অস্ত্র মামলা: সুব্রতসহ ৪ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল
আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।
ঢাকার হাতিরঝিল থানার অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে মো. ফাতেহ আলী এবং তার তিন সহযোগীর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ এর বিচারক সাইফুর রহমান মজুমদারের আদালতে মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করেনি কর্তৃপক্ষ। এজন্য শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর রাখা হয়েছে।
অপর তিন আসামি হলেন- সুব্রত বাইনের তিন সহযোগী আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ, এম এ এস শরীফ ও আরাফাত ইবনে নাসির।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মাহফুজ হাসান বলেন, “সুব্রত বাইনসহ চার আসামির অভিযোগ গঠনের দিন আজ ধার্য ছিল। আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। আগামি ১৫ অক্টোবর পরবর্তী দিন ধার্য করে আসামিদের আদালতে হাজির করতে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ জারি করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এদিন সুব্রত বাইন এবং মোল্লা মাসুদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করি। আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।”
গত ২৭ মে ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে কুষ্টিয়া থেকে শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুব্রত বাইনের দুই সহযোগী শ্যুটার আরাফাত ও শরীফকে।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩টি গুলি এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধারের কথা জানায় সেনাবাহিনী।
এ ঘটনায় ২৮ মে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন হাতিরঝিল থানার এস আই আসাদুজ্জামান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসামি সুব্রত বাইন ও তার সহযোগী মোল্লা মাসুদসহ ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করে এবং তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। তারা সন্ত্রাসী বাহিনী সেভেন স্টার গ্রুপ পরিচালনা করতো।
মামলা বলা হয়, সুব্রত বাইন তৎকালীন সময়ে খুন-ডাকাতি সংঘটনের মধ্য দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করেন। পরে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। ৫ অগাস্টের পর সে দেশে প্রবেশ করে পুনরায় খুন, চাঁদাবাজি শুরু করে। তার সহযোগী আসামি এস এম শরীফের হাতিরঝিলের একটি বাড়িতে তারা নিয়মিত মিটিং করেন এবং সেখানে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলি অপরাধ সংগঠনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি রাখা আছে বলে তথ্য পায় পুলিশ। পরে হাতিরঝিল থানাধীন নতুন রাস্তা এলাকা হতে একইদিন বিকাল অনুমান ৩টার দিকে আসামি এম এ এস শরীফ ও আসামি মো. আরাফাত ইবনে নাসিরকে আটক করা হয়।
গত ১৩ জুলাই চারজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
