৮ ম্যাচে ৪ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটি ফাখার জামানের
ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের স্রোত বইয়ে দিয়ে পাকিস্তান জাতীয় দলে ফেরার দাবি জানিয়ে রাখছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
লাল বলে খেলা হোক কিংবা সাদা, সীমিত ওভারের সংস্করণ হোক কিংবা বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ- সব জায়গায় সমান উজ্জ্বল ফাখার জামান। ঘরোয়া ক্রিকেটে সব সংস্করণ মিলিয়ে সবশেষ আট ম্যাচে চারটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করেছেন পাকিস্তানের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
প্রথম শ্রেণির আসর প্রেসিডেন্ট’স ট্রফি গ্রেড ১-এ খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের হয়ে প্রথম ইনিংসে ১৩৬ বলে ১২৮ রান করেন ফাখার। ঘানির বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচটিতে দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে মঙ্গলবার তিনি আউট হন ৭৭ রানে। ৫৪ বলে ছয়টি চার ও তিন ছক্কায় গড়া তার ইনিংসটি।
ফাখারের এই দুর্দান্ত ফর্মের শুরুটা হয়েছিল পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) শেষ ভাগে, যেখানে গত এপ্রিলে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে শেষ চার ম্যাচে তিনটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি করেন তিনি।
কালান্দার্স লিগ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও, ওই চার ম্যাচে ফাখারের রান ছিল যথাক্রমে ৮৪, ১০৩, ৬১ ও অপরাজিত ৫৮ রান।
টি-টোয়েন্টির ওই ফর্ম ৫০ ওভারের ক্রিকেটেও টেনে আনেন ফাখার। গত অগাস্টে লিস্ট ‘এ’ প্রতিযোগিতা ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে পাকিস্তান গ্রিনসের হয়ে তিনি সেঞ্চুরি করেন পরপর দুই ম্যাচে (১২৩ ও ১১৫)। পরের ম্যাচে ফাইনালে থামেন ৩১ রান করে।
তিন ম্যাচে মোট ২৬৯ রান করে তিনিই ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার। অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে ‘প্লেয়ার অব দা সিরিজ’ও হন তিনি।
সাদা বলের দুর্দান্ত ফর্ম লাল বলের ক্রিকেটেও ধরে রাখলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। প্রেসিডেন্ট’স ট্রফির প্রথম ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে করলেন ২০৫ রান।
গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের সাদা বলের জাতীয় দলের বাইরে আছেন ফাখার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাকে সবশেষ পাকিস্তানের জার্সিতে খেলতে দেখা গেছে। ওই আসরে কেবল তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি।
পরে পাকিস্তানের নির্বাচক আকিব জাভেদ জানান, চোট নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছেন ফাখার। ফলে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে তাকে রাখা হয়নি। মে-জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজেও তিনি খেলতে পারেননি।
পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার পর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন ফাখার। ম্যাচের পর ম্যাচে রানের স্রোত বইয়ে দিয়ে জাতীয় দলে ফেরার দাবিও জানিয়ে রাখছেন তিনি ভালোভাবেই।
বর্তমানে পাকিস্তানের দল নির্বাচন নিয়ে সংকট এবং আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা বিবেচনা করলে, ফাখারের এই দুর্দান্ত ফর্ম তাকে আবারও জাতীয় দলে ফেরাতে পারে।
