গুচ্ছ পরীক্ষার বাইরে বিশেষ যোগ্যতায় শাবিতে ভর্তির সুযোগ
আবেদন করা যাবে আগামী ২৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে গুচ্ছ পরীক্ষা ছাড়াও বিশেষ যোগ্যতায় ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত সোমবার থেকে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আবেদন ফি পরিশোধ করা যাবে ২৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
শিক্ষার্থীদের বিশেষ যোগ্যতার বিষয়ে ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড, আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড, আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং অন্যান্য স্বীকৃত আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা গুচ্ছের পরীক্ষা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শাবিতে ভর্তির আবেদনের সুযোগ আছে। তাদের জন্য আলাদা কোটা আছে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত গণ্য হবে বলে তিনি জানান।
ভর্তির আবেদন ফি কমেছে
গত বছরের তুলনায় এ বছরের আবেদন ফি ১৫০ টাকা কমানো হয়েছে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার বিভাগ ব্যতীত অন্য সব বিভাগে ভর্তির আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা।
আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তিচ্ছুদের অতিরিক্ত ৩০০ টাকাসহ মোট ৮০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
আর্কিটেকচার বিভাগে গত বছর ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন সেটা ৫০ টাকা কমিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই বিভাগের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার বলেন, ‘‘আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তিচ্ছু প্রার্থীকে ড্রয়িং ও স্থাপত্য বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানের ৩০ নম্বরের এক ঘণ্টার একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এজন্য ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।
‘‘আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তি হতে হলে প্রার্থীকে উক্ত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ ভাগ নম্বর পেতে হবে। আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া, পরীক্ষার স্থান ও সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।’’
এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় গুচ্ছের ‘এ’ (বিজ্ঞান), ‘বি’ (মানবিক) ও ‘সি’ (বাণিজ্য) এই তিনটি ইউনিট অনুসারে হবে।
গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিট থেকে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা সবগুলো ইউনিটে আবেদন করতে পারবে।
আর গুচ্ছের ‘বি’ ও ‘সি’ ইউনিট থেকে উত্তীর্ণরা ‘বি’ এবং ‘সি’ এই দুই ইউনিটে আবেদন করতে পারবেন।
শাবিতে কোন ইউনিটে কত আসন?
তিন ইউনিটে শাবিতে আসন রয়েছে এক হাজার ৬৬৬টি। এর মধ্যে ১০০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে বিভিন্ন কোটাধারী শিক্ষার্থীদের জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিট বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত। এই ইউনিটে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কোটাসহ আসন রয়েছে এক হাজার ৫১টি আসন (৯৮৫+কোটা ৬৬টি)।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলো জন্য ‘বি’ ইউনিট। কোটাসহ এই ইউনিটে আসন আছে ৫৩৫টি (৫০৬+কোটা ২৯টি)।
শাবিতে ‘সি’ ইউনিট ব্যবসায় অনুষদের অধীন। এই ইউনিটে কোটাসহ আসন রয়েছে ৮০টি (৭৫+কোটা ৫টি)।
কোটায় সংরক্ষিত মোট ১০০ আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ২৮টি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী/জাতিসত্ত্বা/হরিজন-দলিত কোটায় ২৮টি, প্রতিবন্ধী কোটায় ১৪টি, চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য চারটি, পোষ্য কোটায় ২০টি এবং বিকেএসপি কোটায় ছয়টি আসন বরাদ্দ।
শাবিতে ‘এ’ ইউনিটভুক্ত বিভাগ কয়টি ও কোন বিভাগে কত আসন?
শাবিতে ‘এ’ ইউনিটভুক্ত বিভাগ রয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানের ৬৫টি আসন, রসায়নের ৬৫টি, গণিত ৮০, পরিসংখ্যান ৮০, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ১০০, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স ৫০টি।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আসন রয়েছে ৫০টি, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৫০, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ৫০, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে ৪০টি আসন রয়েছে।
পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং ৩৫টি, ভূগোল ও পরিবেশ ৫০, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ৩৫, সমুদ্রবিজ্ঞান ৩০, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ৫০, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি ৩৫, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি ৩৫, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ৫৫, আর্কিটেকচার বিভাগে ৩০টি আসন রয়েছে।
‘বি’ ইউনিটভুক্ত বিভাগ কয়টি ও আসন কত?
‘বি’ ইউনিট সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীন। এই ইউনিটে বিভাগ রয়েছে আটটি। এর মধ্যে আসন রয়েছে- অর্থনীতি বিভাগে ৬৬টি, সমাজবিজ্ঞানে ৬৬টি, পলিটিক্যাল স্টাডিজ ৬৬টি, লোকপ্রশাসন ৬৬, নৃবিজ্ঞান ৬৬, সমাজকর্ম ৬৬, ইংরেজি ৫০টি, বাংলা ৬০টি ।
‘সি’ ইউনিটভুক্ত বিভাগ কয়টি ও আসন কত?
‘সি’ ইউনিটভুক্ত বিভাগ একটি। ব্যবসায় প্রশাসন নামক এই বিভাগে কোটাসহ আসন রয়েছে ৮০টি।
কীভাবে আবেদন করা যাবে?
ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার জানান, ভর্তির আবেদন করা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের https://admission.sust.edu.bd/ এই ওয়েবসাইটে।
‘‘উক্ত লিংকে প্রবেশের পর হোমপেইজে তিনটি ক্যাটাগরি দেখা যাবে। এর মধ্যে গুচ্ছের পরীক্ষার্থীদের জন্য জিএসটি অ্যাপ্লিকেন্ট ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।”
রাশেদ তালুকদার বলেন, ‘‘আর বিশেষ যোগ্যতায় ভর্তির আবেদনকারীদের জন্য ‘নন জিএসটি’ ক্যাটাগরিতে ক্লিক করে যথাযথ শর্ত পূরণ করতে হবে।’’
হোমপেইজে আরেকটি ক্যাটাগরি রয়েছে হেল্পডেস্ক নামে। ভর্তির আবেদন সংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা প্রশ্ন থাকলে সেখান থেকে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
ভর্তির দিনেই ডোপ টেস্ট
গুচ্ছে পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা শাবিতে আবেদনের পর ভর্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীদের তালিকা বা র্যাংকিং প্রকাশ করা হবে। এরপর র্যাংকিং অনুসারে শিক্ষার্থীদেরকে মোবাইল মেসেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দিন তারিখ জানানো হবে। সেই তালিকা ভর্তির ওবেসাইটে যথা সময়ে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তীতে ভর্তির দিন শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হবে।
ভর্তির সময় তাদের ডোপ টেস্ট করা হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সব শিক্ষার্থীকে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ ও ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদেরকে স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনা হবে।
“এবার শিক্ষার্থীরা অল্প টাকায় আবেদন করতে পারবে। ভর্তিচ্ছুরা শুধু ভর্তির দিন আসলেই হবে, ভর্তি প্রক্রিয়ার বাকি কাজগুলো ঘরে বসেই করতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা একবার আবেদন করে সব ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পাবেন,” বলেন উপাচার্য।
