২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নোবেল পুরস্কার ও অং সান সু চি বনাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিতাই বাবু

Published : 15 Sep 2017, 01:22 PM

Updated : 23 Jun 2022, 11:14 PM

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার। এই দেশটি কোনও একসময় ব্রহ্মদেশ বা বার্মা নামেও বিশ্বের কাছে পরিচিত ছিল। বর্তমান নাম মিয়ানমা, যা বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এই মিয়ানমারের একটা প্রদেশের নাম আরাকান, যা আমাদের সবাইর জানা। এই প্রদেশের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা মিয়ানমার-সহ বিশ্বের কাছে রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। এই আরাকান প্রদেশে ২০০ বছর ধরে চলে আসছে, বৌদ্ধ-মুসলিমদের মধ্যে জাতিগত বিরোধ। এই বিরোধ সময়-সময় রূপ নেয় এক ভয়াবহতা ও জ্বালাময়ী রূপ।

এর ফলে শুরু হয় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও গণহত্যা। তারা নির্বিচারে চালায় গুলি, পুড়ে দেয় ঘরবাড়ি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নতুন করে শুরু করে দেয় দমন-পীড়ন ও গণহত্যা। তাদের অত্যাচারে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। এর আগেও রাখাইন রাজ্যে বহুবার এমন দমন-পীড়ন হয়েছিল। সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে বহু রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মোট সংখ্যা এখন ৭ লাখেরও বেশি। তা বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থা এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী। আমি সেই বিষয়ে কিছু লেখছি না, লিখতে পারবোও না। আমি আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদারতা, সাহসিকতা, যোগ্যতা ও প্রাপ্যতা নিয়ে কিছু লিখতে চাই।

গত ২৪ আগস্ট ২০১৭ থেকে যখন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আসতে শুরু করলো, তখন বিশ্ব ছিল শঙ্কিত। অনেক দেশ নিলো মায়ানমারের পক্ষ, নামমাত্র কয়েকটা দেশ ছিল এর বিরোধী। আপনি করুণাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাড়িয়ে দিলেন মানবতার হাত। ঘোষণা দিয়ে বললেন, "আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। সেখানে আরও ৭ লাখ মানুষকেও খেতে দিতে পারবো।" এ এক যুগান্তকারী ঘোষণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এমন দৃষ্টান্ত বিশ্বে এটাই প্রথম ও বিরল। ধন্যবাদ বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতার সুযোগ্য কন্যা, করুণাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

করুণাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে নিয়ে গর্বিত_আনন্দিত। আপনি গত ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে যেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে সারাবিশ্ব আপনাকে নিয়ে হতবাক। চলছে আপনাকে নিয়ে গবেষণা ও তরজমা। সত্যি আপনি মহা-মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এরমধ্যে আসতে শুরু করেছে আপনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করার ঘোষণা।

জানা যায়, অক্সপিসের দুজন শিক্ষাবিদ, ড. লিজ কারমাইকেল এবং ড. অ্যান্ড্রু গোসলার। তাদের মতে, 'এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারটি বালাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পাওনা।' যেহেতু এই পুরস্কারটি দেওয়া হয় মানবতার শান্তির জন্য। তারা মনে করেন, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন, তা সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের বেঁচে থাকার বার্তা। পৃথিবীর বহু দেশ যখন শরণার্থী নিয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিল, কীভাবে এই সমস্যা মসমাধান করতে হয়।'

তারা আপনাকে মানবিক বিশ্বের নেত্রী হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন, করুণাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনাকে আবারও ধন্যবাদ, আমরা গর্বিত আপনাকে নিয়ে।

আরও জানা যায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড ডিভাইনিটি স্কুলের, ডিন ডেভিড এন হেম্পটন মনে করেন, "রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তির নতুন মাত্রা দিয়েছে। কেবল শান্তির স্বার্থে দেশটি চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছে।" তার মতে, 'এতগুলো শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য মানবিক হৃদয় লাগে। যা জার্মানি যা করতে পারেনি, শেখ হাসিনা তা করে দেখিয়েছেন।'

