২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

গো.আযম দিয়ে শুরু করা দরকার ছিল

প্রবীর বিধান

Published : 12 Dec 2011, 06:57 PM

Updated : 24 Jun 2022, 12:26 AM

Image
একবার ফাঁসি হয়েছিল তার জনতার আদালতে

কার্যক্রম শুরু করার প্রায় ২ বছরের মাথায় এসে মনে হচ্ছে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার কাজ শুরু করা দরকার ছিল নাটের গুরু গোলাম আযমকে দিয়ে।

কেননা বাকিদের বিরুদ্ধে যেভাবে তদন্ত ও অন্যান্য কার্যক্রম চলছে তাতে করে জামাতি আর বিএনপির লোকেরা সাবধান হবার ও নাশকতামূলক কাজের প্রস্তুতি নেবার সুযোগ পাচ্ছে।

বাধার প্রমান ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে — খালেদা বলেছেন যারা এখন জেলে আছেন অর্থ্যাৎ জামাতের ৫জন আর বিএনপির ২ জন তারা যুদ্ধাপরাধী না, তাদের ছেড়ে দিতে হবে; আর অন্য নেতারা বলছেন ট্রাইব্যুনাল বাতিল করতে হবে, আগে পাকিস্তানীদের বিচার করতে হবে, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে ইত্যাদি।

তাছাড়া শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের পর জামাত গত দেড় বছর যাবৎ যেভাবে হুঙ্কার দিচ্ছে, তাতে টেনশন হয় বৈকি! যেকোন সময় শুরু হয়ে যেতে পারে দাঙ্গা। শুরুটা মনে হয় করবে জামাতি জঙ্গীরা, পরে সে দলে যোগ দেবে সাধারন সদস্যরা, আর শেষে আসবে তাদের রাজনৈতিক বন্ধু বিএনপিরা–কেননা জামাতিরা জেতার মত সামর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়েই নামবে অ্যাঁর সরকারে যাবার লোভে যোগ দেবে বিএনপি ও অন্যান্য সমমনা দলগুলো।

সেরকম একটা অপচেষ্টা দমনে আমাদের এখন থেকেই সাবধান ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সোমবার গো আযমের বিরুদ্ধে আনিত ৫২টি অভিযোগের মধ্যে আছে- জামাতের আমির হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় গো আযম রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটির প্রধান ছিল। ২৫-শে মার্চের ভয়াল হামলার আগে গো আযম পাকিস্তানি মিলিটারির নেতাদের সাথে সাক্ষাত করেছে এমনকি সেই হামলার পর প্রশংসা জানাতে জানোয়ার ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানের সাথে দেখা করছে।

এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে এবং সাক্ষ্য নিচ্ছে। তাছাড়া নিজামী, মুজাহিদ আর কামারুজ্জমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে রোববার, আর কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে জমা দিতে হবে ১ সপ্তাহের মধ্যে। বাকি থাকলো সাকা চৌধুরী আর জিয়া সরকারের মন্ত্রী আলীম।

সরকার বলছে অভিযোগের ভিত্তিতে আরেকটা ট্রাইব্যুনাল করা হবে কেননা আরো অনেক যুদ্ধাপরাধী আছে দেশে।

তবে এই বিচারকাজ যেন কোনমতেই "রাজনৈতিক প্রতিহিংসা"র কারনে না হয়।