বিএনপি ‘বট বাহিনী’ চালায় না: সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী
“আমরা সংবাদ, স্বাধীনতা বিশ্বাস করি বলেই আমরা হস্তক্ষেপ করব না,” বলেন তিনি।
জাতীয় সংসদ বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর একজন সদস্যের প্রশ্নে জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি ‘বট বাহিনী’ পরিচালনা করে না।
তিনি বলেন, ‘বট বাহিনী’ অসত্য তথ্য প্রচার করলে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের আওতায় আসবে।
বুধবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি ফ্যাক্ট চেকিং ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।
তিনি সরকারি ফ্যাক্ট চেকিংকে ‘ফ্যাক্ট চেকের বদলে গভর্নমেন্ট চেক’ বলে মন্তব্য করেন।
রাশেদুল ইসলাম বলেন, গত ছয় মাসে বিএনপিকে নিয়ে ৬০টি, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ১২টি এবং এনসিপিকে নিয়ে চারটি ফ্যাক্ট চেক করা হয়েছে।
কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানই যদি কোনো বক্তব্যকে মিথ্যা বা অপপ্রচার হিসেবে চিহ্নিত করার বিচারক হয়, তাহলে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার ও বিরোধী দলের বক্তব্য একই মানদণ্ডে যাচাই করবে এমন স্বাধীন ব্যবস্থা করা হবে কি না, তা জানতে চান তিনি।
ফ্যাক্ট চেকের প্রমাণ ও উৎস প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আপিলের সুযোগ রাখার বিষয়েও সরকারের অবস্থান জানতে চান এ সংসদ সদস্য।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বট বাহিনী’ অসত্য তথ্য ছড়ালে সেগুলো ফ্যাক্ট চেকের আওতায় আসবে।
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো ‘বট বাহিনী’ চালায় না। বট বাহিনী যদি অসত্য তথ্য সমানে প্রচার করে সেটা তো ফ্যাক্ট চেকিংয়ের আওতায় আসবে।
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো বট বাহিনী চালায় না, যার জন্য বিএনপির ছয় মাসে ৬০টি এবং অন্যান্য দলের যেটি তথ্য দিয়েছেন, যেহেতু বিএনপি এসব বট বাহিনী পরিচালনা করে না সে জন্য অন্যান্য দলের সংখ্যাটা মনে হয় কম।”
তিনি দাবি করেন, সরকারের ফ্যাক্ট চেকিং নিরপেক্ষভাবেই করা হচ্ছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যাক্ট চেক করার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়ার কথাও বলেন ইয়াসের খান।
তথ্য অধিদপ্তর বা পিআইডির মাধ্যমে ইতোমধ্যে সমন্বিত ফ্যাক্ট চেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে বলে সংসদকে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি প্রশ্নের উত্তর দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন
সম্পূরক প্রশ্ন করতে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদে একদিন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ভোট না দিতে বলেছিলেন স্পিকার। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংবাদগুলো সেই সংবাদ সরিয়ে নেয়।
তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে নিয়ে ডেইলি ওয়াদা সংবাদ প্রকাশ করলে সেই সংবাদটিও ওই মিডিয়া সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি চ্যানেল ওয়ানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে একটা বড় প্রতিবেদন করলে, সেই চ্যানেল ওয়ানের ওই প্রতিবেদনটি সাইবার অ্যাটাকের শিকার হয় এবং অনেকদিন এই প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়নি।”
সরকার বা সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর এমন ঘটনা ঘটায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে নোয়াখালী-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য জানতে চান, সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ‘গলা চিপে ধরছে’ কি না?
জবাবে ইয়াসের খান বলেন, “অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গণমাধ্যম এখন যেই স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতাটা আছে, অতীতে যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা তারা ভোগ করছেন।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশে গণমাধ্যমকে আমরা কোনো রকম কন্ট্রোল করতে চাচ্ছি না, করছিও না।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সংবাদমাধ্যম স্বাধীন, তারা কোন নিউজ আপলোড করবেন, কোন নিউজ ডাউনলোড করবেন, কোন নিউজ ছাপাবেন বা ছাপাবেন না এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।
“আমরা এ বিষয়ে কোনো, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করি না।
তিনি বলেন, “কেউ যদি কোনো সংবাদ পরিবেশনের পর বুঝতে পারেন যে সংবাদটা সঠিক নয়, বা সংবাদটা পরিবেশন করা উচিত নয়, সেক্ষেত্রে তারা অবশ্যই খবরটা সরিয়ে নিতে পারেন। সে বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করি না।
ইয়াসের খান বলেন, “আমরা সংবাদ, স্বাধীনতা বিশ্বাস করি বলেই আমরা হস্তক্ষেপ করব না।”
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন সাংবাদিকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী রয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের কোনো কোনো ফটোকার্ডেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দেওয়া হয়।
জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবে থাকা স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, “যে কোনো ব্যক্তি তার রাজনৈতিক দর্শন থাকতে পারে, আদর্শ থাকতে পারে। তবে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা করি।”
অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় কাজ করছে, বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সুলতানা জেসমিনের মূল প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকতার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ এবং প্রেস কাউন্সিলের অধীনে পেশাগত নিবন্ধনের বিধান করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে প্রেস কাউন্সিল সংশোধন আইন, ২০২৬-এর খসড়ায়।
তিনি বলেন, বার কাউন্সিলের আদলে সাংবাদিকদের নিবন্ধনের এ ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত অনলাইন সংবাদকে প্রেস কাউন্সিলের আওতায় আনার বিষয়টি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে ছাপা সংবাদ নিয়ে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা গেলেও সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে একইভাবে অভিযোগ করার সুযোগ নেই।
সংসদে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টায় তার বিরুদ্ধে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রেস কাউন্সিলকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ চলছে। অনলাইন সংবাদকে প্রেস কাউন্সিলের আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
