০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আমরা এরকমই..এভাবেই ছিলাম, এমনই থাকবো..

জিনিয়া

Published : 06 May 2012, 11:24 AM

Updated : 24 Jun 2022, 12:14 AM

আমি পড়তে পছন্দ করি, আর লেখালেখির মত বিশাল প্রতিভার যেহেতু আমার মধ্যে ঘাটতি আছে, তাই ব্লগ এ যোগদানের পর থেকে টুকটাক কিছু কমেন্ট লিখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু থিসিস লেখার চাপ এ ইদানিং সেটাও সময় করে উঠতে পারছিলাম না। আমার সর্বশেষ কমেন্ট এর পর, খেয়াল করলাম এর মধ্যে দেশ এ কত ঘটনাই না ঘটে গেছে!! সুরঞ্জিত বাবু রাজ্যহীন রাজা, সত্যপ্রকাশ না করে দল এর প্রতি সোহেল সাহেব এর চরম আনুগত্য প্রকাশ , ইলিয়াস সাহেব নিখোঁজ, স্টুয়ার্ট ল এর স্বদেশ এর চাকুরী প্রাপ্তি, জাবি ভিসিকে নিয়ে আন্দোলন, আমাদের আবু সুফিয়ান এর জার্মান জয়, হেভিওয়েটদের বাংলাদেশ ভ্রমণ… কত কী!!! কত কী না ঘটে গেছে এই এক মাস এ। কোনটা ছেড়ে কোন পোস্ট পড়ব..

যাই হোক এসব ঘটনার উপর লেখা অসাধারণ যুক্তিপূর্ণ পোস্ট গুলো পড়তে পড়তে কেন যেন মনে হল বেচারা জাবি ভিসির উপর মারাত্মক অবিচার হতে চলছে । কেমন যেন মায়া উপচে পড়ছিল (!!!)। ভাবছিলাম, সুরঞ্জিত বাবুর মত বেচারা খামাখা পদটা হারাবে। সুরঞ্জিত বাবু যে অপরাধে তার মন্ত্রিত্ব খুইয়েছেন, আমরা কম বেশ সবাই জানি, সেই ছোটখাট অপরাধে আমাদের সব মন্ত্রীরই কম বেশ যুক্ত। ঠিক তেমনি, জাবি ভিসিকে নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠছে, আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় নামক প্রতিষ্ঠান চাকুরী করি, তারা কম বেশি সবাই জানেন যে এই সব অভিযোগ এ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিকে অভিযুক্ত করা যায়। আমরা এসবকে তেমন অপরাধ মনে করি না, দেশ এর মূলধারা রাজনীতি আমরা শিক্ষকরা খুব ভাল করেই জানি, আজ ওনাদের দল খাবে, কাল আমাদের দল ক্ষমতায় আসলে আমরা খাব। আজ ওদের ক্যাডাররা শিক্ষক , প্রশাসন এ গুরত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাইতেছে, মেয়ে বিয়ে করে জামাই কোঠায় নিয়োগ পাইতেছে, ওনাদের বউ, প্রেমিকা, স্বজনরা নিয়োগ পাছে, কুছ পরওয়া নেহি। পাচ বত্সর পর তো আমাদের। পোস্ট নাই!!! তাতে কী? পোস্ট ক্রিয়েট করা কোনও ব্যাপার না। আর সিন্ডিকেট মেম্বারগণ? ওনাদের কয়েকজন এর পিয়ারের স্বজন কে চাকুরী দিলে আর আমার চেয়ার ধরে টান মারে কার সাধ্য? সহজ হিসাব। আমরা তো এসব সহজ সমাধান মেনে ই নিয়েছি।

আমাদের শিক্ষকদের একাংশ সর্বদাই ছাত্রদের রাজনীতির মত মহত কাজ এ জানপ্রাণ লড়ে দেবার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। আর ভবিষৎ চাকুরী প্রার্থীরা তো হঠাৎ করেই রাজনীতির মাঠে এমন সোচ্চার হয়ে ওঠেন, তৈলবিদ হয়ে ওঠেন যে সিন্ডিকেট মেম্বার, পাওয়ারফুল শিক্ষকদের নৈকট্য লাভে বেশি উতলা হয়ে ওঠেন। স্যার এর মেয়েকে বিনা পয়সায় পড়ানো, বাজার করা, পারলে জুতাটাও মুছে দেন। এখন আপনাদের মাঝে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, আমিও কী সেভাবেই চাকুরীটা বাগিয়েছি নাকি? পাঠকগণ, আমার এবং আমাদের মত অবশ্যই অনেক শিক্ষক আছেন, যাদের খুঁটির জোর নাই, কিন্তু প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হবার মত পাপ করায়, আমাদের বাদ দিয়ে কিছুটা দুর্বলদের নেয়ায় বিবেকের দংশনই বলুন কিংবা ওদের কে হালাল করার জন্যই বলুন, আমরা নিয়োগ পেয়েছি। সোনার হরিণটি ধরতে পেরেছি (!!!)।

পাঠকগণ, একটু অনুসন্ধান এ বের হয়ে দেখুন। খোজ নিয়ে দেখুন সব ইউনিভার্সিটিতে একি কালচার। কেউ কার চেয়ে কম নয়। ওনার জন্য আজ যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই সব মামুলি (!) অভিযোগ আপনি ভুরি ভুরি সব ভিসির ডাটা বূক এ পাবেন। বেচারার জন্য আমার খুবই খারাপ লাগছে। জাবি ভিসি আসলে অন্দর বাহির এর ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েই এভাবে নাজেহাল হচ্ছেন। কিন্তু ওনাকে আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই, আপনি নিরাশ হবেন না। ভিসি নামক সামান্য পদ আপনার জন্য না, আপনার দল এর প্রতি সততার কারণে, নিশ্চয় বড় কোনও পুরস্কার আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। যে কোনও দেশ এর রাষ্ট্রদূত, কিংবা পিএস সি র মেম্বার, ইউজিসি'র চেয়ারম্যান..কত কী না আছে। আপনি প্লীজ ধৈর্য হারাবেন না, আর আমি "নির্দোষ", "ষড়যন্ত্রের শিকার" জাতীয় কথাবার্তা চালিয়ে যান। আপনার জন্য অবশ্যই মাননীয় নেত্রী ভাল কিছু ভেবে রেখেছেন। আর একান্তই যদি কিছ না হয়..ইউনিভার্সিটি টিচার এর চাকুরী তো আছেই, তাই না?

আর আমরা যারা লাল, নীল বর্ণিল রঙ এ সজ্জিত, তারাও গবেষণা বাদ দিয়ে হাউস টিউটরশিপ, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতি এসব নিয়ে মেতে থাকবো। কোনও মত একটা পি এইচ ডি বাগিয়ে (না থাকলেও অসুবিধা নাই) এনে আমাদের মহান উত্তরসূরিদের আদর্শে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব। দেশ এর বারোটা বাজলেও আমাদের কোনও যায় আসে না। আমরাই তো কেউ মন্ত্রী হব, পলিসি প্রণেতা, রাষ্ট্রদূত, কাজেই রাজনীতি টা শেখা দরকার সবার আগে। আর বোকার মত যদি সারাদিন ক্লাস নেয়া , গবেষণা, পেপার পাবলিকেশন, সেমিনার নিয়ে মেতে থাকি, তাহলে পেট চলবে কিভাবে বলুন তো? কাজেই আমরা এরকমই..এভাবেই ছিলাম, এমনই থাকবো..