২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল বহাল চায় স্পিনিং শিল্প কর্মচারীরা

বন্ড সুবিধা বহাল রাখা হলে দেশীয় স্পিনিং মিল ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি করেছেন তারা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 10:34 PM

Updated : 23 Sep 2026, 10:34 PM

বিদেশ হতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট পর্যন্ত সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি তুলেছে স্পিনিং মিল শিল্পে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি সংগঠন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘স্পিনিং মিল শিল্পে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ’ -এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়।

স্পিনিং খাতে এতদিন ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা পেতেন উদ্যোক্তারা। গত ৭ সেপ্টেম্বরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়।

তবে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের নির্ধারিত শর্তে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সালমা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আজহার আলী বলেন, “দেশে ৫৩০টি স্পিনিং মিল রয়েছে। এসব মিলে মোট স্পিন্ডল সক্ষমতা প্রায় ১৮ কোটি ২১ লাখ। বছরে সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা কমপক্ষে ৪২০ কোটি কেজি।

“২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে ১১৭টি স্পিনিং মিল পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে চালু আছেন ৪১৩টি। সম্পূর্ণ বা আংশিক চালু থাকা এসব মিলের ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৩০ কোটি কেজি।’’

এরবিআরের তথ্য তুলে ধরে আজহার আলী বলেন, “২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০-৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ কোটি ৬০ লাখ কেজি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৬ কোটি কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই অর্থবছরে এ ধরনের সুতা আমদানি প্রায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে।”

বন্ড সুবিধা বহাল রাখা হলে দেশীয় স্পিনিং মিল ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার বাড়লে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়বে। সুতা আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমবে। পাশাপাশি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির সুযোগও কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হল- ১০-৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের আমদানির সুযোগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, শিল্পে বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি বজায় রাখা, শিল্প-ব্যাংকিং-কর্মসংস্থান ও রপ্তানির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সমন্বিত টেক্সটাইল-আরএমজি নীতি গ্রহণ, রিসাইকেল ও টেকসই পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া।