মুল্ডারের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে দ. আফ্রিকা
নেতৃত্বের অভিষেকে ভিয়ান মুল্ডারের স্বপ্নময় দিন, আঁচড় দিলেন রেকর্ডের অনেক পাতায়।
টেম্বা বাভুমার পর কেশাভ মহারাজও ছিটকে যাওয়ায় বুলাওয়ায়ো টেস্ট দিয়ে নেতৃত্ব অভিষেক হয়ে গেল ভিয়ান মুল্ডারের। উপলক্ষটা পেস বোলিং অলরাউন্ডার রাঙালেন রেকর্ড গড়া ইনিংসে। তাকে ঘিরে দুটি বড় জুটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে রান-পাহাড়ের ভিত পেয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বুলাওয়ায়োতে রোববার টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের রান ৪ উইকেটে ৪৬৫। ২৫৯ বলে তিন ছক্কা ও ৩৪ চারে ২৬৪ রানে ব্যাট করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মুল্ডার। তার সঙ্গী ডেওয়াল্ড ব্রেভিস খেলছেন ১৫ রানে।
টেস্টের সুদীর্ঘ ইতিহাসে কেবল তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে নেতৃত্বের অভিষেকে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন মুল্ডার। এই তালিকায় আড়াইশ স্পর্শ করা ব্যাটসম্যান কেবল তিনিই।
টেস্ট ক্রিকেটে ম্যাচের প্রথম দিন দক্ষিণ আফ্রিকার ডাবল সেঞ্চুরি হলো পাঁচটি, আগের চারটিই করেছিলেন ওপেনাররা। গ্রায়েম স্মিথের ডাবল সেঞ্চুরি দুটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। হার্শেল গিবস করেন পাকিস্তানের বিপক্ষে আর গ্যারি কার্স্টেন করেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
বাউন্ডারি থেকেই এসেছে মুল্ডারের ১৫৪ রান। টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কোনো ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে তার চেয়ে বেশি রান করেছেন কেবল গ্রায়েম পোলক। ১৯৭০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৭০ রানের ইনিংস খেলার পথে বাউন্ডারি থেকে তিনি করেছিলেন ১৭২ রান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। দশম ওভারে কেবল ১১ রানে ভাঙে তাদের উদ্বোধনী জুটি। চার ওভার পর ফিরে যান আরেক ওপেনার লেসেগো সেনুকওয়ানে।
সেখান থেকে শুরু হয় মুল্ডারের লড়াই। শুরুতে সঙ্গী হিসেবে পান ডেভিড বেডিংহ্যামকে। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে তৃতীয় উইকেটে তারা ২১৯ বলে গড়েন ১৮৪ রানের জুটি।
তাদের জুটিতে পঞ্চাশ আসে কেবল ৩৫ বলে। পাল্টা আক্রমণে চাপ সরিয়ে নেওয়ার পর সাবলীল গতিতে এগিয়ে যান তারা। ৫৩ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন মুল্ডার, ৫১ বলে বেডিংহ্যাম।
সেঞ্চুরির পথে থাকা বেডিংহ্যামকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন টানাকা চিভাঙ্গা।
পরের জুটিতে আরও দ্রুত রান তুলতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। মুল্ডার ও লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস কেবল ১৮৫ বলে যোগ করেন ২১৭ রান!
১১৬ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মুল্ডার। আগের ম্যাচেই করা নিজের সর্বোচ্চ ১৪৭ ছাড়িয়ে ১৬৭ বলে স্পর্শ করেন দেড়শ। একই গতিতে এগিয়ে ২১৪ বলে পা রাখেন দুইশ রানের সীমানায়।
দিনের শেষ বেলায় তাকে ফেরানোর সুযোগ এসেছিল, কিন্তু চিভাঙ্গা নো বল করায় বেঁচে যান মুল্ডার। তবে সেঞ্চুরির আগেই ড্রে প্রিটোরিয়াসকে ফেরাতে পারে জিম্বাবুয়ে। কুন্ডাই মাতিগিমুকে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান।
৮৭ বলে তিন ছক্কা ও সাত চারে ড্রে প্রিটোরিয়াস করেন ৭৮ রান।
শেষ বেলায় ব্রেভিসের সঙ্গে জুটিতেও দ্রুত রান তোলেন মুল্ডার। তাতে একটি রেকর্ডও হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার, টেস্ট শুরুর দিনে দেশটির সর্বোচ্চ স্কোর। আগের সর্বোচ্চ ছিল ৪৪৫, ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৮৮ ওভারে ৪৬৫/৪ (ডি জর্জি ১০, সেনুকওয়ানে ৩, মুল্ডার ২৬৪, বেডিংহ্যাম ৮২, ড্রে প্রিটোরিয়াস ৭৮, ব্রেভিস ১৫; মুজারাবানি ১৯-৪-৭৯-০, চিভাঙ্গা ১৮-৩-৮৫-২, মাতিগিমু ১৩.৩-১-৭৭-১, মাসাকাদজা ২৮-২-১৫২-১, মায়ার্স ২.৩-০-১৪-০, মাধেভেরে ৭-০-৪৭-০)
