২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার উদ্যোগ

আইন না থাকায় বর্তমানে এ ফাউন্ডেশন চলছে গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jun 2023, 10:10 PM

Updated : 11 Jun 2023, 10:10 PM

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীনবনমান উন্নয়নে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে যাচ্ছে সরকার।

সেই লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইনের খসড়া সোমবার নীতগত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনের কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে সকাল ১০টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকের সূচি রয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নতুন আইন পাস হলে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে সেই আইনের অধীনে আনা হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের জন্য যতগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর জনবল থেকে শুরু করে সবকিছু আইনি কাঠামোতে আনা হবে। প্রতিবন্ধীরাও এর সুফল পাবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ১৬ নভেম্বর জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে। আইন না থাকায় গঠনতন্ত্রের আলোকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, “যেহেতু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা, পুনর্বাসন ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে তাদের প্রতি বিশেষ অধিকার বিবেচনা প্রদানের অপরিহার্যতা বিশেষভাবে অনুভূত হয়েছে, সেজ্যন বিশেষ বিধান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।”

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষাসহ তাদের অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ, সুরক্ষা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পূর্ণ অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে নতুন আইন করা হচ্ছে বলে খসড়ায় জানানো হয়েছে।

নতুন আইন পাস হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা দেওয়ার জন্য তাদের চিহ্নিত ও শনাক্তকরণের জরিপ পরিচালনা, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের থেরাপি ‍ও পুনর্বাসনের সুবিধা দেওয়া এবং প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন, প্রতিবন্ধীদের সেবা ও উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ কার্যক্রম গ্রহণ, প্রতিবন্ধীদের দারিদ্র্য কমাতে আর্থিক অনুদান দেওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বিনামূল্যে সহায়ক উপকরণ সরবরাহসহ প্রয়োজনে সহয়ক উপকরণের কারখানা স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খসড়ায় বলা হয়েছে।

ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে জানিয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনে দেশের যে কোনো স্থানে ফাউন্ডেশনের শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

“সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন দিয়ে গঠিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন বহাল থাকবে, যেন এটি এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

খসড়া অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিচালনায় একটি বোর্ড থাকবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। বোর্ডকে প্রতি ছয় মাসে কমপক্ষে একটি সভা করতে হবে। এই ফাউন্ডেশন সরকারের অনুমতি নিয়ে ঋণ নিতে পারবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন আইন হলে আমরা অনেক সুবিধা পাব। কারণ গঠনতন্ত্র দিয়ে এখন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চলছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, প্রত্যেক জায়গায় আইনি কাঠামো থাকতে হবে। আইনি কাঠামো না থাকলে চাকরি নিয়মিতকরণ, বেতন কাঠামো ঠিক করা যায় না, এজন্য নতুন আইন করা হচ্ছে।”

নতুন আইন প্রণীত হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সুবিধা পাবেন জানিয়ে সচিব বলেন, “ছোটমণি নিবাসের মত নিবাসে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য রাখা হয়। কিন্তু সেখানে যারা প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবা দেন, তাদের চাকরির ঠিক-ঠিকানা নেই। আমাদের শতাধিক প্রতিবন্ধী সাহায্যকেন্দ্র রয়েছে। সেখানে যারা কাজ করেন, তারা থোক বরাদ্দ থেকে বেতন পান। নতুন আইন হওয়ার পরে এদের চাকরিও আইনি কাঠামোর মধ্যে আসবে।

“নতুন আইন হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়োগ বিধিমালা করা হবে। সেই বিধিমালা অনুযায়ী সবাইকে সরকারি বেতন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।”

দেশে এখন ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে থেরাপিউটিক, কাউন্সেলিং ও রেফারেল সেবা এবং সহায়ক উপকরণ দেওয়া হচ্ছে।