২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকসুর আচরণবিধি নিয়ে প্রশাসন ‘উদাসীন’: উমামা

দূরত্ব কমাতে ও যানজট এড়াতে কয়েকটি হলের ভোটকেন্দ্রে পরিবর্তন আনার দাবি জানান ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের এ ভিপি প্রার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2025, 08:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:37 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আচরণবিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘উদাসীনতার’ অভিযোগ তুলেছেন উমামা ফাতেমা। 

'স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য' প্যানেলের এ ভিপি প্রার্থী বলছেন, “আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তারা তা নিচ্ছে না। 

“প্রশাসনের এ ধরনের উদাসীনতার ফলে নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ না নিলে নিজেদের প্যানেলের পক্ষ থেকে ‘পদক্ষেপ’নেওয়া হবে মন্তব্য করে উমামা বলেন, “মিছিল নিয়ে মনোনয়ন ফরম তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছিল নির্বাক।”

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এসে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। 

দূরত্ব কমাতে ও যানজট এড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি হলের ভোটকেন্দ্রে পরিবর্তন আনার দাবিও জানান উমামা।

তিনি বলছেন, শামসুন্নাহার হলের ভোটকেন্দ্র পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটে এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ভোট কেন্দ্র সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হলপাড়ার’ চারটি হলের ভোটকেন্দ্র ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে (এফবিএস) নেওয়ারও দাবি জানান তিনি ।

এর আগে দুপুরে ভোট কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, অমর একুশে ও  ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন কার্জন হল কেন্দ্রে।

জগন্নাথ হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র ও বেগম রোকেয়া হলের জন্য ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র নির্বাচন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবকে ভোট কেন্দ্র বানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

পিলখানার ৪ নম্বর ফটকের কাছাকাছি অবস্থিত ওই দুই হলে ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৭৫৫ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে রয়েছে ২ হাজার ১১০টি এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে রয়েছে ২ হাজার ৬৪৫টি ভোট।

নির্বাচন কমিশন বলছে, এবার সিনেট ভবন কেন্দ্রে স্যার এ এফ রহমান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থীদের ভোট নেওয়া হবে। 

মাস্টারদা সূর্যসেন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, কবি জসীম উদদীন হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে।

ভূতত্ত্ব বিভাগে ভোট দেবেন কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীরা। আর ইউ ল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজকে বানানো হয়েছে শামসুন নাহার হলের ভোটকেন্দ্র।

উমামা ফাতেমা বলছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, হল থেকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনে বাসের ট্রিপ বাড়ানো হবে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ও কুয়েত মৈত্রী হলের মাঝের নীলক্ষেত মোড়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা দেখেছি, সেই মোড়ে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্রগুলো পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি।”

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারির এ  নেতা বলেন, “ছেলেদের হলের ক্ষেত্রেও ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে ‘হলপাড়ার’ হলগুলোর জন্য বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে ভোটকেন্দ্র করার দাবি জানাচ্ছি। এতে করে ভোট পড়ার হার বাড়বে।”

তিনি বলেন, “২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে লক্ষ্য করেছি, ডাকসু নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রশাসন স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে না। হল কার্ড রিনিউ না করলে কেউ ভোট করতে পারে না‌। তখন শিক্ষার্থীদের ইচ্ছা থাকলেও তারা ভোট দিতে পারেন না। তাই ‘সেন্ট্রাল আইডি কার্ড’ দিয়ে ভোট নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, ভোটারদের ভোগান্তি কমানো।”