ইনোভেশন ফেয়ারে নজর কাড়ল আইইউবির উদ্ভাবন
আটটি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অংশ নেয় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে সেরা ৫০-এ জায়গা করে নিয়েছে আইইউবির দুটো প্রকল্প।
প্রকল্প দুটি হল আইইউবি৩৬০’র ‘পিক্সো’ এবং গ্রিন এনার্জি রিসার্চ সেন্টারের (জিইআরসি) ‘অ্যাফোর্ডেবল ৬০ভি ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেইন’।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ মেলার আয়োজন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খেলতে খেলতে শিশুরা শিখবে কোডিং এবং রোবোটিক্স। পরিবহন ও কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে দেশীয় তৈরি বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেইন। আবার স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে জানা যাবে, কোন কোন স্কুলের আশপাশে রয়েছে ইটভাটা এবং সেগুলো কতটা দূষণের ঝুঁকিতে।
এমন আটটি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ অংশ নেয় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প জায়গা করে নেয় মেলার সেরা ৫০ উদ্ভাবনের তালিকায়।
মেলা চলাকালে ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেইন প্রকল্পটি দেখতে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রযুক্তিটি সম্পর্কে জানান এবং টেকসই পরিবহন ও কৃষিতে এর সম্ভাব্য ব্যবহার তুলে ধরেন।
আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিম বলেন, “আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা চারপাশের সমস্যাগুলো দেখুক এবং সেগুলোর সমাধান নিয়ে ভাবুক। নতুন কোনো ধারণা এলে সেটি নিয়ে কাজ করুক, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুক এবং সম্ভব হলে বাস্তবে কাজে লাগানোর মত কিছু তৈরি করুক।
“এবারের মেলায় আইইউবির আটটি প্রকল্প ছিল, এর মধ্যে দুটি সেরা ৫০-এ জায়গা পেয়েছে। আমাদের জন্য এটি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। আমরা চাই, আইইউবিতে এ ধরনের কাজ আরও হোক।”
আইইউবির স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার ফর ইনোভেশন জোয়াও ফিয়ালহো বলেন, “উদ্ভাবনের শেষ কথা
হল অর্থবহ পরিবর্তন আনা। আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একটি ধারণা শুধু ধারণা
হয়ে থাকবে না; সেটি তৈরি হবে, পরীক্ষা করা হবে এবং শেষ পর্যন্ত বাস্তব প্রভাব তৈরি করবে।”
সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং আইইউবি ৩৬০’র পরিচালক সাদিয়া বিনতে আলম বলেন, “বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে আমরা যে ধরনের কাজ দেখেছি, সেগুলোকেই আমরা আরও সামনে এগিয়ে নিতে চাই। একটি ভালো প্রকল্প কোনো প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী বা একাডেমিক কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থেমে যাওয়া উচিত নয়।”
পিক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা আইইউবি শিক্ষার্থী ইউসা ইসলাম বলেন, “আমরা শুধু রোবোটিক্স কিট বানাতে চাই না। শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে চাই, যাতে আগামী দিনের চিন্তক, নির্মাতা ও উদ্ভাবক হিসেবে তারা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।”
প্রকল্পটির দলনেতা ও সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবিদ হাসান ফুয়াদ বলেন, গেইম, গল্পভিত্তিক মিশন, ধাঁধা আর টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এনক্রিপশন, পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা ও নিরাপদ যোগাযোগের মত বিষয়গুলো শেখে। তত্ত্ব মুখস্থ না করে তারা খেলতে খেলতেই বিষয়গুলো বুঝতে পারে।
আইইউবির স্টলে আরও ছয়টি প্রকল্প প্রদর্শিত হয়। এসব প্রকল্পে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছেন আইইউবির শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা।
এর মধ্যে ‘কিলনওয়াচ’ স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুলের আশপাশের ইটভাটা
চিহ্নিত করে। এর মাধ্যমে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে একাধিক ইটভাটা রয়েছে, তা জানা যায়।
সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়কে সহজ করে শেখানোর চেষ্টা করেছে ‘ক্রিপ্টোকিউব’।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প যেন প্রদর্শনী বা প্রতিযোগিতাতেই থেমে না যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে এ
বছর ‘ইনোভেশন টু ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’ চালু করেছে আইইউবি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন–আইইউবি ৩৬০-এর উদ্যোগে সমর্থন রয়েছে আইইউবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের। শিক্ষার্থীদের তৈরি উদ্ভাবনী প্রকল্প ও প্রোটোটাইপ বাছাই করে সেগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
মেলায় স্টল ঘুরে দেখেন আইইউবির বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন
এবং উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। এছাড়া আইইউবির জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরাও মেলায় অংশ নেওয়া তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে ছিলেন।
ঢাকার নভোথিয়েটারে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর হয় তিন দিনের এই মেলা।
