দুর্নীতির কারণে কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে: কৃষি উপদেষ্টা
“দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না; দুর্নীতিবাজের জন্য কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না,” বলেন তিনি।
মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু শ্রেণির জন্য কৃষক সঠিক দাম পায় না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, “যে আন্দোলন হয়েছে তা শুধু কোটাবিরোধী আন্দোলন নয়; এটা দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আন্দোলন।
“দুর্নীতিকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কোনো দুর্নীতিবাজের জন্য কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। মূলত কৃষকেরা দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত হচ্ছে।”
সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থা প্রধানদের সঙ্গে বুধবার মতবিনিময় করেন কৃষি উপদেষ্টা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।
কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এজন্য গুণগত বীজ সরবরাহ করতে হবে। যে বীজ কৃষকের কাছে যায়, সেগুলো যেন গুণগত মানসম্পন্ন হয়। বীজের মান ভালো না হলে ফসল ভালো হবে না।
“সারের কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু কৃষকের কাছে সারটা যেন সময়মত পৌঁছে যায়, এটা নিশ্চিত করতে হবে। সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে হবে।”
কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে কৃষকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা জানান এ উপদেষ্টা।
মতবিনিয়মকালে তিনি বলেন, “দেশে যদি কোনো বিপ্লব করে থাকে, তাহলে সেটা কৃষি মন্ত্রণালয় করেছে। সাড়ে ৭ কোটি লোকের খাদ্য যে জমি দিয়ে উৎপাদন হত, সে জমির পরিমাণ কমে গেলেও কিন্তু সাড়ে ১৭ কোটি লোকের খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। এ কৃতিত্ব কৃষি সংশ্লিষ্ট সবার।”
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থেকে কৃষকদের সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন কৃষি উপদেষ্টা।
কৃষি সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
