মেট্রোরেলে ১৮,০০০ কোটি টাকাসহ ১৯ কেনাকাটার প্রস্তাবে সায়
সারা কেনাকাটায়ও বিশাল অর্থায়ন প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় মেট্রোরেল অবকাঠামো সম্প্রসারণে ৫৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নসহ ১৯ কেনাকাটার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার কমিটির ৪৭তম বৈঠকে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) উন্নয়ন প্রকল্পের (লাইন-১ ও লাইন-৫: উত্তর রুট) বেশ কয়েকটি বড় প্যাকেজসহ অন্যান্য কেনাকাটার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেল
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত লাইন-১ (ডিপো ও মূল লাইন) এর ডিপোর অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণের (প্যাকেজ সিপি-০২) দায়িত্ব পেয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’; এর খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ টাকা।
মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের (প্যাকেজ সিপি-০৬) জন্য ‘নিশিমাতসু-টিপিএল-তোদা জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রামপুরা থেকে নতুন বাজার অংশের কাজ (প্যাকেজ সিপি-০৪) পেয়েছে ‘তোকিউ-এমআইএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’, যার মূল চুক্তি মূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
মেইন লাইনের অন্য অংশের (প্যাকেজ সিপি-০৭) কাজ ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’।
রেললাইন স্থাপন ও বৈদ্যুতিক সুবিধার (প্যাকেজ সিপি-০৯) কাজ ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় ‘এলঅ্যান্ডটি-সুমিটোমো কনসোর্টিয়ামকে’ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রেন পরিচালন সংকেত, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (প্যাকেজ সিপি-১০) বসানোর কাজ ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড’।
লাইন-৫ (উত্তর রুট): হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও নতুন বাজার থেকে ভাটারা অংশ (প্যাকেজ সিপি-০৩) নির্মাণের কাজ ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’।
একই রুটের ডিপো এলাকার কাজের জন্য (প্যাকেজ সিপি-০২) ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সার কেনাকাটায় ব্যয়
কৃষিখাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দেশি-বিদেশি ইউরিয়া: দেশের অভ্যন্তরীণ কারখানা ‘কাফকো’ থেকে তৃতীয় চালানে ৩০ হাজার টন বস্তাজাত ইউরিয়া সার ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় কেনা হবে (প্রতি টন ৪৩৮.১২৫ মার্কিন ডলার)।
সৌদি আরবের ‘সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস’ থেকে ষষ্ঠ চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ফার্টিগ্লোব’ থেকে প্রথম চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
মরক্কো থেকে ডিএপি ও টিএসপি: সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় মরক্কোর ‘ওসিপি নিউট্রিক্রপস’ থেকে দুই চালানে (ষষ্ঠ ও সপ্তম) মোট ৮০ হাজার টন ডিএপি সার প্রতি চালানে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দরে কেনা হচ্ছে।
এছাড়া একই কোম্পানির কাছ থেকে দুই চালানে (অষ্টম ও নবম চালানে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৪০ হাজার টন) টিএসপি সার কেনা হবে, যার দর ধরা হয়েছে প্রতি টন ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।
স্বাস্থ্যসেবা ও ই-জিপি ব্যবস্থার উন্নয়ন
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি: স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনে ‘রেনাটা পিএলসি’ থেকে দুটি আলাদা প্যাকেজে মোট ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার সাইকেল তৃতীয় প্রজন্মের খাবার বড়ি কেনা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
ই-জিপি তদারকি: সরকারি ই-জিপি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও চালুর রাখার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘দোহাটেক নিউ মিডিয়াকে’ ১ বছরের জন্য ৪২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিট বা কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য পড়বে ৪.৬৯৭১ সেন্ট (৫.৭৬৮০ টাকা)।
