড়ে তোলেন হৃদয় ও সাইফ উদ্দিন। শতরান করলেও মনোযোগ না হারিয়ে ইনিংস হৃষ্টপুষ্ট করতে থাকেন হৃদয়। সাইফও শুরু থেকে ছিলেন সাবলীল। প্রথম বলেই দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভে চার মেরে শুরু করেন। তার ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি, এত লম্বা বিরতির পর লাল বলের ক্রিকেটে খেলছেন।
একশ থেকে দেড়শতে যেতে হৃদয়ের লাগে ৬৮ বল। ওই ওভারেই চোখধাঁধানো ইনসাইড আউট শটে ছক্কায় সাইফ পঞ্চাশে পৌঁছান ৬২ বলে।
দেড়শ পেরিয়ে একই পথে হৃদয় ছুটে যান দুইশর দিকে। ১৯৯ থেকে সিমন্ডসকে কাট করে চার মেনে পৌঁছে যান মাইলফলকে। উদযাপন করেন অনেকটা সময় নিয়ে।
১০ চার ও ১ ছক্কায় ১৭১ করে সাইফের বিদায়ে শেষটায় একটু ‘অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্স’ হয়ে যায় বটে, তার পরও দিনটি বাংলাদেশেরই, দিনটি হৃদয়ের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ৫১২
বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ১৩৯.৫ ওভারে ৪৭১/৬ (আগের দিন ২০১/৪) (হৃদয় ২০৪*, জাকের ৯৪, সাইফ উদ্দিন ৮৭; মোরেকি ২১-৬-৫৭-২, বোস্ট ২১-২-৭৪-১, সিমন্ডস ৩৩.৫-৩-১৫৭-৩, পটগিটার ২০-৮-৪৬-০, এনটুলি ৪১-৭-১৩৪-০, আকারম্যান ৩-১-৩-০)।
