০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

স্মৃতির পাতায় স্কুলজীবন…

রিফাত কান্তি সেন

Published : 05 Sep 2017, 01:29 PM

Updated : 23 Jun 2022, 11:15 PM

.
শরতের পড়ন্ত দুপুর, মেঘাছন্ন আকাশ সবই যেনো প্রকৃতির অপরুপ খেলা। তার উপর ব্যস্ততার এই জীবনে সকল বন্ধুদের সাথে সাক্ষাত, অনেকটাই অকল্পনীয়। ব্যস্ততার এ জীবেনে অনেকেই ভুলে যান তার বাল্যকাল, বিশেষ করে স্কুল জীবনটাকে।

গত ২ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও এর রেশ কাটেনি। ঈদ এলেই মিলন মেলায় পরিণত হয় বন্ধুদের সাথে সাক্ষাতের দিন-ক্ষনটা।

বলছিলাম কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এসএসসি ব্যাচের মিলন মেলার গল্পটা। ঈদ উপলক্ষে তারা মিলন মেলার আয়োজন করে। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি। গত কয়েকদিন যাবৎ ২০১৬ এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী শর্মিতা মিত্র এর মুখে শুনে আসছিলাম তারা একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করতে চায়। তারই ধারাবাহিকতায় তারা ঈদের পরদিন অনুষ্ঠানটি করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষককে আমনন্ত্রণ জানানো হয়, সাথে ঐ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

প্রধান শিক্ষক সমরেন্দ্র মিত্র, সহ- প্রধান মোজাম্মেল হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক মিজানুর রহমান, পংকজ শর্মা, হারুনুর রশিদ, অশোক সিংহ রায়, বাকী বিল্লাহ, আবুল হোসেন, নাছিমা সাথে আমিও ছিলাম। আরো ছিলো দপ্তরী ইউসুফ হোসেন।

স্কুলটিতে ২০১৬ সালের ঐ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একদিনের জন্য একটি ক্লাস নেয়ার সুযোগ হয় আমার। জানি না তাদের মনে আছে কি না! পুনর্মিলনীতে শরতের দুপুরে তাদের সাথে কাটানো সময়টা ছিলো বেশ আনন্দদায়ক। স্মৃতির পাতায় তারা খুঁজে বেড়িয়েছে তাদের স্কুল জীবনের নানা স্মৃতিময় ঘটনা।

আসলে স্মৃতি সর্বদা মানুষের মনে কড়া নেড়ে যায় প্রতিনিয়ত। আমরা হয়তো ব্যস্ততার জীবনে খুব কম সময়ই স্মৃতিকে স্মরণে রাখতে চাই। অনেক সময় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও স্মৃতিময় স্থানগুলোতে যেতে না পারার যে কি আক্ষেপ তা বলে বুঝানো যাবে না। তখন হৃদয়ের মণিকোঠায় বিষাদের ঘনঘটা লক্ষ্য করা যায়। স্কুল জীবনটা সত্যি আনন্দময়। স্কুল পালানো, স্কুলে খেলাধুলা, স্যরদের বকা-মার খাওয়া, রেজাল্ট শিটে নিজে নাম্বার লিখে স্কুলে জমা্ দেয়া, ক্লাস পালিয়ে নদী তীরে ঘুরে আসা, অনেক সময় অভিভাবকের সাক্ষর নিজে জাল করে দেয়া সহ কত যে স্মৃতিময় ঘটনা।

আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমি আর আমার বন্ধু কাউসার কত যে স্কুল পালিয়ে নদী তীরে ঘুরতে গিয়েছি। এরপর স্কুলের ছুটির ঘন্টা দিলেই ব্যাট-বল হাতে মাঠে নেমে পড়া। দাপিয়ে বেড়ানো গ্রামের মাঠগুলো। বিশেষ করে শীতে ক্রিকেট, বর্ষায় ফুটবল নিয়ে ব্যস্থ থাকতাম আমরা স্কুলের বন্ধুরা। আর এ ব্যাপারটা ভাল দেখতো আল-আমিন তার উপর টাইটেল নেম- (প্রিন্স হিরা)।

আসলে ওদের পুনর্মিলনী দেখে আমার স্মৃতিময় স্কুল জীবনের বন্ধুদের কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। যদিও হোসেন এখনো আমার সহকর্মী হিসেবে উক্ত স্কুলে পার্টটাইম চাকরি করছে। তবু অন্য সবার কথা খুব মনে পড়ছিলো। যদিও আমার সাথে অনেকেরই যোগযোগ আছে, তবে সেটা ভার্চুয়াল।স্কুল জীবনটা আমাদের কেটেছিলো আনন্দ আর উল্লাসে। এখনকার শিশুরা তো বই নিয়েই বেশী সময় পার করে। আর করবেই না কেনো, দু'দিন পরপর পরীক্ষা নামক যন্ত্র হাজির। এর উপর আবার বইয়ের বোঝা। এদের স্কুল জীবনের গল্পটা তাই বই-পুস্তক শিক্ষার মাঝেই ছিলো সীমাবব্ধ।

আধুনিকতার মারপ্যাঁচে অনেক কিছুই পাল্টেছে। যেমন ধরুন স্কুল জীবনে শিক্ষকদের প্রতি আমাদের যে শ্রদ্ধাবোধ ছিলো আজ তা অনেকটাই শূণ্যের কোটায়। অবশ্য বিষয়টিতে শিক্ষার্থীদের আমি দোষ দিচ্ছি না; দোষটা সমাজ ব্যবস্থার। এখন শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে সার্টিফিকেট এর জন্য; সুশিক্ষা গ্রহণের জন্য নয়। অনেকটা প্রবাদ বাক্য "ছেড়ে দে মা,কেঁদে বাঁচি"। পাস করতে পারলেই যেনো সব অর্জন হয়ে যায়। আবার কেউ, কেউ চায় এ প্লাস।


যাইহোক স্কুল জীবনটা আসলেই অনেক আনন্দের একটা জীবন। এখানে পড়ালেখা আর খেলাধুলা ছাড়া কোন টেনশন নেই। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, মাঝেমাঝে গালা-গালি, হাসি-খেলায় পরিপূর্ণ এক স্মৃতি বিজড়িত সুখের জীবন। স্কুল জীবনকে মিস করে না এমন লোক সমাজে খুব কমই আছে। তাই অনেকেই বিশেষ অনুষ্ঠানে সকল বন্ধুদের একত্র করতে চান।

বন্ধু ছাড়া জীবনটা বৃথা তখনই বুঝা যায়; যখন বন্ধুটি অনেক দূরে চলে যায়। বন্ধু মানেই খুনসুটি, ঝগড়া-বিভেদ, হাসি-ঠাট্টা আবার অভিমানে মুখ লুকানো। দিন শেষে আবার বলা- দোস্ত সরি, ভুল হইয়া গেছে এই যে কানে ধরছি আর তোরে চেতামু না। বিশ্বের সকল বন্ধুত্ত টিকে থাক, এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: রিফাত কান্তি সেন
পার্টটাইম শিক্ষক: কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়
সহ-সম্পাদক: কড়ৈতলী শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম
নাগরিক সাংবাদিক।