ইংল্যান্ড দলে কে হবেন ‘ফ্লেমিংয়ের ধোনি’, ভাবনায় ভন
তবে সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়কের বিশ্বাস, ফ্লেমিংয়ের কোচিংয়ে আবারও সঠিক পথে ফিরবে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট।
ইংল্যান্ড টেস্ট দলের কোচ হিসেবে স্টিভেন ফ্লেমিংকে পছন্দ হয়েছে মাইকেল ভনের। তার বিশ্বাস, ছন্দ হারানো দলকে আবারও সাফল্যের পথে ফেরাতে পারবেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। তবে ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের মতে, এই দলে মাহেন্দ্র সিং ধোনির মতো কারোর অভাব অনুভব করবেন ফ্লেমিং।
সম্প্রতি ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আইপিএলের দল চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে ১৭ বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন ফ্লেমিং। এই দীর্ঘ সময়ে বেশিরভাগ মৌসুমেই অধিনায়ক হিসেবে ধোনিকে পেয়েছেন তিনি। তাদের জুটিতে একের পর এক সাফল্য পেয়েছে চেন্নাই।
আইপিএলের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ পাঁচটি শিরোপা জিতেছে চেন্নাই ফ্লেমিংয়ের কোচিংয়ে ও ধোনির নেতৃত্বে। এছাড়া দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টিও জিতেছে দলটি।
ফ্লেমিং এখন ইংল্যান্ড টেস্ট দলের প্রধান কোচ। প্রথমবার কোনো জাতীয় দলকে কোচিং করাবেন তিনি। বৃহস্পতিবার তাকে গুরুদায়িত্বটি দিয়েছে ইংল্যান্ড।
ফ্লেমিংয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কোচিংয়ে বেন স্টোকসের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট পায় নতুন দিশা। এই সংস্করণেও আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে আলোড়ন ফেলে দেয় ইংলিশরা।
তবে গত কয়েকটি সিরিজ ভালো কাটেনি ইংল্যান্ডের। ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ড্র করার পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নাস্তানাবুদ হয় তারা; সবশেষ অ্যাশেজ হারে ৪-১ ব্যবধানে। আর গত মাসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের আঙিনায় হারে ২-১ ব্যবধানে।
কিউইদের বিপক্ষে ওই সিরিজের মাঝপথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন স্টোকস। এর কয়েকদিন পর আসে ম্যাককালামের দায়িত্ব হারানোর খবর। দা টেলিগ্রাফে নিজের কলামে ভন লিখছেন, এবার ফ্লেমিংয়ের কোচিংয়ে আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট সঠিক পথে ফিরবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। সঙ্গে ধোনির সঙ্গে ফ্লেমিংয়ের রসায়নের প্রসঙ্গও টানেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান।
“আমরা কিছুটা এলোমেলো অবস্থায় আছি, তবে আমি নিশ্চিত ফ্লেমিং সব ঠিক করে ফেলবেন। আমার বিশ্বাস, তার কোচিংয়ে ভালো পারফর্ম করবে দল।
“ফ্লেমিং খুবই সম্মানিত একজন কোচ। দক্ষ ব্যবস্থাপক ও ভালো টেকনিশিয়ান হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। আইপিএলে তাকে দেখেছি এবং ইংলিশ ক্রিকেটে এসে হয়তো একটি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে, তা হলো তার অধিনায়ক হওয়ার জন্য আমাদের কোনো এমএস ধোনি নেই। চেন্নাই সুপার কিংস দলটাকে চালাত ধোনিই, আর সেখানে ভালো কয়েকজন সহকারী কোচও পেয়েছিলেন ফ্লেমিং।”
এখনই অবশ্য ইংলিশদের দায়িত্ব নিচ্ছেন না ফ্লেমিং। আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে কাজ শুরু করবেন তিনি। আর আগামী মাসে ঘরের মাঠের পাকিস্তান সিরিজে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করবেন মার্কাস ট্রেসকোথিক।
ভনের মতে, এত দেরি না করে এখনই কাজ শুরু করলে ভালো করতেন ফ্লেমিং।
“ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচ হিসেবে স্টিভেন ফ্লেমিং ভালো নিয়োগ। তবে ডিসেম্বরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষা না করে, পাকিস্তান সিরিজের শুরু থেকেই তার দায়িত্বে থাকা উচিত ছিল। দেরিতে কাজ শুরু করার মানে, অ্যাশেজের আগে ফ্লেমিং ঘরের মাঠে কেবল একটি টেস্টে ইংল্যান্ডকে কোচিং করানোর সুযোগ পাবেন- আগামী গ্রীষ্মে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
“আইপিএল শেষ হওয়ার পর, মে মাসের শেষ দিক থেকে ফ্লেমিং বিশ্রামে আছেন। পাকিস্তান সিরিজে কোচিং করাতে তার মাত্র এক মাসের মতো সময় লাগত। এরপর ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে আবারও বেশ কিছুদিন বিরতি থাকত। এখনই দায়িত্ব নেওয়া আমার কাছে খুব বেশি কষ্টকর মনে হচ্ছে না।”
এমন ভাবনার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেন ৮২ টেস্ট খেলা ভন।
“এটা কেবল পাকিস্তান সিরিজ জেতার জন্য জরুরি, তা নয়; বরং এটা তার জন্য তথ্য সংগ্রহের (খেলোয়াড়দের জানাশোনার) ভালো সুযোগ। ছোটখাটো বিষয়গুলো বোঝা, এজবাস্টনের মতো মাঠে গিয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়া (যেখানে অ্যাশেজের টেস্ট ম্যাচ হবে), ইংলিশ ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চেনা এবং কাউন্টি কোচদের সঙ্গে দেখা করে দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো, যা তাকে সাহায্য করত।”
