বিএফএসএর অভিযান: সাত দিনে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দণ্ড, ১১ মামলা
“সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছি,” বলেন বিএফএসএ চেয়ারম্যান।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে গত এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দণ্ড আদায় এবং ১১টি মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে রোববার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময়ে ঢাকা মহানগরীতে সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।
নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, অননুমোদিতভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পোকামাকড় দমনের প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা দণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
ঢাকার বাইরে ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা দণ্ড দেওয়া হয়। ছয়টির বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে।
এসব জেলায় লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, ক্রয়ের চালান না থাকা, খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে পোকামাকড়ের উপস্থিতি এবং নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরির প্রমাণ পান বিএফএসএ প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের ‘মৌচাক বেকারি’তে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় বেকারিটিকে ২ লাখ টাকা দণ্ড দেওয়া হয়।
অর্থদণ্ড অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে সারাদেশে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নিয়মিত তদারকি, আইনানুযোগ ব্যবস্থা, মোবাইল কোর্ট ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
“খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।”
