জকসু: ছাত্রদলের এজেন্টের হাতে ‘প্যানেল পরিচিতি’ কাগজ পাওয়ার অভিযোগ ইউটিএলের
“আমার প্রশ্ন এই লিস্টটা নির্বাচনে দায়িত্বরতদের কাছ থেকে প্রার্থীদের কাছে কীভাবে গেল?”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ানের’ এক এজেন্টের হাতে ‘প্যানেল পরিচিতি’ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউটিএল।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচ তলায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক বিলাল হোসাইন।
তিনি বলেন, “কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সকাল থেকে নির্বাচন শুরু হয়েছে। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে।
“তবে শহীদ সাজিদ ভবনের একটি কেন্দ্রে আমি লক্ষ্য করি, একজন এজেন্ট হাতে একটি বড় বই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার বইয়ের অপর পাশে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভোটারদের কপি প্যানেল পরিচিতি কাগজ ছাপানো আছে”।
তিনি বলেন, “আমি বলছি না এটা কে করেছে। আমার প্রশ্ন এই লিস্টটা নির্বাচনে দায়িত্বরতদের কাছ থেকে প্রার্থীদের কাছে কিভাবে গেল? শিক্ষকদের এত পরিশ্রমের ফলে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কিভাবে একজন এজেন্টের কাছে এসব ভোটার লিস্ট সরবরাহ করা হয়।”
এ ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইউটিএলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক বিলাল হোসাইন।
এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা দিয়ে উনি কি বোঝাতে চেয়েছে আমি জানি না। তবে এটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমরা প্রক্টরিয়াল বডির অনুমতি আগেই নিয়েছি। এটা তো আর ভোট কারচুপি না কিংবা ব্যালট না।”
উল্টো অভিযোগ এনে রাকিব বলেন, “শিবির সর্থিত প্যানেলের টোকেন ও প্রচারপত্র পুরো ক্যাম্পাসে ছড়ানো; অথচ এসব টোকেন নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের কোন নিয়ম নেই। এখানে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”
বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার দুই দশক পর প্রথমবারের মত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী (জকসু) সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা একটানা বেলা ৩টা পর্যন্ত চলবে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাড়ে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন শিক্ষার্থীর ভোটে এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদ গঠিত হবে।
জকসুর ২১টি পড়ে জয় পেতে চারটি প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ১৫৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন দুই প্যানেলের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