আপনাকে শান্তির দূত হিসেবে মন্তব্যকারী আরও আছেন। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইন ক্যানবেরার অধীনে পরিচালিত, পিস অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট। এই ইন্সটিটিউটের প্রধান ড. হেনরিক উরডাল মনে করেন, 'বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকেই বিশ্ব শান্তির নেতার মর্যাদা দেয়া উচিত। সত্যিকার অর্থেই যদি শান্তিতে অবদানের জন্য কোনো পুরস্কার থাকে, তা হলে সে পুরস্কার পাবার একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি হলেন শেখ হাসিনা।'

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস স্টাডিজ বিভাগের তিন অধ্যাপক যৌথভাবে আপনাকে বিশ্ব শান্তির দূত হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন। তারা হলেন, ড. অলডো সিভিকো, ড. দীপালী মুখোপাধ্যায় এবং ড. জুডিথ ম্যাটলফ। তারা তিনজন যৌথভাবে বলেছেন, "নোবেল শান্তি জয়ী অংসান সু চি আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যক্রম পাশাপাশি মূল্যায়ন করলেই বোঝা যায় বিশ্ব শান্তির নেতা কে।"

তাদের মতে, 'অংসান সু চি মানবতার চরম সীমা লঙ্ঘনকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। বার্মার সামরিক বাহিনীদের রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো পৈশাচিকতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি নিয়েও তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন।" তারা মনে করেন, 'শেখ হাসিনা শান্তির নতুন বার্তা দিয়েছেন গোটা বিশ্বকে।'

আবার অনেকেই মনে করেন,'শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি মিয়ানমারে শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তার নোবেল তিনি আর রক্ষা করতে পারবেন না।' লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় সেই শান্তির নোবেল এখন শেখ হাসিনার প্রাপ্য। মানবতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে দাবি করেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে আগামিতে প্রধানমন্ত্রীকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিকতা এবং শান্তির অনন্য নজির স্থাপনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করার প্রস্তাব করেছেন, বিশ্বের খ্যাতিমান চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদরা। বিশ্ব থেকে আসা এমন প্রশংসনীয় সংবাদে আমরা আনন্দিত। তাই আপনাকে বারবার ধন্যবাদ জানাতে ইচ্ছে করে করুণাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা দমন অভিযান চালাচ্ছে, ২৪ আগস্ট থেকে। যা না-কি চলবে বিরামহীনভাবে। যে-পর্যন্ত না সন্ত্রাসীদের দমন করতে না পারে। চালাচ্ছে দমন অভিযান, মরছে নিরীহ মানুষ। এর আগেও বিভিন্ন সময় দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসেন আরও অন্তত ৪ লাখ রোহিঙ্গা। এবারে তাদের সাথে যোগ হলো আরও ৩ লাখ, মোট সংখ্যা হলো ৭ লাখ। যা বাংলাদেশের মতো ছোট একটা দেশের অর্থনীতির জন্য তা বিরাট কিছু। তবুও মানবার চেয়ে তা একেবারেই নুন্যতম, তা মিয়ানমার-সহ সারাবিশ্বকে আপনি বুঝিয়ে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন শান্তিতে নোবেল পাওয়া, অং সান সু চিকে – এই বলে যে, শান্তিতে পুরস্কৃত হয়ে অশান্তির রানী সেজে বসে আছেন।

পরিশেষে আমরা দেশবাসী আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গলকামনা করি। সেই সাথে এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারটি আপনার হাতে উঠুক সেই আশাও ব্যক্ত করছি। আবারও আপনাকে দেশবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা অভিনন্দন। দীর্ঘজীবী হোন করুণাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জয় হোক আপনার, জয় হোক বাংলার মেহনতি মানুষের।