২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

তরুণরা প্রকৃত নেতৃত্ব প্রদর্শন করছে: ফলকার টুর্ক

টুর্ক বলেন, “তরুণদের যাত্রাপথের সঙ্গী হতে এবং সমর্থন করতে আমরা প্রস্তুত।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Oct 2024, 09:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:49 AM

তরুণদের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের আশা দেখতে পান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফলকার টুর্ক। 

জুলাই-অগাস্টের ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মঙ্গলবার এক মতবিনিময় সভায় 

তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে একটা সত্যের প্রতীক আমি দেখছি, যখন বিশ্বনেতারা তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে, তখন তরুণরা প্রকৃত নেতৃত্ব প্রদর্শন করছেন। 

“সব জায়গায়ই তারা জলবায়ু, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছে। তারা আমাকে ভবিষ্যতের জন্যে আশা জোগায়।”

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই মতবিনিময় সভা হয়।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান স্বাগত বক্তব্য দেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদসহ ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন সভায়। 

ফলকার টুর্ক বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ও অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ করে বলেন, “বাংলাদেশের সামনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি দীর্ঘস্থায়ীভাবে মোকাবিলা করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।"

মানবাধিকারের ওপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কার্যকর করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক, শ্রমজীবী, সমাজকর্মী এবং অন্যান্য মানবাধিকার রক্ষকদের নির্বিঘ্নে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য একটি উন্মুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। বাংলাদেশের তরুণদের সংগ্রামের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।

“তরুণদের যাত্রাপথের সঙ্গী হতে এবং সমর্থন করতে আমরা প্রস্তুত। তথ্য অনুসন্ধান বা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং উত্তরণের প্রক্রিয়াগুলোতে আমরা অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সহায়তা করতে চাই।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত জুলাই-অগাস্টের নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে এই তদন্ত কমিটি জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাত্র আন্দোলনের 'এপি সেন্টার' হিসেবে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “এই আন্দোলনের সমন্বয়কারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে চাই।”

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সম্মান রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'জুলাই বিপ্লব কর্ণার' স্থাপন গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে একাডেমিক সম্মেলন ও কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

এর আগে গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি দেখেন ফলকার টুর্ক।