২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

রাদারফোর্ডের ‘ব্যবধান গড়ে দেওয়া’ ইনিংসের স্তুতিতে পাওয়েল ও উইলিয়ামসন

নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের মতে, কঠিন কন্ডিশনে দুই-তিনটি বলই পার্থক্য গড়ে দেয়।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jun 2024, 06:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:46 AM

ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া দলকে একাই টানেন শেরফেইন রাদারফোর্ড। বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলে গড়ে দেন ব্যবধান। চাপের মুখে তার এমন ব্যাটিং মনে ধরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল ও ও নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের। দুইজনই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ক্যারিবিয়ান মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের।

রাদারফোর্ডের ইনিংসের সুবাদেই বৃহস্পতিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে ১৩ রানে হারাতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ছয় নম্বরে নেমে রাদারফোর্ড পঞ্চাশ ছাড়ানো অপরাজিত ইনিংস খেলেন। দলটির আর কেউ ২০ রানও করতে পারেনি।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ২২ রানে যখন চতুর্থ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তখন ব্যাটিংয়ে নামেন রাদারফোর্ড। দলটির হয়ে ১৫ টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে এনিয়ে দ্বিতীয়বার প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে নামতে হয় তাকে।

পরের ওভারে আরেকটি উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা। ৩০ রানে ৫ উইকেট হারানো দলটির এক প্রান্ত ধরে রেখে দেখেশুনে খেলতে থাকেন রাদারফোর্ড। অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

তাতে ভড়কে যাননি রাদারফোর্ড। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি ক্যারিয়ার সেরা ৬৮ রান করে। ৩৯ বলের ইনিংসটি সাজান ৬টি ছক্কা ও ২ চারে। তার এই ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এনে দেয় ১৪৯ রানের পুঁজি।

পরে আলজারি জোসেফ ও গুডাকেশ মোটির চমৎকার বোলিংয়ে এই রানই যথেষ্ট হয় তাদের জন্য। নিউ জিল্যান্ডকে ১৩৬ রানে থামিয়ে জয়ের উল্লাসে মাতে দলটি। ম্যাচ শেষে পাওয়েল বলেন, রাদারফোর্ডের ইনিংসটিই তাদের মধ্যে বুনে দিয়েছিল আত্মবিশ্বাসের বীজ।

“আমরা দলের সবাইকে বলেছিলাম, কাউকে না কাউকে বিধ্বংসী খেলতে হবে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে উইকেট সহজ ছিল না। আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগতভাবে জ্বলে ওঠা প্রয়োজন এবং শেরফেইনের ইনিংসটি দুর্দান্ত ছিল। এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে এবং মাঝপথে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম (আমরা জিততে পারি)।”

একটা সময় রাদারফোর্ডের রান ছিল ২৭ বলে ৩১। ইনিংসের শেষ দুই ওভারে ঝড় তোলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১৯তম ওভারে পেসার ড্যারিল মিচেলকে ওড়ান তিনটি ছক্কায়। পরের ওভারে বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনারকে দুই চারের সঙ্গে মারেন একটি ছক্কা। ওই দুই ওভার থেকে আসে যথাক্রমে ১৯ ও ১৮।

উইলিয়ামসনের মতে, শেষের দুই ওভারে রাদারফোর্ডের ব্যাটিং গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। বিশেষ করে, স্যান্টনারের করা শেষ ওভারটি বেশ ভালোভাবে কাজে লাগানোর জন্য প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের প্রশংসা করেছেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক।

“ম্যাচে ব্যবধান খুবই সামান্য ছিল। এই ধরনের কন্ডিশনে, ম্যাচ-আপ এর ক্ষেত্রে দুই-তিনটা বল কাজে লাগাতে পারলে, সেটাই পার্থক্য গড়ে দেয়। আমরা রাদারফোর্ডের দুর্দান্ত একটি ইনিংস দেখেছি। সে নিশ্চিতভাবে দারুণ টাইমিং করেছিল…আমার মতে, দিন শেষে এটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”

তিন ম্যাচের সবকটি জিতে সুপার এইটে খেলা নিশ্চিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আফগানিস্তান।

কিউইদের পরের ধাপে ওঠার আশা ক্ষীণ হয়ে গেছে, দুই ম্যাচ খেলে একটিও জিততে পারেনি তারা। অনেক যদি-কিন্তুর ওপর নির্ভর করছে তাদের সুপার এইটে খেলার আশা।

গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে, আগামী মঙ্গলবার। নিউ জিল্যান্ড পরের দুটি ম্যাচে খেলবে উগান্ডা ও পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে।