ব্র্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: উপদেষ্টা জাহেদ
“ব্রিকসের সদস্য হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে, আমরা আরো বিচার বিবেচনা করব।”
আগামী মাসে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লিতে যোগ দেবেন কি না তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তার তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
এক প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “আমরা তো ব্রিকসের সদস্য নই। আমাদেরকে পর্যবেক্ষক হিসেবে ইনভাইট করা হয়েছে। সরকারের পর্যায়ে সিদ্ধান্ত আসবে প্রধানমন্ত্রী যাবেন কি না।
“গেলে তো কারো কারো সাথে বৈঠক করার সুযোগ থাকে। সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সেই অর্থে এটা নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু বলে আমার জানা নেই।”
মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হবে। ১১ সদস্য দেশের এই সম্মেলনে বাইরের বিভিন্ন দেশকে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারে আয়োজক দেশ।
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হতে চায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত স্পেসিফিকলি কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে যায়নি। বহুপাক্ষিক যত জায়গা আছে, সবকিছুতেই চিন্তা আছে কানেক্টেড হওয়ার।
“এক সময়ে এক সরকার পালিয়েছে, তারাও চিন্তা করেছে ব্রিকসের সদস্য হওয়ার। এটা এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে, আমরা আরো বিচার বিবেচনা করব। জনগণের স্বার্থের পক্ষে যায়— যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।”
২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়।
এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয় দুই তরফেই।
ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ওই সময় ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তার হাতে ওই আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।
তবে ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসাবে তার প্রথম সফরের জন্য চীন বা ভারতকে বাদ দিয়ে মালয়েশিয়ায় যান।
তবে কুয়ালালামপুরের সঙ্গে বেইজিংকেও সফরসূচিতে রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। জুন মাসে সেই সফর থেকে তিনি ফেরার পরপরই সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়।
এর মধ্যে চলতি জুলাই মাসে দিল্লিতে বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম।
সম্পর্কে বরফ গলানোর উদ্যোগের মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকা মিশনের প্রধান করে পাঠিয়েছে দিল্লি। ভারতে বাংলাদেশ মিশন প্রধান পদেও আসন্ন পরিবর্তনের খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঢাকা ও দিল্লির দূরত্ব ঘোচানোর ‘কূটনীতিতে’ দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবেন বলে মনে করছে দিল্লি।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসাবে ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসাও চালু করেছে ভারত।
