নগদের বোর্ড পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান কাইজার আহমেদ
“চেয়ারম্যান হিসেবে ডাক বিভাগ থেকে চাওয়া হয়েছিল অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহকে,” বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
কাইজার আহমেদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বসিয়ে মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানি— নগদের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নগদে সাত সদস্যের একটি বোর্ড করে দেওয়া হয়েছে। নতুন বোর্ডে চেয়ারম্যান করা হয়েছে এবি ব্যাংকের কাইজার আহমেদ চৌধুরীকে।
“তবে ডাক বিভাগ থেকেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পরিচালনা পর্ষদের একটি তালিকা সুপারিশ করেছিল।”
নগদের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অন্যদের মধ্যে রয়েছেন— মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ, আগের পর্ষদে থাকা পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিম হোসেইন শাওন।
এদের সঙ্গে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক এবং অর্থ বিভাগের ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব পদাধিকার বলে সদস্য হবেন।
কাইজার আহমেদ গত মাসে এবি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেরও চেয়ারম্যান হন। সে হিসাবে, তিনি এখন দুটি কোম্পানিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ডাক বিভাগ থেকে যে সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল, তাতে চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহকে চাওয়া হয়েছিল।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত নগদের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ পুনর্গঠন করল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরেরে সেপ্টম্বরে সরকার পতনের পরের মাসে বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদকে চেয়ারম্যান পদে বসিয়ে গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ।
সেই পর্ষদে ড. মুরশিদের সঙ্গে ছিলেন—ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআইজিডির ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো খন্দকার শাখাওয়াত আলী, পিআরআইয়ের বজলুল হক খন্দকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ও ডাক বিভাগের পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো ফরিদ আহমেদ।
মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানি হিসেবে ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে নগদ। পরে এ এমএফএস কোম্পানিকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২১ অগাস্ট নগদের আগের পর্ষদ ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামানকে প্রশাসক করা হয়।
তিনি প্রশাসক থাকা অবস্থায় নগদে অনিয়মের নানা অভিযোগের মধ্যে কোম্পানিটিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই অভিযানের দিন বদিউজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এর ১৫ দিনের মধ্যে তাকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মো. মোতাছিম বিল্লাহকে নতুন প্রশাসককে দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এরপর প্রশাসক বসানো নিয়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ে নামে মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানিটি।
এর মধ্যে নগদ গত ১৩ মে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলে, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত নগদে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় সিইও হিসেবে যোগ দেন সাফায়েত আলম।
প্রশাসক নিয়োগের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ডাক অধিদপ্তর নগদ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।
এর মধ্যে গত ২ জুন প্রশাসকের কার্যক্রমের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
