২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ঝালমুড়ি থেকে ফুচকার দোকান, সবই বসছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মানুষের ঢল, টোল ছাড়াই বেপরোয়া চলছে যানবাহন, সড়কে উঠছে রিকশা-ভ্যানও।

ঝালমুড়ি থেকে ফুচকার দোকান, সবই বসছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মানুষ ও যানবাহনের ঢল নেমেছে; যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2024, 11:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:11 AM

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মহাখালী র‍্যাম্পের কাছে খেলছিল ছোট্ট আয়ান ও মারজান। হঠাৎ আয়ান দৌড় দিলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাইক গতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পড়ে যায় সড়কে। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান বাইকচালক ও শিশুটি।

ঘটনাস্থলে এক বাদাম বিক্রেতা বললেন, সোমবার সন্ধ্যায়ও একই জায়গায় আরেক বাইকচালক দুর্ঘটনার পড়ে রক্তাক্ত হন।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচল করলেও দুদিন ধরে সেখানে ঢল নামছে মানুষের। হাওয়াই মিঠাই, চান-পান-সিগারেট, ঝালমুড়ি আর ফুচকার দোকানও বসে গেছে এক্সপ্রেসওয়েতে।

বিকাল হলেই এক্সপ্রেসওয়ের দিকে ছুটছে মানুষ। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সড়কের মাঝে বসে পড়ে আড্ডা দিচ্ছেন তারা।

কেউ হাঁটছেন, ছবি তুলছেন, গল্প করছেন। মানুষের ভিড়ের মধ্যেই দ্রুতগতিতে দিগ্বিদিক ছুটছে শতশত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস-ট্রাক এমনকি রিকশাও। এসব যানবাহনগুলোকে দিতে হচ্ছে না টোলও।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই নিয়ন্ত্রিত এক্সপ্রেসওয়েতে চলছে এমন অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। যেকোনো সময়ে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

এক্সপ্রেসওয়েতে মঙ্গলবার বিকালে বাদাম বিক্রি করছিলেন শফিকুল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সন্ধ্যার পর এক্সপ্রেসওয়েতে গতকাল (সোমবার) ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।”

মঙ্গলবার দুপুরে বিজয় সরণি র‍্যাম্প দিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতেই টোল প্লাজার সামনে দুজন ইউনিফর্ম পরিহিত দুজনকে দেখা গেল। তাদের একজন সাব্বির নিজেকে ‘টোল প্লাজার লোক’ পরিচয় দিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "আমরা গতকালকে (সোমবার) প্রবেশপথ বন্ধ করে দিছিলাম। কিন্তু কয়েকজন বাইকার আইস্যা বলে, দেশ স্বাধীন করছি। এটা বন্ধ করো ক্যান? পরে আর বাধা দেই নাই।

“শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকেই লোকজন অবাধে এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ শুরু করেছে। গতকাল (সোমবার) বিকালে পুরো এক্সপ্রেসওয়েতে মানুষের ঢল নামছিল। চটপটি, ফুচকার দোকানও ছিল।”

মঙ্গলবার বিকালে এক্সপ্রেসওয়েতে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবে মেতেছে মানুষ। সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ হলেও বেপরোয়া গতিতে চলছে শত শত বাইক।

মহাখালী র‍্যাম্প দিয়ে হেঁটে এক্সপ্রেসওয়েতে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস ভূইয়া। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "আমিও ঘুরতে আইছি। কিন্তু আমি মনে করি, এটা এখন বন্ধ রাখা উচিত। যেভাবে বাইক চালাইতেছে, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক বেশি।"

কোনো কোনো বাইক চলতে দেখা যায় চারজনকে নিয়ে। বনানী র‍্যাম্পের কাছে একটি ভ্যানে দেখা যায় ১০ জনের মত তরুণ-তরুণী ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, গলা ছেড়ে গান গাইছিলেন।

পুরো এক্সপ্রেসওয়ে জুড়েই মানুষের উপস্থিতি। ছোট শিশুদের নিয়ে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা। শিশুরা সড়কে খেলছে, সড়কের মাঝে গিয়ে অনেকে ছবি তুলছেন, কেউ সড়কে বসে খাওয়া-দাওয়া করছেন। এর মধ্যেই দ্রুতগতিতে ছুটছে যানবাহন।