ওয়ালটন হাই-টেকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে ওয়ালটন ডিজি-টেক
এর ফলে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বাজার পরিধির সম্প্রসারণ ঘটবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে বলে আশা করছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।
দেশীয় প্রযুক্তি খাতে কৌশলগত এক পদক্ষেপে ওয়ালটন গ্রুপের দুই কোম্পানি এক হচ্ছে। প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানি ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড একীভূত হচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সঙ্গে।
এ বিষয়ে ওয়ালটন গ্রুপের এ দুই কোম্পানির মধ্যে বুধবার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই দিনে ওয়ালটন হাই-টেকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৬তম সভায় তা অনুমোদনও করা হয়েছে।
এখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কৌশলগত এই মার্জার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।
তাতে ওয়ালটন ডিজি-টেকের ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি) ও ইলেকট্রিক বাইকের মত পণ্য যুক্ত হয়ে ওয়ালটন হাই-টেকের পণ্যসম্ভার আরও সমৃদ্ধ হবে।
এর ফলে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বাজার পরিধির সম্প্রসারণ ঘটবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে বলে আশা করছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ওয়ালটনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড বা পিসিবি, ইলেকট্রিক বাইকসহ ১২৩ ধরনের পণ্য ও এক্সেসরিজ উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে।
বাংলাদেশের একমাত্র মোবাইল ফোন এবং প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপন করেছে ওয়ালটন ডিজি-টেক।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওয়ালটন ডিজি-টেকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০ কোটি টাকা, আর নিট রেভিনিউ ছিল ১ হাজার ১৫ কোটি ৯১ লাখ ১৪৬ টাকা। কর পরবর্তী মুনাফা ছিল ১৮ কোটি ১৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৪০ টাকা।
একই সময়ে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০২ কোটি ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩০ টাকা। নিট রেভিনিউ ছিল ৭ হাজার ৫১২ কোটি ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৬ টাকা; কর পরবর্তী মুনাফা ছিল ১৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার ৩২৭ টাকা।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, এলিভেটর, ফ্যান, কেবল, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন, বাজারজাত ও রপ্তানি করে।
এ কোম্পানির চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার মো. জিয়াউল আলম বলেন, “ওয়ালটন ডিজি-টেক দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে গুণগতমানের উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন আইটি পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে চলেছে ওয়ালটন ডিজি-টেক।
"এমন একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়ায় আমি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্য, সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ অগণিত ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”
তিনি বলেন, "এই একীভূতকরণ হলে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসার আরো সম্প্রসারণ ঘটবে। এতে বিনিয়োগকারীগণ আরো বেশি লাভবান হবেন ।"
ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, “শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব ধরনের কমপ্লায়েন্স মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছে ওয়ালটন হাই-টেক। যার ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।
"মৌলভিত্তিসম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হলে ওয়ালটন হাই-টেক আরো সমৃদ্ধ হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা আরো সম্প্রসারিত হবে।"
