অচল সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ নীতিমালার খসড়া
খসড়া নীতিমালাকে ‘কার্যকর, বাস্তবসম্মত, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব’ করতে মতামত নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি যেসব শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে, সেসবের অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনাকে নতুন বিনিয়োগের আওতায় আনতে খসড়া নীতিমালা করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
এসব সম্পদ হস্তান্তর, শেয়ার ও স্বত্ব হস্তান্তর কিংবা কৌশলগত বিক্রির প্রস্তাবিত নীতিমালার ওপর মতামত আহ্বান করা হয়েছে, যা দেওয়া যাবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “রুগ্ণ, অকার্যকর বা বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
খসড়াটি নীতিমালার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, “সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইহাদের অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনা হস্তান্তর, শেয়ার ও স্বত্ব হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয় সংক্রান্ত নীতিমালা”।
চলতি বছর প্রণীত ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইনের ৪৮ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে খসড়া নীতিমালাটি প্রণয়ন করার কথা বলছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের যথাযথ যাচাই ও মূল্যায়ন, উপযুক্ত লেনদেন কাঠামো নির্ধারণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী আকর্ষণ এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারী নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণ ও সম্পদের ন্যায্য অর্থনৈতিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং হস্তান্তর বা বিক্রির পরবর্তী বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া নীতিমালাটি প্রণয়নের আগে গত ১২ জুলাই সরকারি ও বেসরকারি খাত সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। পরে ১৮ অগাস্ট শিল্প মন্ত্রণালয়ের তরফে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তখন পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে প্রযোজ্য ও যৌক্তিক মতামতগুলো যথাসম্ভব খসড়া নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এটিকে আরও ‘কার্যকর, বাস্তবসম্মত, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব’ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি দপ্তর ও সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞসহ অন্যান্য অংশীজনের মতামত চাওয়া হয়েছে।
কোনো মতামত, পর্যবেক্ষণ বা সুপারিশ থাকলে নির্ধারিত ছক অনুসারে বাংলা ভাষায় নিকষ ফন্টে তা লিখে ফেলতে হবে। সই করা মতামতের স্ক্যান কপি এবং সম্পাদনযোগ্য ওয়ার্ড ফাইল আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে info@invest.gov.bd ঠিকানায় পাঠাতে বলেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
ই-মেইলে বিষয়ের ঘরে লিখতে হবে ‘Comments on Strategic_Divestiture Policy’।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত হয়ে গত ২৩ অগাস্ট যাত্রা করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’। এটিই এখন দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা, যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
