জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর অধ্যাপক আজম
প্রক্টর নাসির উদ্দিনের অসুস্থতার কারণে এ পরিবর্তন হয়েছে, বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আজম খান।
তিনি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
অধ্যাপক আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সভাপতি।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের ‘অসুস্থতা ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে’ অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আজম খানকে সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে তুলে ধরে অফিস আদেশে বলা হয়েছে, “কাজে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক আজম খান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।”
সোমবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অধ্যাপক নাসির উদ্দিনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিএনপি সরকার গঠনের পর ২৯ মার্চ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হককে সরিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে।
দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মাথায় অসুস্থতা ও চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন প্রক্টর নিয়োগ দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গেল ৪ অগাস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে তিন দফায় সংঘর্ষে জড়ান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ওই সময় প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
প্রক্টরের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রদল ওই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ছাত্রশিবিরের নেতারা।
হামলার দুদিন পর ৬ অগাস্ট জকসুর নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনের কাছে হামলার বিচার দাবিতে নয় দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দেন। সেখানে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
এর ঠিক তিন কার্যদিবসের মাথায় অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সরিয়ে নতুন প্রক্টর নিয়োগ দিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
