০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

গণভিত্তি না থাকলে এমন হয়

মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

Published : 07 Apr 2016, 08:04 PM

Updated : 23 Jun 2022, 11:27 PM

অনেকে আশা করেছিল যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনীতির পালে গণতান্ত্রিক হাওয়া লাগবে। কিন্তু সে আশা ক্রমে নিরাশায় পরিণত হচ্ছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনে বিএনপির অভিযোগ ছাড়াও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। সরকারের 'গুরুত্বপূর্ণ' পার্টনার এরশাদের জাতীয় পার্টি ও রাশেদ খান মেননের ওর্য়াকাস পার্টিও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনের মতো দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও সহিংসতা, বুথ দখল ও সিল মারার যে উৎসব মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে এবং জাতি দেখেছে তাতে অনেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করার, এমনটি প্রতিরোধ করার 'ঘোষণা'কেও যৌক্তিক মনে করছে।

হাস্যকর ব্যাপার হলো, দশম নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় সরকার ইচ্ছা করলে সুষ্ঠু নির্বাচন করে জাতিকে বুঝাতে পারত যে, আমাদের অধিনে নির্বাচনও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। কিন্তু সরকার তা না করে বরং ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে ১৫৩ তারা দখল করে নিল কোনো প্রতিদ্বন্ধিতা ও নির্বাচন ছাড়াই। বাকি ১৪৭ আসনের নির্বাচনও দেশ-বিদেশে কঠোর সমালোচনার শিকার হলো।

উপজেলা নির্বাচনেরও প্রথম দুই ধাপ বিএনপি পক্ষে চলে যাওয়ায় সরকার লাজ-শরমের মাথা খেয়ে বাকিগুলোতে তাদের 'যোগ্যতা'র প্রমাণ পেশ করে নিয়ে নিল।

এরপর তিন সিটি নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনেও জাতি একই 'যোগ্যতা' দেখতে পেল। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও আগের 'যোগ্যতা'র বলে প্রথম দুই ধাপে মহা 'সাফল্য' ঘরে তুলতে সক্ষম হলো।

বাকিগুলোতেও সরকার একই পথে হাটবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। অবস্থাদৃষ্টে অনেকে মনে করছেন জনগণের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও গণভিত্তি না থাকলেই কেবল কোনো সরকার সবকিছু জেনেশুনে এরকম দুর্নামের বোঝা নিজের ঘাড়ে নিতে পারে।