২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় সংসদে প্রশ্ন, ‘সাংবিধানিক পথের’ কথা বলল সরকারি দল

সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষায়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশটি “না অধ্যাদেশ, না আইন”, ফলে এর সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েই “প্রশ্ন আছে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Mar 2026, 02:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:10 PM

সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন এখনো না ডাকায় জাতীয় সংসদে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। 

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতিকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন না, রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকতে পারেন না। 

এ নিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, নোটিস পেলে তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন।

রোববার বেলা ১১টায় সংসদের বৈঠক শুরুর পরপরই অনির্ধারিত আলোচনার জন্য দাঁড়ান শফিকুর রহমান। তিনি তখনই বিষয়টি তুলতে চাইলে স্পিকার তাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর ফ্লোর দেওয়ার কথা বলেন।

প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ফ্লোর পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এ সংসদ “স্বাভাবিকভাবে তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি”; ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি হওয়া রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন এবং তারা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ চান।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুরুতে প্রশ্ন তোলেন, কোন বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতাকে এ বিষয়ে ফ্লোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূলতবি প্রস্তাব বা সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য বিধিতে আলাদা নোটিসের কথা আছে।

এরপর মূল বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, কিন্তু সংবিধান পরিবর্তনের মত বিষয় অধ্যাদেশে আনা যায় না। 

তার ভাষায়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশটি “না অধ্যাদেশ, না আইন”, ফলে এর সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েই “প্রশ্ন আছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন এবং ভাষণও দিয়েছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই বলে প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতিকে এর অধিবেশন ডাকতে লিখিত পরামর্শ দিতে পারেন না। আর রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকতে পারেন না বলে তিনি তা করেননি।

“গণভোটের রায়কে সরকার অস্বীকার করছে না। তবে সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। সংবিধানে বিষয়টি ধারণ করার পরই পরবর্তী ধাপে পরিষদের প্রশ্ন আসতে পারে।”

তার ভাষায়, “জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না, রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে।”

তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দরজা যে সরকার পুরোপুরি বন্ধ করছে না, সেই ইঙ্গিত দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করে কখন সংবিধান সংশোধনের জন্য বিল আনা যেতে পারে, তা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকার জুলাই জাতীয় সনদকে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সম্মান করে এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবের পর স্পিকার বলেন, “অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উত্থাপিত হয়েছে, কিন্তু এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন দ্য স্পট সলিউশন দেওয়া যায় না।”

তিনি শফিকুর রহমানকে নোটিস দিতে বলেন এবং জানান, তা পাওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিতরা শপথ নেন। সে দিন বিএনপির এমপিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিপরীতে জামায়াত জোটের এমপিরা দুটো শপথ নেন। 

গত ২ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হলে “জাতীয় সংসদে আলোচনা ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে” যেতে হবে। তিনি তখনও বলেন, সংবিধানে এ নামে কিছু না থাকলেও যারা এ পরিচয়ে শপথ নিয়েছেন, সেটা তাদের বিষয়।

শনিবার কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সরকারপক্ষের ইঙ্গিত ছিল, বিষয়টি কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে নয়, সংসদের ফ্লোরেই উঠতে পারে। 

রোববার শফিকুর রহমান সংসদের শুরুতেই বিষয়টি তোলায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ কক্ষে ঢুকে পড়ল।