ব্যাংকে পুরোনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ বন্ধে আইনের ধারা বাতিলে সায় সংসদীয় কমিটির
এ সংক্রান্ত বিলটি পাস করার জন্য বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তোলা হয়।
সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের শর্তসাপেক্ষে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার সুযোগ রেখে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে যে ধারা রাখা হয়েছে, তা বাতিলে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সায় মিলেছে।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিলটি পাস করার জন্য গেল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তোলা হয়। সেটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করে। সংকটে পড়া ব্যাংক পুনর্গঠন বা একীভূত করার আইনি কাঠামো করা ছিল এর উদ্দেশ্য। অধ্যাদেশে ১৮ক ধারা ছিল না।
পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি আইনে রূপ দেওয়ার সময় ধারাটি যোগ করা হয়। এ ধারায় কিছু শর্ত পূরণ করে রেজল্যুশন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় নেওয়ার আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
ধারাটি নিয়ে সংসদে আপত্তি জানিয়েছিল বিরোধী দল। সংসদের বাইরেও এর সমালোচনা হয়।
গত ১০ অগাস্ট মন্ত্রিসভা ১৮ক ধারা বাতিলের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।
সেই বিল নিয়েই শনিবার বৈঠকে বসে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি সাইফুল আলম খান মিলন।
তিনি বলেন, সংশোধনীর মাধ্যমে ১৮ক ধারা বাতিলের বিষয়ে বিরোধী দলের কোনো আপত্তি নেই। কারণ তারা আগে থেকেই ধারাটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
শুধু ১৮ক ধারা বাতিল নয়, পুরো ব্যাংক রেজল্যুশন আইনও আবার পর্যালোচনা করা দরকার বলে মনে করেন সাইফুল আলম। বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন।
সাইফুল আলমের মতে, একীভূত করা পাঁচটি ব্যাংকের সম্পদ ও দায় আগে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী এ ধরনের একীভূতকরণের আগে স্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের সম্পদ ও দায় মূল্যায়ন করা উচিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে দাবি করেন বিরোধী দলের এই এমপি।
তার মতে, সম্পদ ও দায় ঠিকভাবে মূল্যায়ন না করলে কোন ব্যাংকের সঙ্গে কী একীভূত করা হচ্ছে, সেই চিত্র স্পষ্ট থাকে না। এখনও সুযোগ থাকলে ওই মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন তিনি।
এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
একীভূত হওয়ার আগে এক্সিম ব্যাংকের পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে। অন্য চার ব্যাংকের পর্ষদে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণ ছিল।
এ কারণে পুরনো শেয়ারধারীদের ফিরে আসার সুযোগ রাখা ১৮ক ধারা নিয়ে বিশেষভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
গত ১৬ অগাস্ট পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক একক ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে মূলধনে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
একীভূত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের অর্থের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান জামায়াতের এমপি সাইফুল।
তিনি বলেন, এসব ব্যাংকে সাধারণ মানুষের অর্থ রয়েছে। তার নিজের আত্মীয়-স্বজনের অর্থও রয়েছে। সরকারি দলের লোকজনেরও অর্থ রয়েছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
