চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: স্বামীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন
প্রত্যাহারের কারণ জানতে চাইলে বাদী বলেন, “নো কমেন্টস; অপেক্ষা করেন; ১৮ অগাস্ট জানতে পারবেন।''
ঢাকা ধানমন্ডিতে চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে চান বাদী।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন মশিউর রহমান শাহ। তিনি ধীপ্রার আত্মীয় পরিচয়ে মামলাটি করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার বাদীপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফরহাদ হোসেন নিয়ন বলেন, "বাদী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এটা তার উপর নির্ভর করে। মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে সাধারণত ধার্য তারিখে শুনানি হয়। আগামী ১৮ অগাস্ট এ বিষয়ে শুনানি হবে।"
মামলা প্রত্যাহারের কারণ জানতে চাইলে মশিউর রহমান বলেন, "নো কমেন্টস। অপেক্ষা করেন। ১৮ অগাস্ট জানতে পারবেন।''
অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগে গত ১৬ জুন এ মামলা হয়।
এতে ধীপ্রার স্বামী রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা ও স্যাটায়ার ওয়েবসাইট ইয়ার্কির সম্পাদক শিমু নাসেরসহ ‘অজ্ঞাতনামা’ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়। আদালত অভিযোগ তদন্তে সিআইডি নির্দেশ দেয়।
মামলায় বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই ধীপ্রা ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’ শিকার হচ্ছিলেন।
“এর ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। সন্তান জন্মদানের পর পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।”
বাদীর অভিযোগ, “চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করেন। পাশাপাশি এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে তিনি পোস্ট করেছিলেন।”
আর্জিতে বলা হয়, “গত ২ জুন থেকে টানা তিন দিন ডা. ধীপ্রাকে একটি কক্ষে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাকে খাবার দেওয়া হয়নি এবং দুই বছর বয়সী সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। ৪ জুন খবর পেয়ে তার মা ধানমন্ডির বসতী গ্রীন আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে মেয়েকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
“পরে কক্ষ থেকে বের হয়ে চিকিৎসক ধীপ্রা তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব’। এরপরই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত কাছের কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং বিলম্বের পর বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”
ধীপ্রার মৃত্যুর পর ঘটনাটি ‘ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই’ একটি ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয় এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল।
