অস্ত্র পরীক্ষার সময় ‘অসাবধানতায়’ বেরোনো গুলিতে আহত ২ পুলিশ
গুলি ইয়াসিনের হাতের তালু ভেদ করে পাশে বসে থাকা আলামিনের বুকের বাম পাশে লেগে বেরিয়ে যায়।
অস্ত্র পরীক্ষার সময় অসবাধানতায় বেরিয়ে যাওয়া গুলিতে আহত হয়েছেন দারুসসালাম থানার দুই পুলিশ সদস্য।
সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে মিরপুর পুলিশ লাইনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন দারুসসালাম থানার এএসআই মো. আলামিন (৩০) ও ইয়াসিন আলী (২৮)।
ইয়াসিন হাতের তালুতে ও আলামিন বুকের একপাশে গুলি লেগেছে।
ঘটনার পরপর ইয়াসিনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ও আলামিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আলামিনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা দারুসসালাম থানার এসআই রন্জু মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছুদিন ধরে থানা বন্ধ থাকার পর আজ আমরা মিরপুর-১৪ পুলিশ লাইন্সে গিয়েছিলাম থানার জামা দেওয়া অস্ত্রগুলো আনার জন্য। সেখানে ইয়াসিন পিস্তলে ম্যাগজিন ঢুকিয়ে পরিক্ষা করছিলেন।
“তবে আগে থেকেই পিস্তলের চেম্বারে একটি গুলি ছিল, যা ইয়াসিন বুঝতে পারেননি। অসাবধানতাবশত সেই গুলি বেরিয়ে ইয়াসিনের হাতের তালু ভেদ করে পাশে বসে থাকা আলামিনের বুকের বাম পাশে লেগে বেরিয়ে যায়।”
তিনি বলেন, এএসআই ইয়াসিন আলীকে মিরপুর-১৪ নাম্বারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর গুরুতর আহত এএসআই আলামিনকে ঢাকা মেডিকেলে আনার পর তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
ছাত্র-জনতার তুমুল গণবিক্ষোভের চাপে ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লে একের পর এক ঢাকার থানাগুলোতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার খবর আসতে থাকে। এরপর থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় দেশের পুলিশি ব্যবস্থা। একরকম পালিয়ে থাকা পুলিশ সদস্যরা কাজে ফিরতে ১১ দফা দাবিও জানান।
এদিকে বেঁধে দেওয়া সময়ে কাজে ফিরতে কড়া নির্দেশনা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
এরপর রোববার রাতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে দাবি পূরণের আশ্বাসে আল্টিমেটাম ভেঙে কাজে ফিরতে রাজি হন পুলিশ সদস্যরা।
সোমবার বিভিন্ন থানায় যোগ দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নেমেছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাও।
