০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘চাকসুর মেয়াদ ২৮ দিন, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব’: হল ভিপিকে ছাত্রদল নেতার হুমকি

“আমাকে গালি দিলে আমি তখন তাকে হুমকি দিই। আমাকে গালি দেওয়ার জন্য তাকে ভিপি বানানো হয়নি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Sep 2026, 05:08 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে ‘পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

সোমবার রাতে হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে ‘অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগের তদন্ত’ করতে গেলে নাছিম ওই হুমকি দেন বলে রিপুলের ভাষ্য।

তিনি বলেন, “গত ২ দিন আগে আমি দেখি কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হলে আসে এবং বলে সে ৩১৩ নম্বর রুমে উঠেছে। এ নিয়ে আমি গ্রুপে কথা বলি। পরে হাউস টিউটর স্যারসহ আমরা সেখানে যাই। সেখানে একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়।”

রিপুলের অভিযোগ, নাছিম উদ্দিন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব।”

ওই কক্ষ নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এখানে বিশেষ বিবেচনায় সিট দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক রুমে চারটি করে সিট থাকলেও তারা সেখানে পাঁচটি সিট নিয়েছে। আমাদের প্রার্থনা রুম থেকে একটি সিট নিয়ে সেখানে দিয়েছে। এ হলেই সিট বরাদ্দের সময় রুম খালি রেখে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রুম দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে নাছিম উদ্দিন হুমকি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি তাকে বললাম, আমাদের রুম নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিতে পারিস না। তখন সে বলে, এটা তার অধিকার।”

তিনি বলেন, “আমাকে গালি দিলে আমি তখন তাকে হুমকি দিই। আমাকে গালি দেওয়ার জন্য তাকে ভিপি বানানো হয়নি। আমি হুমকি দিয়েছি, তবে আমাকে গালি দেওয়ার পর বলেছি।”

তবে নাছিম উদ্দিনের গালি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রিপুল বলেন, “আমি কক্ষে কাউকে গালি দিইনি।”

ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক মো. নূরে আলম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। কিন্তু রুমে যারা থাকে তারা জানায় অবৈধ কেউ নেই, তারা অতিথি ছিল, ঘোরার জন্য এসেছিল। এরপর কথা-কাটাকাটি হয়।”

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, “একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”