০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে রাজুর সরঞ্জাম সরানোর অভিযোগ

ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এ অভিযোগ তুলল তিন বাম সংগঠন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Sep 2026, 12:04 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মইন খান রাজুর সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছে বামপন্থি তিন ছাত্রসংগঠন। 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালের ‘গণজাগরণ’ মঞ্চের আন্দোলনকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগও তুলেছে এসব সংগঠন। 

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এ অভিযোগ উঠল।  

সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের পাদদেশে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও জাসদ ছাত্রলীগ। 

সেখানে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের যে অবদান, সেই অবদানকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। ইতিহাসে তার যে অবদান, সেই অবদানটুকু যোগ্য মর্যাদায় পাবে, সেটিই আমরা প্রত্যাশা করি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য আপনারা দেখেন, টিএসসির সড়ক দ্বীপে টিএসসিতে, তখন মইন হোসেন রাজু তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল ছাত্রনেতৃবৃন্দকে নিয়ে যে মিছিল করেছিলেন, সেই মিছিলে তিনি শহীদ হয়েছিলেন।

“এই সংগ্রহশালায় শহীদ মইন হোসেন রাজুর ব্যবহৃত ব্যাগ, তার রং-তুলি এবং তার যে ডায়েরি ছিল, সেই ডায়েরিতে তার প্রত্যেক দিনের বিভিন্ন ঘটনাবলী তিনি লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন। সেখানে তিনি কবিতা লিখতেন, সেই সকল বিষয় আজকে আমরা এখানে খুঁজে পেলাম না।” 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “স্পষ্ট বলতে চাই যে, পূর্বে এই সংগ্রহশালায় যত ধরনের উপকরণ ছিল, যেসব স্থিরচিত্র ছিল, যেসব ব্যবহার্য ঐতিহাসিক জিনিসপত্র ছিল, সেগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং পূর্বের সংরক্ষিত তালিকা থেকে কোন বিষয়গুলো এখানে যুক্ত হয়েছে এবং কোন বিষয়গুলো এখান থেকে অপসারণ করা হয়েছে, তার তালিকা স্পষ্ট করতে হবে।”

তিনি বলেহ, “ইতিহাসকে বিকৃত করে যে ধরনের নতুন নতুন বিষয় তারা এখানে সংযোজন করেছেন, সেগুলো অতি দ্রুত এখান থেকে অপসারণ করতে হবে। ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেই আন্দোলনকে তারা এক ধরনের মব ভায়োলেন্স বলছেন। কিন্তু কারা আসলে ২৪ সালের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে একটি মবের মল্লুকে পরিণত করেছে, তা আপনারা জানেন।”

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন শিশু হাতকে মুষ্টিবদ্ধ করে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরবগাথা, সেই আন্দোলনের যে শক্তি, সেই শক্তিকে তিনি প্রদর্শন করছিলেন। সেই শিশুকে এখানে টোকাই হিসেবে এই ইসলামী ছাত্রশিবির আখ্যায়িত করেছে। তারা ক্রমাগতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি পরাজিত শক্তি, মহান মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে খর্ব করার মধ্য দিয়ে তারা আসলে সেই যে তাদের যে পরাজয়ের গ্লানি, সেই পরাজয়ের গ্লানি থেকে তারা মুক্তি পেতে চায়।”

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, “আমরা দেখেছি যে, শেখ মুজিবের ছবি এখান থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সেই ইতিহাস আমাদের সহযোদ্ধারা বলেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করার কাজে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন। 

তার ভাষ্য, “যারা এই সত্য, যারা এই সত্যকে মিথ্যা বলে প্রমাণিত করার জন্য ব্যস্ত হয়েছেন, তারা কারা? আমরা যদি দেখি, সেই শেখ মুজিবের ছবি অপসারণ করে কার ছবি করা হলো এখানে, প্রদর্শন করা হলো? মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এবং কোন ছবিটি? সেটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ছবি। যে বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এখানে এসে বলেছিলেন, ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে এই বাংলার একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’।" 

তিনি বলেন, “একটি কথা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ২০১৩ সালে যে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল, সেই গণজাগরণ মঞ্চে আমরা ছিলাম—এ কথা বলতে কোনো দ্বিধা করি না। এই কারণে দ্বিধা করি না, কারণ এই ১৯৭১ সালে আমাদের এই জাতির সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই ঘটনার যারা কুখ্যাত রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস— তাদের বিচার এই মাটি এখনো চাইছে এবং সেই ১৯৭১ সাল থেকেই চেয়ে এসেছে।”

মানববন্ধন শেষে ডাকসু ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।

সেখানে ‘পাকিস্তানের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘জিন্নাহর ছবি কেন, ডাকসু জবাব দে’, ‘জিন্নাহর দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘রাজাকারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা স্লোগান দিয়েছেন।