বাংলাদেশ সিরিজের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলার তাগিদ পাকিস্তান কোচের
দলকে আরও আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার পরামর্শ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার ক্ষত এখনও তরতাজা পাকিস্তানের। ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে বারবার সামনে আসছে সেই প্রসঙ্গ। পাকিস্তান কোচ জেসন গিলেস্পির মতে, ফলাফলে ফুটে উঠছে না তার দলের ভালো পারফরম্যান্স। পুরোনো ব্যর্থতা ভুলে সামনে এগোনোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
রাওয়ালপিণ্ডিতে অগাস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলে পাকিস্তান। অভিজাত সংস্করণে দলটির বিপক্ষে প্রথমবার ম্যাচ ও সিরিজ হারার তেতো স্বাদ পায় তারা। প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটে এবং দ্বিতীয়টিতে ৬ উইকেটে হারে স্বাগতিকরা।
পরাজয়ের হতাশা সঙ্গী হলেও ওই সিরিজে দলের ইতিবাচক পারফরম্যান্সও ধরা পড়ে গিলেস্পির চোখে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পডকাস্টে তিনি বলেন, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সেটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় তার দল।
“বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে আমরা নিজেদের মানের ঝলক দেখিয়েছি, যেখানে ম্যাচ সত্যিই আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যাট ও বল হাতে দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। সমস্যাটি হলো, আমরা এটি দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারিনি।”
“প্রতিপক্ষকে যখন ম্যাচে ফেরার সুযোগ দিয়েছি, তখন তারা সেটাকে পুঁজি করে এগিয়ে গেছে। এখানেই আমরা নিজেদের হতাশ করেছি।”
বাংলাদেশ সিরিজে প্রথম টেস্টে ৪৪৮ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। জবাবে সফরকারীরা করে ৫৬৫। ড্র ফলই ছিল সবচেয়ে সম্ভাব্য। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৬ রানে গুটিয়ে হেরে যায় শান মাসুদের দল।
দ্বিতীয় টেস্টে তো বাংলাদেশকে মুঠোয় পেয়েছিল পাকিস্তান। প্রথম ইনিংস ২৭৪ রান করা স্বাগতিকরা ২৬ রানে প্রতিপক্ষের ৬ উইকেট তুলে নেয়। কিন্তু এরপর লিটন দাসের সেঞ্চুরি ও মেহেদী হাসান মিরাজের ফিফটিতে ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। দ্বিতীয় ইনিংসে ফের ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ পাকিস্তানকে অনায়াসে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
গিলেস্পির মতে, আরও আক্রমণাত্মক হতে হবে তাদের। ম্যাচে এগিয়ে গেলে গা ছাড়া ভাব দেখানো যাবে না। আরও নির্মম হয়ে গুঁড়িয়ে দিতে হবে প্রতিপক্ষকে।
“আমাদের যেটা দরকার তা হলো আরেকটু আগ্রাসী মনোভাব। আমরা যখন এগিয়ে থাকব, তখন আমাদের সেটা ধরে রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন ঘরের মাঠের সুবিধাটি কাজে লাগাতে পারি। এটাই বাংলাদেশ সিরিজ থেকে শেখার মূল বিষয়।”
“ওই সিরিজে আমরা কিছু ভালো পারফরম্যান্স করেছি, তবে যখন আমরা খারাপ একটা ঘণ্টা কাটালাম, এটা সত্যিই আমাদের পিছনে ফেলে দিয়েছে। আমাদের সেই খারাপ সময়গুলি কমাতে হবে এবং ভালো সময় বাড়াতে হবে।”
পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের তিন টেস্টের সিরিজটি শুরু আগামী ৭ অক্টোবর। পরের দুই ম্যাচ শুরু ১৫ ও ২৪ অক্টোবর।
